ঢাকা ০৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ :
Logo নওগাঁর আত্রাইয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা ভাঙচুর হত্যা চেষ্টার অভিযোগ   Logo হবিগঞ্জে ছাত্রদল সভাপতিসহ ১’শ জনকে আসামি করে মামলা, ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার Logo চুয়েটে পুকুরে গোসল করতে নেমে শিক্ষার্থীর মৃত্যু Logo দুবাই পাঠানোর নামে জাল ভিসা দিয়ে নওগাঁয় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ Logo রাষ্ট্রপতি হওয়ার খবর গুজব, বললেন মির্জা ফখরুল Logo নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে আবু বকর-বেলাল Logo নওগাঁয় মাদকের টাকা না পেয়ে  পিতাকে খুন করলো ছেলে Logo নওগাঁয় সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রীকে অপহরণ ৩ সপ্তাহে হয়নি উদ্ধার Logo নওগাঁয় আদালতের নির্দেশে কবর ১০ মাস পর শিশুর লাশ উত্তোলন Logo নওগাঁয় ক্লাসরুমের ছাদ ধসে ৭ শিক্ষার্থী আহত

নওগাঁয় বৃদ্ধি পাচ্ছে ড্রাগন ফলের চাষ

ড্রাগন ফলের বাগান

স্টাফ রিপোর্টার ,নওগাঁঃ  অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন বিদেশী ফল ড্রাগন বর্তমানে নওগাঁর রাণীনগরে বিভিন্ন বাগানে উৎপাদিত হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রয় হচ্ছে।

অত্যন্ত লাভজনক এই বিদেশী ফলের বাগানের পরিসর দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুখরোচক, রসালো, ক্যান্সার ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের উপকারী ড্রাগন ফল চাষে ঝুঁকছেন উপজেলার কৃষকরা।

ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় এই ফল অত্যন্ত জনপ্রিয়। যে কেউ এই ফলের বাগান তৈরি করতে পারেন। বাংলাদেশে এই বিদেশী ফল চাষে উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছেন কৃষি বিভাগ।

একটি ড্রাগন ফলের গাছ ২৫ থেকে ৩০বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে এবং বছরে ৬মাস ফল দেয়। সাধারণত মে মাসে গাছে ফল ধরতে শুরু-

করে এবং ৩৫ দিনের মধ্যেই এই ফল খাওয়ার উপযোগী হয়। উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে এই ফল বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করাও সম্ভব।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলার ৪.৫হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফলের বাগান তৈরি করা হয়েছে। উদ্বুদ্ধ কৃষকদের কৃষি অফিস ড্রাগনের চারা থেকে শুরু করে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে।

জমিতে বার বার একই ফসল চাষ করার অভ্যাস থেকে কৃষকদের ফিরিয়ে এনে অধিক লাভজনক ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি অফিস কাজ করে আসছে।

এই ফসলগুলো চাষ করলে একদিকে কৃষকরা যেমন কম খরচে ও কম পরিশ্রমে অধিক লাভ করতে পারেন অপরদিকে জমির উর্বরতা শক্তিও বৃদ্ধি পায়।

উপজেলার অনেক তরুণরা পড়ালেখার পাশাপাশি বর্তমানে এই লাভজনক ড্রাগন ফল চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়নের রঞ্জনিয়া গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা মো. নাইস জানান, পড়ালেখা শেষ করে চাকরী নামক সোনার হরিণের পেছনে-

না দৌড়ে নিজেই কিছু করার প্রত্যয় থেকে আজ আমি প্রায় ৯বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের বাগান তৈরি করেছি। ড্রাগন চাষ করে আমি বর্তমানে অনেক লাভবান হয়েছি।

অনেক মানুষ আজ আমার বাগানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। তবে দেশে ড্রাগন ফলের বাজার এখনোও সেভাবে গড়ে ওঠেনি।

তবে সরকার যদি এই ফলটি বিদেশে রপ্তানি করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তাহলে আগামীতে ড্রাগন ফল চাষিরা আরো অনেক লাভবান হবেন।

বর্তমানে প্রতি কেজি ড্রাগন ৪০০-৪৫০টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আগামীতে আমি এই বাগানের পরিসর আরোও বৃদ্ধি করবো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম জানান, ২০১২সাল থেকে উপজেলাতে ড্রাগন ফল চাষের নীরব বিপ্লব শুরু হয়।

এখন ড্রাগন উপজেলার কৃষকদের কাছে একটি লাভজনক ফলের নাম। প্রতিদিনই কৃষকরা কৃষি অফিসে এসে ড্রাগন ফল সম্পর্কে জেনে যাচ্ছেন।

এছাড়াও এই বাগান তৈরিতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চারা সরবরাহ থেকে শুরু করে সরকারি ভাবে সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

এছাড়াও বাগান মালিকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান ও খোঁজখবর রাখছি। আশা রাখি একদিন দেশের মধ্যে রাণীনগর উপজেলা ড্রাগন ফল চাষে দৃষ্টান্তর স্থাপন করবে।

ট্যাগস

নওগাঁর আত্রাইয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা ভাঙচুর হত্যা চেষ্টার অভিযোগ  

নওগাঁয় বৃদ্ধি পাচ্ছে ড্রাগন ফলের চাষ

আপডেট সময় ০৭:১০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ,নওগাঁঃ  অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন বিদেশী ফল ড্রাগন বর্তমানে নওগাঁর রাণীনগরে বিভিন্ন বাগানে উৎপাদিত হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রয় হচ্ছে।

অত্যন্ত লাভজনক এই বিদেশী ফলের বাগানের পরিসর দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুখরোচক, রসালো, ক্যান্সার ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের উপকারী ড্রাগন ফল চাষে ঝুঁকছেন উপজেলার কৃষকরা।

ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় এই ফল অত্যন্ত জনপ্রিয়। যে কেউ এই ফলের বাগান তৈরি করতে পারেন। বাংলাদেশে এই বিদেশী ফল চাষে উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছেন কৃষি বিভাগ।

একটি ড্রাগন ফলের গাছ ২৫ থেকে ৩০বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে এবং বছরে ৬মাস ফল দেয়। সাধারণত মে মাসে গাছে ফল ধরতে শুরু-

করে এবং ৩৫ দিনের মধ্যেই এই ফল খাওয়ার উপযোগী হয়। উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে এই ফল বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করাও সম্ভব।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলার ৪.৫হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফলের বাগান তৈরি করা হয়েছে। উদ্বুদ্ধ কৃষকদের কৃষি অফিস ড্রাগনের চারা থেকে শুরু করে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে।

জমিতে বার বার একই ফসল চাষ করার অভ্যাস থেকে কৃষকদের ফিরিয়ে এনে অধিক লাভজনক ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি অফিস কাজ করে আসছে।

এই ফসলগুলো চাষ করলে একদিকে কৃষকরা যেমন কম খরচে ও কম পরিশ্রমে অধিক লাভ করতে পারেন অপরদিকে জমির উর্বরতা শক্তিও বৃদ্ধি পায়।

উপজেলার অনেক তরুণরা পড়ালেখার পাশাপাশি বর্তমানে এই লাভজনক ড্রাগন ফল চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়নের রঞ্জনিয়া গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা মো. নাইস জানান, পড়ালেখা শেষ করে চাকরী নামক সোনার হরিণের পেছনে-

না দৌড়ে নিজেই কিছু করার প্রত্যয় থেকে আজ আমি প্রায় ৯বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের বাগান তৈরি করেছি। ড্রাগন চাষ করে আমি বর্তমানে অনেক লাভবান হয়েছি।

অনেক মানুষ আজ আমার বাগানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। তবে দেশে ড্রাগন ফলের বাজার এখনোও সেভাবে গড়ে ওঠেনি।

তবে সরকার যদি এই ফলটি বিদেশে রপ্তানি করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তাহলে আগামীতে ড্রাগন ফল চাষিরা আরো অনেক লাভবান হবেন।

বর্তমানে প্রতি কেজি ড্রাগন ৪০০-৪৫০টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আগামীতে আমি এই বাগানের পরিসর আরোও বৃদ্ধি করবো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম জানান, ২০১২সাল থেকে উপজেলাতে ড্রাগন ফল চাষের নীরব বিপ্লব শুরু হয়।

এখন ড্রাগন উপজেলার কৃষকদের কাছে একটি লাভজনক ফলের নাম। প্রতিদিনই কৃষকরা কৃষি অফিসে এসে ড্রাগন ফল সম্পর্কে জেনে যাচ্ছেন।

এছাড়াও এই বাগান তৈরিতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চারা সরবরাহ থেকে শুরু করে সরকারি ভাবে সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

এছাড়াও বাগান মালিকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান ও খোঁজখবর রাখছি। আশা রাখি একদিন দেশের মধ্যে রাণীনগর উপজেলা ড্রাগন ফল চাষে দৃষ্টান্তর স্থাপন করবে।