ঢাকা ০২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএসএফের পুশ-ইন চেষ্টা

রাত জেগে সীমান্তে পাহারায় জনগণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের চৌকা সীমান্ত দিয়ে  (২০ জুন) ২০ নারী-পুরুষকে জোরপূর্বক ঠেলে পাঠিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ হলেও রাত জেগে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জেলার বিভিন্ন সীমান্তে লাঠিসোঁটা ও টচ লাইট নিয়ে বিজিবির সাথে রাতভর পাহারা দিয়েছেন সীমান্তে জনসাধারণ।

তাঁরবেড়াবিহীন সীমান্তে আবারো পুশ-ইনের সম্ভাবনা থেকেই বাড়তি এই সতর্কতা সীমানর বাসিন্দাদের। বিজিবির পক্ষ থেকেও স্থানীয় সাহায্য সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে। এছাড়াও পুশ-ইন ঠেকাতে ও সীমান্ত এলাকায় অপরিচিত লোকজন দেখলে খবর দেয়ার জন্য গ্রামে গ্রামে মাইকিং ও মসজিদের মুসল্লীদের সচেতন করছে বিজিবি।

এদিকে, গত ১৬ দিনের ব্যবধানে ৪ দফায় তিনটি সীমান্ত দিয়ে ৬৪ জন নারী-পুরুষকে জোরপূর্বক ঠেলে পুশ-ইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছে বিএসএফ। বিজিবির বাধায় তাদেরকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে চৌকা সীমান্ত দিয়ে ২০ নারী-পুরুষকে পুশ-ইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ৬ ঘন্টা শূন্যরেখায় রেখে ভারতীয় অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফের সুখদেবপুর ক্যাম্পের সদস্যরা। ২০ জনের মধ্যে ১১ জন নারী, ৫ জন পুরুষ ও ৪ জন শিশু ছিল। এর আগে ভোর ৬টার দিকে চৌকা সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক ঠেলে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক বাধায় শূণ্যরেখায় ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান নেয়।

এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার সীমান্তে কঠোর নজরদারি, সতর্কতা, টহল ও তৎপরতা বাড়িয়েছে বিজিবি। জনবল বৃদ্ধি করেছে তিনটি ব্যাটলিয়ন। এছাড়াও বিজিবির পাশাপাশি সীমান্তে সর্তক অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। নদী ও বিলে নৌকা এবং স্থলপথে বাইনোকুলার ও ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে টহল ও নজরদারি করছে বিজিবি। এছাড়াও রাতের অন্ধকারে নাইট ভিশন ক্যামেরা দিয়ে চলছে নজরদারি।

গত ১৫ জুন রাত ১১টার দিকে রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে এক নারীকে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। পরে স্থানীয়রা ওই নারীকে আটকে বিজিবির হাতে তুলে দিলে তাকে ভারতীয় ভূ-খন্ডে ফেরত পাঠানো হয়। ওই নারীকে বাংলাদেশে আসতে সহায়তা করার অভিযোগ সীমান্তবর্তী গ্রাম রোকনপুরের ৭ জনকে আটক করে পুলিশে দেয় বিজিবি। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে।

এর আগে ১৩ জুন দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে একই সীমান্ত দিয়ে নদীপথে ১৫ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক বাধার মুখে বিএসএফের এই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিএসএফ সদস্যরা ওই ১৫ জনকে সীমান্ত-সংলগ্ন ভবানীপুর এলাকা দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ। পুশইনের শিকার হওয়া দলে দুজন পুরুষ, আটজন নারী এবং পাঁচজন শিশু ছিল।

এছাড়াও গত ৪ জুন ভোররাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জন নারী-পুরুষকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। পরে স্থানীয়দের দেয়া তথ্যে বিজিবির বাধার মুখে শূন্যরেখায় তিন দিন থাকার পর তাদেরকে ফেরত নেয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ। তাদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ০৬ জন শিশু ছিল।

ট্যাগস

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএসএফের পুশ-ইন চেষ্টা

রাত জেগে সীমান্তে পাহারায় জনগণ

আপডেট সময় ১২:০৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের চৌকা সীমান্ত দিয়ে  (২০ জুন) ২০ নারী-পুরুষকে জোরপূর্বক ঠেলে পাঠিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ হলেও রাত জেগে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জেলার বিভিন্ন সীমান্তে লাঠিসোঁটা ও টচ লাইট নিয়ে বিজিবির সাথে রাতভর পাহারা দিয়েছেন সীমান্তে জনসাধারণ।

তাঁরবেড়াবিহীন সীমান্তে আবারো পুশ-ইনের সম্ভাবনা থেকেই বাড়তি এই সতর্কতা সীমানর বাসিন্দাদের। বিজিবির পক্ষ থেকেও স্থানীয় সাহায্য সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে। এছাড়াও পুশ-ইন ঠেকাতে ও সীমান্ত এলাকায় অপরিচিত লোকজন দেখলে খবর দেয়ার জন্য গ্রামে গ্রামে মাইকিং ও মসজিদের মুসল্লীদের সচেতন করছে বিজিবি।

এদিকে, গত ১৬ দিনের ব্যবধানে ৪ দফায় তিনটি সীমান্ত দিয়ে ৬৪ জন নারী-পুরুষকে জোরপূর্বক ঠেলে পুশ-ইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছে বিএসএফ। বিজিবির বাধায় তাদেরকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে চৌকা সীমান্ত দিয়ে ২০ নারী-পুরুষকে পুশ-ইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ৬ ঘন্টা শূন্যরেখায় রেখে ভারতীয় অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফের সুখদেবপুর ক্যাম্পের সদস্যরা। ২০ জনের মধ্যে ১১ জন নারী, ৫ জন পুরুষ ও ৪ জন শিশু ছিল। এর আগে ভোর ৬টার দিকে চৌকা সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক ঠেলে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক বাধায় শূণ্যরেখায় ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান নেয়।

এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার সীমান্তে কঠোর নজরদারি, সতর্কতা, টহল ও তৎপরতা বাড়িয়েছে বিজিবি। জনবল বৃদ্ধি করেছে তিনটি ব্যাটলিয়ন। এছাড়াও বিজিবির পাশাপাশি সীমান্তে সর্তক অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। নদী ও বিলে নৌকা এবং স্থলপথে বাইনোকুলার ও ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে টহল ও নজরদারি করছে বিজিবি। এছাড়াও রাতের অন্ধকারে নাইট ভিশন ক্যামেরা দিয়ে চলছে নজরদারি।

গত ১৫ জুন রাত ১১টার দিকে রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে এক নারীকে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। পরে স্থানীয়রা ওই নারীকে আটকে বিজিবির হাতে তুলে দিলে তাকে ভারতীয় ভূ-খন্ডে ফেরত পাঠানো হয়। ওই নারীকে বাংলাদেশে আসতে সহায়তা করার অভিযোগ সীমান্তবর্তী গ্রাম রোকনপুরের ৭ জনকে আটক করে পুলিশে দেয় বিজিবি। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে।

এর আগে ১৩ জুন দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে একই সীমান্ত দিয়ে নদীপথে ১৫ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক বাধার মুখে বিএসএফের এই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিএসএফ সদস্যরা ওই ১৫ জনকে সীমান্ত-সংলগ্ন ভবানীপুর এলাকা দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ। পুশইনের শিকার হওয়া দলে দুজন পুরুষ, আটজন নারী এবং পাঁচজন শিশু ছিল।

এছাড়াও গত ৪ জুন ভোররাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জন নারী-পুরুষকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। পরে স্থানীয়দের দেয়া তথ্যে বিজিবির বাধার মুখে শূন্যরেখায় তিন দিন থাকার পর তাদেরকে ফেরত নেয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ। তাদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ০৬ জন শিশু ছিল।