ঢাকা ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

খুনি মাজেদের ফাঁসি কার্যকর

ছবিঃ বঙ্গবন্ধুর খুনি আবদুল মাজেদ

স্টাফ রিপোর্টারঃ  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার দায়ে ক্যাপ্টেন (বরখাস্তকৃত) আব্দুল মাজেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহাবুবুল ইসলাম জানান, রবিবার (১২ এপ্রিল) রাত ১২ টা ০১ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি দড়িতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

এদিকে শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে কারা চিকিৎসক কারাগারের ভেতর ঢোকেন। এছাড়াও রাত সোয়া ১০টার দিকে ঢাকার সিভিল সার্জন এবং জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন, একজন মাওলানা, একজন ইমাম কারাগারের ভেতরে যান। রাত ১১টার দিকে তাকে তওবা পড়ানো হয়। এ সময় মাজেদ কান্নাকাটি করেন।

রাত ১০টা ৫২ মিনিটে কারাগারে প্রবেশ করেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তফা কামাল পাশা।

ফাঁসি কার্যকর করেন দশ জল্লাদ : জল্লাদ শাহজাহান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে মো. আবুল, তরিকুল ও সোহেলসহ দশ সদস্যের একটি দল আব্দুল মাজেদের ফাঁসির রায় কার্যকর করেন বলে জানা গেছে। মো. শাহজাহান ভূঁইয়া দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে কারাবন্দি। জল্লাদ শাহজাহান এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫ ঘাতককে ফাঁসির দড়িতে ঝুঁলিয়েছেন।

এছাড়া এদেশের কয়েকজন যুদ্ধাপরাধী, কুখ্যাত সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদার, জঙ্গি নেতা বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানী, শারমীন রীমা হত্যা মামলার আসামি খুকু, মনির, ডেইজি হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করেন জল্লাদ শাহজাহান।
এদেশে তিনিই একমাত্র জল্লাদ যিনি একরাতেই দুই কারাগারে ৪ আসামিকে ফাঁসি দড়িতে ঝুলিয়েছেন।

আব্দুল মাজেদকে গ্রেপ্তার : এর আগে গত ৬ এপ্রিল দিনগত রাত ৩ টায়রাজধানীর মিরপুর থেকে আব্দুল মাজেদকে  গ্রেপ্তার করে  ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। আদালতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদকে সোমবার  দিবাগত রাত ৩ টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর গাবতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে তিনি দায়িত্বে ছিলেন। রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের সামনে দিয়ে সন্দেহজনকভাবে রিকশায় করে যাওয়ার সময় ওই ব্যক্তিকে থামান। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অসংলগ্ন কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি নিজের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেন এবং বলেন, তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। জিজ্ঞাসাবাদে মাজেদ আরও স্বীকার করেন, গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আত্মগোপন করে ছিলেন।

মাজেদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ : গত ৭ এপ্রিল বেলা সোয়া ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার শুনানির ১ ঘণ্টা পর দুপুর ১টা ৫ মিনিটের দিকে তাকে প্রিজন ভ্যানে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। শুনানির সময় খুনি মাজেদের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

প্রাণভিক্ষা চেয়ে ছিলেন মাজেদ : গত ৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছেন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আত্মস্বীকৃত খুনি মৃত‌্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন (বরখাস্তকৃত) আব্দুল মাজেদ।

গত ৯ এপ্রিল আব্দুল মাজেদের প্রাণভিক্ষার আবেদন রাষ্ট্রপতি বাতিল করে দেন। পরে ওই চিঠি ওই দিনই কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

বঙ্গবন্ধুর অন্য যেসব খুনিদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে : ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও মুহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ওই রায় কার্যকরের আগেই ২০০২ সালে পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা যান আসামি আজিজ পাশা।

এখনো পলাতক যারা : বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, নূর চৌধুরী, মোসলেম উদ্দিন ও রাশেদ চৌধুরী। তারা বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছেন। তাদের গ্রেফতারে ইন্টারপোলের পরোয়ানা রয়েছে। দণ্ডিত অপর আসামি আবদুল আজিজ পাশা পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা গেছেন।

ট্যাগস

আলিশান চাল, নওগাঁ

বিজ্ঞাপন দিন

খুনি মাজেদের ফাঁসি কার্যকর

আপডেট সময় ১১:০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২০

স্টাফ রিপোর্টারঃ  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার দায়ে ক্যাপ্টেন (বরখাস্তকৃত) আব্দুল মাজেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহাবুবুল ইসলাম জানান, রবিবার (১২ এপ্রিল) রাত ১২ টা ০১ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি দড়িতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

এদিকে শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে কারা চিকিৎসক কারাগারের ভেতর ঢোকেন। এছাড়াও রাত সোয়া ১০টার দিকে ঢাকার সিভিল সার্জন এবং জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন, একজন মাওলানা, একজন ইমাম কারাগারের ভেতরে যান। রাত ১১টার দিকে তাকে তওবা পড়ানো হয়। এ সময় মাজেদ কান্নাকাটি করেন।

রাত ১০টা ৫২ মিনিটে কারাগারে প্রবেশ করেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তফা কামাল পাশা।

ফাঁসি কার্যকর করেন দশ জল্লাদ : জল্লাদ শাহজাহান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে মো. আবুল, তরিকুল ও সোহেলসহ দশ সদস্যের একটি দল আব্দুল মাজেদের ফাঁসির রায় কার্যকর করেন বলে জানা গেছে। মো. শাহজাহান ভূঁইয়া দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে কারাবন্দি। জল্লাদ শাহজাহান এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫ ঘাতককে ফাঁসির দড়িতে ঝুঁলিয়েছেন।

এছাড়া এদেশের কয়েকজন যুদ্ধাপরাধী, কুখ্যাত সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদার, জঙ্গি নেতা বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানী, শারমীন রীমা হত্যা মামলার আসামি খুকু, মনির, ডেইজি হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করেন জল্লাদ শাহজাহান।
এদেশে তিনিই একমাত্র জল্লাদ যিনি একরাতেই দুই কারাগারে ৪ আসামিকে ফাঁসি দড়িতে ঝুলিয়েছেন।

আব্দুল মাজেদকে গ্রেপ্তার : এর আগে গত ৬ এপ্রিল দিনগত রাত ৩ টায়রাজধানীর মিরপুর থেকে আব্দুল মাজেদকে  গ্রেপ্তার করে  ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। আদালতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদকে সোমবার  দিবাগত রাত ৩ টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর গাবতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে তিনি দায়িত্বে ছিলেন। রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের সামনে দিয়ে সন্দেহজনকভাবে রিকশায় করে যাওয়ার সময় ওই ব্যক্তিকে থামান। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অসংলগ্ন কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি নিজের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেন এবং বলেন, তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। জিজ্ঞাসাবাদে মাজেদ আরও স্বীকার করেন, গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আত্মগোপন করে ছিলেন।

মাজেদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ : গত ৭ এপ্রিল বেলা সোয়া ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার শুনানির ১ ঘণ্টা পর দুপুর ১টা ৫ মিনিটের দিকে তাকে প্রিজন ভ্যানে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। শুনানির সময় খুনি মাজেদের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

প্রাণভিক্ষা চেয়ে ছিলেন মাজেদ : গত ৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছেন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আত্মস্বীকৃত খুনি মৃত‌্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন (বরখাস্তকৃত) আব্দুল মাজেদ।

গত ৯ এপ্রিল আব্দুল মাজেদের প্রাণভিক্ষার আবেদন রাষ্ট্রপতি বাতিল করে দেন। পরে ওই চিঠি ওই দিনই কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

বঙ্গবন্ধুর অন্য যেসব খুনিদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে : ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও মুহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ওই রায় কার্যকরের আগেই ২০০২ সালে পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা যান আসামি আজিজ পাশা।

এখনো পলাতক যারা : বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, নূর চৌধুরী, মোসলেম উদ্দিন ও রাশেদ চৌধুরী। তারা বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছেন। তাদের গ্রেফতারে ইন্টারপোলের পরোয়ানা রয়েছে। দণ্ডিত অপর আসামি আবদুল আজিজ পাশা পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা গেছেন।