ঢাকা ০৮:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারত সফরের পরিকল্পনা বাতিল করলেন ট্রাম্প : নিউইয়র্ক টাইমস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের শেষ দিকে ভারত সফরে আসার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাতিল করেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৭ জুন ট্রাম্প ফোনালাপে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জানিয়েছিলেন, তিনি বছরের শেষ দিকে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য কোয়াড সম্মেলনে যোগ দেবেন। কিন্তু পরবর্তীতে এই সফরের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পরদিনই কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক আয়োজন করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। সেখানেই ভারতের মাটিতে কোয়াড শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়।

কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কে অস্বস্তিকর অবনতি ঘটেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছিলেন যে তিনি গত মে মাসে ভারত–পাকিস্তানের চার দিনের সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতা করেছেন। পাকিস্তান এ দাবি মেনে নিলেও ভারত তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে। এমনকি ১৭ জুন মোদির সঙ্গে ফোনালাপেও ট্রাম্প তার মধ্যস্থতার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন, যা মোদিকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।

আলোচিত ওই ফোনালাপের আগে জুন মাসেই কানাডায় জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প ও মোদির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ট্রাম্প আগেভাগে দেশ ত্যাগ করায় সেটি আর হয়নি। নির্ধারিত বৈঠক না হওয়ায় বিকল্প হিসেবে ওই ৩৫ মিনিটের ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হলেও সম্পর্ক মেরামত না হয়ে বরং আরও তিক্ত হয়ে ওঠে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ভারতের পণ্যে অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককেও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। এই সবকটি কারণ মিলিয়েই দুই নেতার সম্পর্ক এবং দুই দেশের কূটনৈতিক পরিবেশ ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছে।

ট্যাগস

ভারত সফরের পরিকল্পনা বাতিল করলেন ট্রাম্প : নিউইয়র্ক টাইমস

আপডেট সময় ১১:১৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের শেষ দিকে ভারত সফরে আসার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাতিল করেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৭ জুন ট্রাম্প ফোনালাপে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জানিয়েছিলেন, তিনি বছরের শেষ দিকে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য কোয়াড সম্মেলনে যোগ দেবেন। কিন্তু পরবর্তীতে এই সফরের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পরদিনই কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক আয়োজন করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। সেখানেই ভারতের মাটিতে কোয়াড শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়।

কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কে অস্বস্তিকর অবনতি ঘটেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছিলেন যে তিনি গত মে মাসে ভারত–পাকিস্তানের চার দিনের সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতা করেছেন। পাকিস্তান এ দাবি মেনে নিলেও ভারত তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে। এমনকি ১৭ জুন মোদির সঙ্গে ফোনালাপেও ট্রাম্প তার মধ্যস্থতার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন, যা মোদিকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।

আলোচিত ওই ফোনালাপের আগে জুন মাসেই কানাডায় জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প ও মোদির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ট্রাম্প আগেভাগে দেশ ত্যাগ করায় সেটি আর হয়নি। নির্ধারিত বৈঠক না হওয়ায় বিকল্প হিসেবে ওই ৩৫ মিনিটের ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হলেও সম্পর্ক মেরামত না হয়ে বরং আরও তিক্ত হয়ে ওঠে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ভারতের পণ্যে অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককেও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। এই সবকটি কারণ মিলিয়েই দুই নেতার সম্পর্ক এবং দুই দেশের কূটনৈতিক পরিবেশ ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছে।