ঢাকা ০১:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খাদ্য সংকটে রাজধানীর ৪২ লাখ দিনমজুর

দিনমজুর

স্টাফ রিপোর্টারঃ  দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার পর রাজধানীর চেনা চেহারা অচেনা হয়ে গেছে। মানুষকে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়ে জরুরি সেবা ছাড়া সব কিছুই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এতে দুর্দশায় পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ।

বিভিন্ন বেসরকারি হিসাবে, রাজধানীতে কমপক্ষে ৪২ লাখ দিনমজুর এখন তীব্র সংকটে আছেন খাদ্যের পর্যাপ্ত সহায়তার অভাবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ঘোষিত বরাদ্দ পাঁচ কোটির বেশি শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে ভাগ করলে মাথাপিছু মাত্র ১৫০ টাকা করে পড়ে, যা তাঁদের জীবনধারণের জন্য অপ্রতুল। এ অবস্থায় আগামীকাল শুক্রবার মে দিবস পালিত হচ্ছে।

অনেক দিনের জমানো মাটির ব্যাংকটি ভেঙে সেই টাকায় চাল-ডাল কিনছেন চায়ের দোকানের শ্রমিক আহম্মদ। ৩২ বছর বয়সী এই যুবক যেকোনো কাজ করতে রাজি। কিন্তু এখন দোকান বন্ধ থাকায় তাঁর কাজ নেই। প্রতিদিন সকালে পাইকারি বাজার থেকে এক ব্যবসায়ীর কাঁচামাল কাদিরাবাদ হাউজিংয়ে দিয়ে আসেন। এর বিনিময়ে যা পান তাতে প্রতিদিনের বাজার খরচ হয় না। তিনি বলেন, ‘এভাবে আর কয় দিন চলবে। সামনে শুধু অন্ধকার দেখছি। মনে হচ্ছে, মা-বউকে নিয়ে বাড়ি চলে যাই; কিন্তু সেটাও পারছি না। বাড়ি ফিরে ওদের খাওয়াব কী?’

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল বলেন, ‘বর্তমানে একদিকে করোনা সংক্রমণের ভয়, অন্যদিকে অনাহারের আতঙ্ক দিনমজুরদের দিশাহারা করে ফেলছে। সাধারণ ছুটি ঘোষণার পরে দিনমজুরসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যে বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় প্রহসনের শামিল।

কর্মহীনতার প্রায় এক মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও দিন এনে দিন খাওয়া মানুষদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত না হওয়া দুঃখজনক।’ দ্রুত ন্যূনতম খাদ্যের সংস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

ট্যাগস

খাদ্য সংকটে রাজধানীর ৪২ লাখ দিনমজুর

আপডেট সময় ০১:১৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২০

স্টাফ রিপোর্টারঃ  দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার পর রাজধানীর চেনা চেহারা অচেনা হয়ে গেছে। মানুষকে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়ে জরুরি সেবা ছাড়া সব কিছুই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এতে দুর্দশায় পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ।

বিভিন্ন বেসরকারি হিসাবে, রাজধানীতে কমপক্ষে ৪২ লাখ দিনমজুর এখন তীব্র সংকটে আছেন খাদ্যের পর্যাপ্ত সহায়তার অভাবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ঘোষিত বরাদ্দ পাঁচ কোটির বেশি শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে ভাগ করলে মাথাপিছু মাত্র ১৫০ টাকা করে পড়ে, যা তাঁদের জীবনধারণের জন্য অপ্রতুল। এ অবস্থায় আগামীকাল শুক্রবার মে দিবস পালিত হচ্ছে।

অনেক দিনের জমানো মাটির ব্যাংকটি ভেঙে সেই টাকায় চাল-ডাল কিনছেন চায়ের দোকানের শ্রমিক আহম্মদ। ৩২ বছর বয়সী এই যুবক যেকোনো কাজ করতে রাজি। কিন্তু এখন দোকান বন্ধ থাকায় তাঁর কাজ নেই। প্রতিদিন সকালে পাইকারি বাজার থেকে এক ব্যবসায়ীর কাঁচামাল কাদিরাবাদ হাউজিংয়ে দিয়ে আসেন। এর বিনিময়ে যা পান তাতে প্রতিদিনের বাজার খরচ হয় না। তিনি বলেন, ‘এভাবে আর কয় দিন চলবে। সামনে শুধু অন্ধকার দেখছি। মনে হচ্ছে, মা-বউকে নিয়ে বাড়ি চলে যাই; কিন্তু সেটাও পারছি না। বাড়ি ফিরে ওদের খাওয়াব কী?’

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল বলেন, ‘বর্তমানে একদিকে করোনা সংক্রমণের ভয়, অন্যদিকে অনাহারের আতঙ্ক দিনমজুরদের দিশাহারা করে ফেলছে। সাধারণ ছুটি ঘোষণার পরে দিনমজুরসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যে বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় প্রহসনের শামিল।

কর্মহীনতার প্রায় এক মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও দিন এনে দিন খাওয়া মানুষদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত না হওয়া দুঃখজনক।’ দ্রুত ন্যূনতম খাদ্যের সংস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/visionnewstoday/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481