ঢাকা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫, ২ আষাঢ় ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পত্নীতলায় ঈদুল আযহা কে সামনে রেখে ব্যস্ত কামাররা

মাত্র কয়েক দিন বাদে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। আর এই ঈদে কুরবানি সামনে রেখে নওগাঁ পত্নীতলার কামাররা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলা সদর, নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার নওগাঁ রোড,মাতাজি রোড,ধামইর রোড সংলগ্ন এলাকার কামারশালা গুলোতে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরী করছেন এই শিল্পীরা ।

দিন রাত ওস্তাদ ও শাগরাত মিলে হাফর টানিয়ে লোহা পুড়িয়ে লাল করে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তৈরি করছে দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতি তাই টুংটাং শব্দে মুখর কামারশালা গুলো । দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে তাদের ব্যস্ততা যেন দম ফেলার ফুসরত নেই। এসব অস্ত্র তৈরি করার সময় হাপরের ফোঁস ফাঁস আর লোহা পেটানোর টুং টাং শব্দে মুখর পুরো এলাকা। এর সঙ্গে চলছে পুরোনো দা-বঁটি ও ছুরিতে শান দেওয়ার কাজ। এভাবে ক্লান্তিহীন দিন পার করছেন পত্নীতলার কামারেরা।

কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছেন তারা। সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েকগুণ ব্যস্ততা বেড়ে যায় কামারদের। এ দিকে পশু জবাইয়ের সরঞ্জামাদি কিনতে লোকজন ভিড় করছেন কামারিদের দোকানে।

আগে যেসব দোকানে ১জন শ্রমিক কাজ করত, এখন সেসব দোকানে ২/৩ জন করে শ্রমিক কাজ করছেন। তবে চায়না থেকে আসা মালামাল, লোহা, কয়লা ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছর ঈদে কামারদের মুখে তেমন হাসি নেই।

ক্রেতাদের অভিযোগ, ঈদ উপলক্ষে দা, চাপাতি ও ছুরির দাম বেশি নেওয়া হয়। ছুরি শান দেওয়ার জন্য ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে কামারীদের অভিযোগ, কুরবানির ঈদ উপলক্ষে লোহা, কয়লা ও শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় তাদের তৈরি মালের দাম একটু বেশি। এসব দা, বঁটি, ছুরির দাম জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, দা ছোট ৪০০ থেকে ৬৫০ টাকা, বঁটি বড় ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, চাপাতি ৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কামারের দোকানে চাপাতি বানাতে আসা দেলোয়ার হোসেন জানান, আর কদনি পর কুরবানির ঈদ, তাই চাপাতি বানাতে কামারের দোকানে এসেছি।

উপজেলার নজিপুর ইউনিয়নের কাঞ্চন গ্রামের কামার মো.আবুল কালাম বলেন,এ পেশায় প্রায় ২০ বছর ধরে যুক্ত আছি। প্রতিদিন ৫শ থেকে ৭শ টাকা আয় হয়।যা দিয়ে খুব কষ্টে সংসার চলে।লোহা ও কয়লার দাম বেশি।কয়েকজন কামার বলেন, চায়না মালের জন্য আমাদের এ ব্যবসার ধস নেমেছে। অনেকে পেশা বদল করে অন্য কাজ করে জিবিকা নির্বাহ করছেন।

জানা যায়, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ১০টির মত কামারশালা রয়েছে। এই কামাররা দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করেন সে তুলনায় তাদের আয় কম, এলাকার বিভিন্ন নাগরিকদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করলে, তারা বলেন, সরকারিভাবে তাদের বিভিন্ন সহায়তা প্রদান বা বিনা সুদে ঋণ সুবিধা দিলে এই শিল্পের আরও উন্নয়ন হবে।

ট্যাগস

পত্নীতলায় ঈদুল আযহা কে সামনে রেখে ব্যস্ত কামাররা

আপডেট সময় ০২:০৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫

মাত্র কয়েক দিন বাদে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। আর এই ঈদে কুরবানি সামনে রেখে নওগাঁ পত্নীতলার কামাররা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলা সদর, নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার নওগাঁ রোড,মাতাজি রোড,ধামইর রোড সংলগ্ন এলাকার কামারশালা গুলোতে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরী করছেন এই শিল্পীরা ।

দিন রাত ওস্তাদ ও শাগরাত মিলে হাফর টানিয়ে লোহা পুড়িয়ে লাল করে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তৈরি করছে দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতি তাই টুংটাং শব্দে মুখর কামারশালা গুলো । দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে তাদের ব্যস্ততা যেন দম ফেলার ফুসরত নেই। এসব অস্ত্র তৈরি করার সময় হাপরের ফোঁস ফাঁস আর লোহা পেটানোর টুং টাং শব্দে মুখর পুরো এলাকা। এর সঙ্গে চলছে পুরোনো দা-বঁটি ও ছুরিতে শান দেওয়ার কাজ। এভাবে ক্লান্তিহীন দিন পার করছেন পত্নীতলার কামারেরা।

কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছেন তারা। সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েকগুণ ব্যস্ততা বেড়ে যায় কামারদের। এ দিকে পশু জবাইয়ের সরঞ্জামাদি কিনতে লোকজন ভিড় করছেন কামারিদের দোকানে।

আগে যেসব দোকানে ১জন শ্রমিক কাজ করত, এখন সেসব দোকানে ২/৩ জন করে শ্রমিক কাজ করছেন। তবে চায়না থেকে আসা মালামাল, লোহা, কয়লা ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছর ঈদে কামারদের মুখে তেমন হাসি নেই।

ক্রেতাদের অভিযোগ, ঈদ উপলক্ষে দা, চাপাতি ও ছুরির দাম বেশি নেওয়া হয়। ছুরি শান দেওয়ার জন্য ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে কামারীদের অভিযোগ, কুরবানির ঈদ উপলক্ষে লোহা, কয়লা ও শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় তাদের তৈরি মালের দাম একটু বেশি। এসব দা, বঁটি, ছুরির দাম জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, দা ছোট ৪০০ থেকে ৬৫০ টাকা, বঁটি বড় ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, চাপাতি ৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কামারের দোকানে চাপাতি বানাতে আসা দেলোয়ার হোসেন জানান, আর কদনি পর কুরবানির ঈদ, তাই চাপাতি বানাতে কামারের দোকানে এসেছি।

উপজেলার নজিপুর ইউনিয়নের কাঞ্চন গ্রামের কামার মো.আবুল কালাম বলেন,এ পেশায় প্রায় ২০ বছর ধরে যুক্ত আছি। প্রতিদিন ৫শ থেকে ৭শ টাকা আয় হয়।যা দিয়ে খুব কষ্টে সংসার চলে।লোহা ও কয়লার দাম বেশি।কয়েকজন কামার বলেন, চায়না মালের জন্য আমাদের এ ব্যবসার ধস নেমেছে। অনেকে পেশা বদল করে অন্য কাজ করে জিবিকা নির্বাহ করছেন।

জানা যায়, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ১০টির মত কামারশালা রয়েছে। এই কামাররা দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করেন সে তুলনায় তাদের আয় কম, এলাকার বিভিন্ন নাগরিকদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করলে, তারা বলেন, সরকারিভাবে তাদের বিভিন্ন সহায়তা প্রদান বা বিনা সুদে ঋণ সুবিধা দিলে এই শিল্পের আরও উন্নয়ন হবে।