গাজীপুরের কাপাসিয়ায় চাঞ্চল্যকর ৫ খুনে জড়িত ফোরকান মিয়া পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা পুলিশের।
ছয় দিন আগে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকে গলাকেটে ও শ্বাসরোধে হত্যার পর অবশেষে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ঘাতক ফোরকান মিয়া।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন। তিনি জানান, গত ৮ মে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্ৰামে সিঙ্গাপুর প্রবাসী মনির হোসের বাড়িতে তার ভাড়াটিয়া
ফোরকান মিয়া স্ত্রী শারমিন খানম (৩০), মাদরাসা পড়ুয়া তাদের বড় মেয়ে মীম খানম (১৫), মেজ মেয়ে উম্মে হাবিবা (৮) ও ছোট মেয়ে ফারিয়া (২) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়াকে (২২) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গোপালগঞ্জের পাইককান্দি এলাকার বাসিন্দা ও নিহত শারমিনের বাবা শাহাদাৎ মোল্লা ঘটনার রাতেই কাপাসিয়া থানায় ফোরকানকে প্রধান আসামি হত্যা মামলা দায়ের করেন; যেখানে অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে আসামি করা হয়।
গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দিন জানান, ঘটনার পর কাপাসিয়া মাইক্রোস্ট্যান্ড থেকে ৯ হাজার টাকায় গোপালগঞ্জ যেতে প্রাইভেটকার ভাড়া করে পালিয়ে যায়। পথিমধ্যে রাজধানীর মগবাজারে নেমে লাপাত্তা হয়ে যায় ফোরকান মিয়া।
ঘটনার পরই পুলিশের একাধিক ইউনিট ফোরকানকে গ্ৰেপ্তারে মাঠে নেমে দেশের বিভিন্নস্থানে অভিযান চালায়। হত্যাকাণ্ডের দিন সন্ধ্যায় পুলিশ জানতে পারে ফোরকান মিয়া পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
এমন একটি দৃশ্য পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার সিসি টিভির ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ওই সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যায়, সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পড়ে পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি স্থানে গিয়ে রেলিংয়ে মোবাইল রেখে নদীতে ঝাঁপ দেয় ফোরকান। মেহেরপুর এলাকা থেকে ফোরকানের মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনদিন ধরে পদ্মা নদীতে ডুবুরিদলের সদ্যস্যরা মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে। এখনো তার মরদেহ উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর: 










