নওগাঁর আত্রাইয়ে এক নারী ও তার তিন শিশুকে নিয়ে ‘প্যাকেজ ডিলে’ তথ্য সন্ত্রাসে মেতে উঠেছে একটি চাঁদাবাজ চক্র।
৫ লাখ টাকা চুক্তির বিনিময়ে নগদ ১ লাখ টাকা অগ্রিম নিয়ে ফেসবুকের মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে শিফাত মাহমুদ ফাহিম ও সুলতান আল আহম্মেদ নামের দুই তথাকথিত ফেসবুকারের বিরুদ্ধে। তাদের মূল লক্ষ্য—সন্তানসহ এক নারীকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা এবং পেশাদার সাংবাদিকদের চরিত্রহনন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আত্রাই উপজেলার সাহেবগঞ্জ এলাকার তোহা খান দেড় মাস আগে মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী আঁখি খাতুন ও তিন সন্তানকে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়। গত ২৬ এপ্রিল একটি মাদক মামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত আঁখিকে ৩ মাসের কারাদণ্ড দিলে সুযোগ লুফে নেয় তার প্রতিপক্ষ। তিন নাবালক সন্তানকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় স্বজনরা। প্রতিবেশীদের সহায়তায় আশ্রয় নেওয়া ওই শিশুদের মানবেতর জীবন নিয়ে সময় সংবাদসহ বেশ কিছু গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রচারিত হলে বিষয়টি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও মুক্তি
খবরটি সরকারের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। এরপর গত ১৪ মে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান আঁখি খাতুন।
তথ্য সন্ত্রাসের নেপথ্যে ‘৫ লাখ টাকার চুক্তি’
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আঁখি খাতুন ও তার সন্তানদের বাড়ি থেকে চিরতরে উচ্ছেদ করতে তোহা খানের সৎ ভাই সুমনের সাথে ৫ লাখ টাকার ‘চুক্তি’ করে শিফাত মাহমুদ ফাহিম ও সুলতান আল মাহমুদ। এরই অংশ হিসেবে নগদ ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। তাদের মূল কাজ ছিল ফেসবুকে ভুক্তভোগী নারী ও প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে জনমতকে বিভ্রান্ত করা।
ফেসবুক যখন চাঁদাবাজির অস্ত্র
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিফাত মাহমুদ এলাকায় চাঁদাবাজির কারণে জনরোষের মুখে বর্তমানে ঢাকার গাজীপুর এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। সেখান থেকেই শিফাত ও তার সহযোগীদের নিয়ে ফেসবুক প্রোফাইলকে চাঁদাবাজির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। প্রতি ঘণ্টায় টার্গেট করা ব্যক্তিকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দিয়ে ‘মীমাংসা’ বা টাকার দাবি করেন তারা। টাকা না পেলে ব্যক্তিগত আক্রমণ আরও তীব্র করা হয়।
আত্রাই উপজেলার ভোপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন জানান,
“শিফাত মাহমুদ ফাহিম ও সুলতান এলাকায় কুখ্যাত চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত। সাধারণ মানুষকে ফেসবুক পোস্টের ভয় দেখিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।”
সাংবাদিককে টার্গেট ও আইনি পদক্ষেপ
এই চক্রটি বর্তমানে সময় সংবাদের সিনিয়র রিপোর্টার এম আর রকিকে টার্গেট করে তার ছবি দিয়ে কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ বিষয়ে সাংবাদিক এম আর রকি জানান, পেশাদার কাজে বাধা সৃষ্টি ও মানহানি করার উদ্দেশ্যে এই চক্রটি পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, দুই ফেসবুকারের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে (আইসিটি) মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
ভুক্তভোগী আঁখি খাতুন ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই ‘তথ্য সন্ত্রাসী’ চক্রের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 










