ঢাকা ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সাড়া নেই শাবি প্রশাসনের, ১২ শর্তে অনড় শিক্ষার্থীরা

সাড়া নেই শাবি প্রশাসনের, ১২ শর্তে অনড় শিক্ষার্থীরা

শিক্ষা ডেস্কঃ  সময়ের সঙ্গে মহামারিতে রূপ নেওয়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) চলমান অনলাইন ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা।

এরপর তারা ১২ শর্তে ক্লাসে ফিরতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের দেওয়া শর্তে সাড়া দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে অনলাইন ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১০ জুন) অনলাইন ক্লাস বর্জনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থী শর্মিলা সিদ্দিকা মিলা, মইনুল ইসলাম রাশু, শাহরিয়ার আবেদীন, মিনহাজুল আবেদীন, সৈয়দ মাহিম রিকথীসহ ১৩ জন শিক্ষার্থী কর্তৃক গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ মে অনলাইন ক্লাসের বিভিন্ন সংকট তুলে ধরে ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা।

পরে ১৭ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত অনলাইন ক্লাস স্থগিত রাখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে ১ জুন থেকে পুনরায় অনলাইনে ক্লাস শুরুর সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।

এরই প্রেক্ষিতে ৬ জুন প্রশাসনের কাছে ১২টি শর্ত উত্থাপন করা হয়। এসব শর্ত পরিপূর্ণভাবে মেনে নিতে ৩ কার্যদিবস সময় বেধে দেয় শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সুবিধাবঞ্চিত ও সমস্যাগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে এবং বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষে আমরা ১২টি শর্ত উত্থাপন করি।

ইতোমধ্যে বেধে দেওয়া ৩ কার্যদিবস অতিবাহিত হলেও প্রশাসন থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের চাহিদার ব্যাপারে উদাসীন রয়েছে প্রশাসন।

এজন্য আমরা সকল ধরনের অনলাইন ক্লাস বর্জন করে আমাদের পূর্বের অবস্থানে ফিরে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেন বলেন, এটা অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের বিষয়, আমার কিছু বলার নেই। শিক্ষার্থীদের দেওয়া শর্তের বিষয়ে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল জানবে বা জেনেছে। তারাই সিদ্ধান্ত নেবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না।

কারণ শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়ার কোনো কপি অফিসিয়ালি আমার কাছে আসেনি। এ বিষয়ে প্রশাসন থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিনা তাও আমার জানা নেই।

অন্যদিকে, উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির মাঝে গত ১৮ মার্চ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

এতে সেশন জটের শঙ্কায় পড়ে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে গত ৩১ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়।

কিন্তু অনলাইন ক্লাস ব্যবস্থায় শিক্ষার গুণগতমান মান নিশ্চিত না হওয়া ও ডিজিটাল অপর্যাপ্ততায় গত ৭ মে সম্মিলিতভাবে ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সকল ব্যাচ।

ট্যাগস

আলিশান চাল, নওগাঁ

বিজ্ঞাপন দিন

সাড়া নেই শাবি প্রশাসনের, ১২ শর্তে অনড় শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় ০৪:৫৯:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২০

শিক্ষা ডেস্কঃ  সময়ের সঙ্গে মহামারিতে রূপ নেওয়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) চলমান অনলাইন ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা।

এরপর তারা ১২ শর্তে ক্লাসে ফিরতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের দেওয়া শর্তে সাড়া দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে অনলাইন ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১০ জুন) অনলাইন ক্লাস বর্জনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থী শর্মিলা সিদ্দিকা মিলা, মইনুল ইসলাম রাশু, শাহরিয়ার আবেদীন, মিনহাজুল আবেদীন, সৈয়দ মাহিম রিকথীসহ ১৩ জন শিক্ষার্থী কর্তৃক গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ মে অনলাইন ক্লাসের বিভিন্ন সংকট তুলে ধরে ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা।

পরে ১৭ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত অনলাইন ক্লাস স্থগিত রাখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে ১ জুন থেকে পুনরায় অনলাইনে ক্লাস শুরুর সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।

এরই প্রেক্ষিতে ৬ জুন প্রশাসনের কাছে ১২টি শর্ত উত্থাপন করা হয়। এসব শর্ত পরিপূর্ণভাবে মেনে নিতে ৩ কার্যদিবস সময় বেধে দেয় শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সুবিধাবঞ্চিত ও সমস্যাগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে এবং বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষে আমরা ১২টি শর্ত উত্থাপন করি।

ইতোমধ্যে বেধে দেওয়া ৩ কার্যদিবস অতিবাহিত হলেও প্রশাসন থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের চাহিদার ব্যাপারে উদাসীন রয়েছে প্রশাসন।

এজন্য আমরা সকল ধরনের অনলাইন ক্লাস বর্জন করে আমাদের পূর্বের অবস্থানে ফিরে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেন বলেন, এটা অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের বিষয়, আমার কিছু বলার নেই। শিক্ষার্থীদের দেওয়া শর্তের বিষয়ে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল জানবে বা জেনেছে। তারাই সিদ্ধান্ত নেবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না।

কারণ শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়ার কোনো কপি অফিসিয়ালি আমার কাছে আসেনি। এ বিষয়ে প্রশাসন থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিনা তাও আমার জানা নেই।

অন্যদিকে, উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির মাঝে গত ১৮ মার্চ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

এতে সেশন জটের শঙ্কায় পড়ে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে গত ৩১ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়।

কিন্তু অনলাইন ক্লাস ব্যবস্থায় শিক্ষার গুণগতমান মান নিশ্চিত না হওয়া ও ডিজিটাল অপর্যাপ্ততায় গত ৭ মে সম্মিলিতভাবে ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সকল ব্যাচ।