ঢাকা ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

খাটিয়া না দেয়ায় মৃতদেহ মাটিতে রেখেই জানাজা

স্টাফ রিপোর্টারঃ  ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার খাঞ্জাপুর গ্রামে করোনার উপসর্গে মারা যাওয়া ব্যক্তির জন্য মসজিদের খাটিয়া না দেওয়া মৃতদেহ মাটিতে রেখেই সম্পন্ন হয়েছে জানাজা। পরে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের আলেমদের মাধ্যমে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।

শনিবার (১১এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার খাঞ্জাপুর গ্রামের এক বৃদ্ধকে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, ঠাণ্ডা ও কাশি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নমুনা সংগ্রহসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষে রবিবার সকালে পরিবারের স্বজনদের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর করে।

জানা গেছে, মৃতদেহের দাফন ও কাফনের ব্যবস্থা করেন কালীগঞ্জ উপজেলার ছয় আলেম। হাসপাতাল থেকেই মৃতদেহের গোসল করানো হয়। এরপর তাদের মাধ্যমে একটি সিএনজিতে মৃতদেহটি নিয়ে যাওয়া হয়। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নের খাঞ্জাপুর তার নিজ গ্রামে। সেখানে জানাজা পড়ানোর জন্য আলেমদের পক্ষ থেকে গ্রামের মসজিদের খাটিয়া চাওয়া হয়। কিন্তু গ্রামবাসীরা করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে শঙ্কায় খাটিয়া দিতে রাজি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে মৃতদেহ মাটিতে রেখেই জানাজা সম্পন্ন করেন তারা। গ্রামবাসীরা সহযোগিতা না করলেও দূরে দাঁড়িয়ে দাফনের কাজ দেখেছেন।

মৃতদেহ দাফন-কাফনের জন্য কালীগঞ্জ মেইন বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের ঈমাম ফারুক নোমানী, মাওলানা রুহুল আমিন, হাফেজ হেদায়াতুল্লাহ, মাওলানা ইয়াসিন, মাওলানা আতাউর রহমান, হাফেজ শাহ জালাল।

এ ছয় আলেমের মধ্যে জানাজা নামাজ পড়ানো ইমাম ফারুক নোমানী জানান, জানাজার নামাজ পড়ানোর জন্য গ্রামবাসীর কাছে মসজিদের খাঁটিয়া চাওয়া হয়। কিন্তু গ্রামবাসীরা সেটা দিতে অস্বীকার করে। পরে মরদেহ মাটিতে রেখেই জানাজা নামাজ সম্পন্ন করে লাশ দাফন করা হয়।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা শিরিন মৃত ব্যক্তির সাথে থাকা স্বজনদের বরাত দিয়ে জানান, চারদিন ধরে জ্বর ছিল। ঠাণ্ডা, কাশি এবং তার গলাব্যাথাও ছিল। আমাদের সাথে আগে থেকে সে কোন প্রকার যোগাযোগ করে নি। গত দুই দিন ধরে তার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। শনিবার রাত ১১ টার দিকে হাসপাতালে আনার পথে সে মারা যায়।

তিনি আরও জানান, হাসপাতাল থেকেই মারা যাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে তার করোনা শনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনা ইতিমধ্যে পাঠিয়ে দিয়েছি। এরপর পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে রবিবার সকালে মৃত ব্যক্তির মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। মৃতদেহ দাফন ও কাফনের জন্য ছয় জনের একটি টিম কাজ করেছে।

ট্যাগস

আলিশান চাল, নওগাঁ

বিজ্ঞাপন দিন

খাটিয়া না দেয়ায় মৃতদেহ মাটিতে রেখেই জানাজা

আপডেট সময় ১১:১৭:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২০

স্টাফ রিপোর্টারঃ  ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার খাঞ্জাপুর গ্রামে করোনার উপসর্গে মারা যাওয়া ব্যক্তির জন্য মসজিদের খাটিয়া না দেওয়া মৃতদেহ মাটিতে রেখেই সম্পন্ন হয়েছে জানাজা। পরে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের আলেমদের মাধ্যমে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।

শনিবার (১১এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার খাঞ্জাপুর গ্রামের এক বৃদ্ধকে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, ঠাণ্ডা ও কাশি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নমুনা সংগ্রহসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষে রবিবার সকালে পরিবারের স্বজনদের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর করে।

জানা গেছে, মৃতদেহের দাফন ও কাফনের ব্যবস্থা করেন কালীগঞ্জ উপজেলার ছয় আলেম। হাসপাতাল থেকেই মৃতদেহের গোসল করানো হয়। এরপর তাদের মাধ্যমে একটি সিএনজিতে মৃতদেহটি নিয়ে যাওয়া হয়। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নের খাঞ্জাপুর তার নিজ গ্রামে। সেখানে জানাজা পড়ানোর জন্য আলেমদের পক্ষ থেকে গ্রামের মসজিদের খাটিয়া চাওয়া হয়। কিন্তু গ্রামবাসীরা করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে শঙ্কায় খাটিয়া দিতে রাজি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে মৃতদেহ মাটিতে রেখেই জানাজা সম্পন্ন করেন তারা। গ্রামবাসীরা সহযোগিতা না করলেও দূরে দাঁড়িয়ে দাফনের কাজ দেখেছেন।

মৃতদেহ দাফন-কাফনের জন্য কালীগঞ্জ মেইন বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের ঈমাম ফারুক নোমানী, মাওলানা রুহুল আমিন, হাফেজ হেদায়াতুল্লাহ, মাওলানা ইয়াসিন, মাওলানা আতাউর রহমান, হাফেজ শাহ জালাল।

এ ছয় আলেমের মধ্যে জানাজা নামাজ পড়ানো ইমাম ফারুক নোমানী জানান, জানাজার নামাজ পড়ানোর জন্য গ্রামবাসীর কাছে মসজিদের খাঁটিয়া চাওয়া হয়। কিন্তু গ্রামবাসীরা সেটা দিতে অস্বীকার করে। পরে মরদেহ মাটিতে রেখেই জানাজা নামাজ সম্পন্ন করে লাশ দাফন করা হয়।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা শিরিন মৃত ব্যক্তির সাথে থাকা স্বজনদের বরাত দিয়ে জানান, চারদিন ধরে জ্বর ছিল। ঠাণ্ডা, কাশি এবং তার গলাব্যাথাও ছিল। আমাদের সাথে আগে থেকে সে কোন প্রকার যোগাযোগ করে নি। গত দুই দিন ধরে তার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। শনিবার রাত ১১ টার দিকে হাসপাতালে আনার পথে সে মারা যায়।

তিনি আরও জানান, হাসপাতাল থেকেই মারা যাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে তার করোনা শনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনা ইতিমধ্যে পাঠিয়ে দিয়েছি। এরপর পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে রবিবার সকালে মৃত ব্যক্তির মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। মৃতদেহ দাফন ও কাফনের জন্য ছয় জনের একটি টিম কাজ করেছে।