ঢাকা ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ :
Logo নওগাঁর আত্রাইয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা ভাঙচুর হত্যা চেষ্টার অভিযোগ   Logo হবিগঞ্জে ছাত্রদল সভাপতিসহ ১’শ জনকে আসামি করে মামলা, ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার Logo চুয়েটে পুকুরে গোসল করতে নেমে শিক্ষার্থীর মৃত্যু Logo দুবাই পাঠানোর নামে জাল ভিসা দিয়ে নওগাঁয় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ Logo রাষ্ট্রপতি হওয়ার খবর গুজব, বললেন মির্জা ফখরুল Logo নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে আবু বকর-বেলাল Logo নওগাঁয় মাদকের টাকা না পেয়ে  পিতাকে খুন করলো ছেলে Logo নওগাঁয় সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রীকে অপহরণ ৩ সপ্তাহে হয়নি উদ্ধার Logo নওগাঁয় আদালতের নির্দেশে কবর ১০ মাস পর শিশুর লাশ উত্তোলন Logo নওগাঁয় ক্লাসরুমের ছাদ ধসে ৭ শিক্ষার্থী আহত

পদ্মাসেতুর ৪ হাজার ৬৫০ মিটার দৃশ্যমান

২৫ ও ২৬ নম্বর পিলারে ৩১ তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হলো পদ্মাসেতু

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ   চলমান করোনা পরিস্থিতিতেও থেমে নেই পদ্মাসেতুর নির্মাণযজ্ঞ। সেতুর ২৫ ও ২৬ নম্বর পিলারে ৩১ তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হলো ৪ হাজার ৬৫০ মিটার।

এ নিয়ে করোনা পরিস্থিতিতে পাচটি স্প্যান বসিয়েছে দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীরা। ৩০ তম স্প্যান বসানোর ১১ দিনের মাথায় বসলো ৩১ তম স্প্যানটি।

এদিকে সম্পন্ন হলো জাজিরা প্রান্তে সব স্প্যান স্থাপন। এই স্প্যানটি বসানোর মাধ্যমে এক সাড়িতে এখন ২৯টি স্প্যান।

এখন মাওয়া প্রান্তে ১০টি স্প্যান বসানো বাকি আছে। ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল থেকে পদ্মানদী পাড়ি দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে যাওয়ার এ স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে এসব স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে।

৬ দশমিক ১৫ পদ্মাসেতুর এখন ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দৃশ্যমান বাকি।  এদিকে ৩১ তম স্প্যানটি বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ায় একদিন আগেই সফলভাবে স্প্যানটি বসিয়ে দেওয়া হলো।

একের পর এক স্প্যান বসিয়ে এভাবেই স্বপ্নের পদ্মাসেতু নির্মাণ হচ্ছে।

বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে শরিয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ২৫ ও ২৬ নম্বর পিলারে স্প্যান বসানো শেষ হয়।

এই দুইটি পিলার শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ী নৌরুটে পড়েছে। এর জন্য শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে সব ধরনের নৌ-যান চলাচল সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বন্ধ আছে।

এর আগে সকাল ৯টায় ধূসর রঙের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের তিন হাজার ১৪০টন ওজনের স্প্যানটি মাওয়া

কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে তিন হাজার ৬০০ টন ধারণক্ষমতার ‘তিয়ান ই’ ভাসমান ক্রেন বহন করে রওনা দেয়। নির্ধারিত পিলারের  কাছে পৌঁছায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে।

প্রকৌশল সূত্রে জানা যায়, সেতুর ১৫ ও ১৬ নম্বর পিলারের কাছে স্প্যানবহনকারী ক্রেনটি ডুবচর ও তীব্র স্রোতের কারনে আটকা পড়ে গিয়েছিল।

এরজন্য বেশি সময় লেগেছে নির্ধারিত পিলারের কাছে এসে পৌছাতে। ভাসমান ক্রেনটি নোঙর করে পজিশনিং করে ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে স্প্যানটিকে তোলা হয় পিলারের উচ্চতায়।

রাখা হয় দুই পিলারের বেয়ারিং এর ওপর। স্প্যান বসানোর জন্য উপযোগী সময় থাকায় এবং সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রকৌশলীরা অল্প সময়ের মধ্যেই স্প্যান বসাতে সক্ষম হন।

খুঁটিনাটি বিষয়গুলো আগে থেকেই বিশেষজ্ঞ প্যানেল দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হয়। বর্ষা মৌসুমের আগেই জাজিরায় বাকি থাকা একটি স্প্যান বসানোর কাজ সফলভাবেই সম্পন্ন করলো প্রকৌশলীরা। মাওয়ায় এখন ১০টি স্প্যান বসানোর অপেক্ষা।

পুরো সেতুতে দুই হাজার ৯৫৯ টি রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে, এর মধ্যে বর্তমানে বসেছে ১ হাজার ১০৫টি। আর রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে ২ হাজার ৯১৭টি, এর মধ্যে বসেছে ৬৩০ টি।

পদ্মাসেতুতে ৪২টি পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো।

ট্যাগস

নওগাঁর আত্রাইয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা ভাঙচুর হত্যা চেষ্টার অভিযোগ  

পদ্মাসেতুর ৪ হাজার ৬৫০ মিটার দৃশ্যমান

আপডেট সময় ০৫:১২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২০

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ   চলমান করোনা পরিস্থিতিতেও থেমে নেই পদ্মাসেতুর নির্মাণযজ্ঞ। সেতুর ২৫ ও ২৬ নম্বর পিলারে ৩১ তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হলো ৪ হাজার ৬৫০ মিটার।

এ নিয়ে করোনা পরিস্থিতিতে পাচটি স্প্যান বসিয়েছে দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীরা। ৩০ তম স্প্যান বসানোর ১১ দিনের মাথায় বসলো ৩১ তম স্প্যানটি।

এদিকে সম্পন্ন হলো জাজিরা প্রান্তে সব স্প্যান স্থাপন। এই স্প্যানটি বসানোর মাধ্যমে এক সাড়িতে এখন ২৯টি স্প্যান।

এখন মাওয়া প্রান্তে ১০টি স্প্যান বসানো বাকি আছে। ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল থেকে পদ্মানদী পাড়ি দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে যাওয়ার এ স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে এসব স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে।

৬ দশমিক ১৫ পদ্মাসেতুর এখন ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দৃশ্যমান বাকি।  এদিকে ৩১ তম স্প্যানটি বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ায় একদিন আগেই সফলভাবে স্প্যানটি বসিয়ে দেওয়া হলো।

একের পর এক স্প্যান বসিয়ে এভাবেই স্বপ্নের পদ্মাসেতু নির্মাণ হচ্ছে।

বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে শরিয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ২৫ ও ২৬ নম্বর পিলারে স্প্যান বসানো শেষ হয়।

এই দুইটি পিলার শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ী নৌরুটে পড়েছে। এর জন্য শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে সব ধরনের নৌ-যান চলাচল সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বন্ধ আছে।

এর আগে সকাল ৯টায় ধূসর রঙের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের তিন হাজার ১৪০টন ওজনের স্প্যানটি মাওয়া

কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে তিন হাজার ৬০০ টন ধারণক্ষমতার ‘তিয়ান ই’ ভাসমান ক্রেন বহন করে রওনা দেয়। নির্ধারিত পিলারের  কাছে পৌঁছায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে।

প্রকৌশল সূত্রে জানা যায়, সেতুর ১৫ ও ১৬ নম্বর পিলারের কাছে স্প্যানবহনকারী ক্রেনটি ডুবচর ও তীব্র স্রোতের কারনে আটকা পড়ে গিয়েছিল।

এরজন্য বেশি সময় লেগেছে নির্ধারিত পিলারের কাছে এসে পৌছাতে। ভাসমান ক্রেনটি নোঙর করে পজিশনিং করে ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে স্প্যানটিকে তোলা হয় পিলারের উচ্চতায়।

রাখা হয় দুই পিলারের বেয়ারিং এর ওপর। স্প্যান বসানোর জন্য উপযোগী সময় থাকায় এবং সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রকৌশলীরা অল্প সময়ের মধ্যেই স্প্যান বসাতে সক্ষম হন।

খুঁটিনাটি বিষয়গুলো আগে থেকেই বিশেষজ্ঞ প্যানেল দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হয়। বর্ষা মৌসুমের আগেই জাজিরায় বাকি থাকা একটি স্প্যান বসানোর কাজ সফলভাবেই সম্পন্ন করলো প্রকৌশলীরা। মাওয়ায় এখন ১০টি স্প্যান বসানোর অপেক্ষা।

পুরো সেতুতে দুই হাজার ৯৫৯ টি রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে, এর মধ্যে বর্তমানে বসেছে ১ হাজার ১০৫টি। আর রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে ২ হাজার ৯১৭টি, এর মধ্যে বসেছে ৬৩০ টি।

পদ্মাসেতুতে ৪২টি পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো।