ঢাকা ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন, ছয় মাস পর উদ্ধার

আটক রহিদুল কে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়

বিয়ের প্রলোভনে পালিয়ে নিয়ে যাওয়ার ছয় মাস পর ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধারসহ অভিযুক্ত রহিদুল ওরফে রশিদুল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে সাভার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্ত রহিদুল নওগাঁ সদর উপজেলার শিকারপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

মামলা ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই তরুণীর বাড়ি জেলার মহাদেবপুর উপজেলায় শিবরাম পুর গ্রামে। নওগাঁ শহরে থেকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে কাজ করতেন তিনি। ২০২২ সালের ২১ আগস্টে ক্লিনিকে যাওয়ার পথে ওই তরুণী নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে কোথাও পায়নি। পরে ২২ সেপ্টেম্বর সদর থানায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে তরুণীর সহকর্মী রহিদুল, ফারুক ও রশিদের নামে মামলা করেন। মামলার পর বিষয়টি বিভিন্নভাবে তদন্ত করা হয়।

মামলা তদন্তাধীন থাকাকালে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানায় এক অজ্ঞাতপরিচয় ৩০ বছর বয়সী নারীর অর্ধগলিত মরদেহ পাওয়া যায়। যার এক হাত কাটা ছিল। ভুক্তভোগীর বাবা মরদেহের পোশাক দেখে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেন সেটি তার মেয়ের মরদেহ। তবে মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় প্রাপ্ত অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহের কাটা হাতটি অনেক আগে স্বাভাবিক সার্জারির মাধ্যমে কাটা ছিল। পরবর্তীকালে মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পরে নওগাঁর পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রাশিদুল হক জেলা গোয়েন্দা শাখাকে বিষয়টির রহস্য উন্মোচনের নির্দেশনা দেয়। তারা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারেন ভুক্তভোগী বেঁচে আছে এবং তারা ঢাকায় অবস্থান করছেন। অবশেষে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে মঙ্গলবার রাতে সাভার থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে অভিযুক্ত রহিদুলকে গ্রেফতার করা হয়।

নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসমত আলী বলেন, সদর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার গাজীপুর ও সাভার এলাকায় ২৪ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে সাভার থেকে রহিদুলকে গ্রেফতার করা হয়। বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ওই তরুণীকে নিয়ে সে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগীকে তার পরিবারের সদস্যের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নওগাঁ সদর থানার ওসি ফয়সাল বিন আহসান বলেন, রহিদুলের সংসার ও সন্তান আছে। তারপরও বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ওই তরুণীকে নিয়ে পালিয়ে ঢাকায় গিয়ে সংসার করছিল। গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার রহিদুলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ট্যাগস

আলিশান চাল, নওগাঁ

বিজ্ঞাপন দিন

বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন, ছয় মাস পর উদ্ধার

আপডেট সময় ০৬:০৬:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

বিয়ের প্রলোভনে পালিয়ে নিয়ে যাওয়ার ছয় মাস পর ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধারসহ অভিযুক্ত রহিদুল ওরফে রশিদুল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে সাভার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্ত রহিদুল নওগাঁ সদর উপজেলার শিকারপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

মামলা ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই তরুণীর বাড়ি জেলার মহাদেবপুর উপজেলায় শিবরাম পুর গ্রামে। নওগাঁ শহরে থেকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে কাজ করতেন তিনি। ২০২২ সালের ২১ আগস্টে ক্লিনিকে যাওয়ার পথে ওই তরুণী নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে কোথাও পায়নি। পরে ২২ সেপ্টেম্বর সদর থানায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে তরুণীর সহকর্মী রহিদুল, ফারুক ও রশিদের নামে মামলা করেন। মামলার পর বিষয়টি বিভিন্নভাবে তদন্ত করা হয়।

মামলা তদন্তাধীন থাকাকালে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানায় এক অজ্ঞাতপরিচয় ৩০ বছর বয়সী নারীর অর্ধগলিত মরদেহ পাওয়া যায়। যার এক হাত কাটা ছিল। ভুক্তভোগীর বাবা মরদেহের পোশাক দেখে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেন সেটি তার মেয়ের মরদেহ। তবে মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় প্রাপ্ত অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহের কাটা হাতটি অনেক আগে স্বাভাবিক সার্জারির মাধ্যমে কাটা ছিল। পরবর্তীকালে মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পরে নওগাঁর পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রাশিদুল হক জেলা গোয়েন্দা শাখাকে বিষয়টির রহস্য উন্মোচনের নির্দেশনা দেয়। তারা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারেন ভুক্তভোগী বেঁচে আছে এবং তারা ঢাকায় অবস্থান করছেন। অবশেষে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে মঙ্গলবার রাতে সাভার থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে অভিযুক্ত রহিদুলকে গ্রেফতার করা হয়।

নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসমত আলী বলেন, সদর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার গাজীপুর ও সাভার এলাকায় ২৪ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে সাভার থেকে রহিদুলকে গ্রেফতার করা হয়। বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ওই তরুণীকে নিয়ে সে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগীকে তার পরিবারের সদস্যের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নওগাঁ সদর থানার ওসি ফয়সাল বিন আহসান বলেন, রহিদুলের সংসার ও সন্তান আছে। তারপরও বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ওই তরুণীকে নিয়ে পালিয়ে ঢাকায় গিয়ে সংসার করছিল। গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার রহিদুলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।