ঢাকা ০৯:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ :
Logo নিন্মমানের খাবার বিক্রি নওগাঁয় ৩ প্রতিষ্টান কে বিপুল টাকা জরিমানা Logo ভারতের পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৫ গ্রাম প্লাবিত Logo নওগাঁয় বিষ দিয়ে ৩০ লাখ টাকার মাছ নিধন   Logo জয়পুরহাটে ট্রেন চলাচল বন্ধ Logo রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর Logo সালিশে নারীকে জুতাপেটা, চেয়ারম্যান বললেন ‘রায় কার্যকর করেছি’ Logo ৩ জেলার ডিসি ও রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার প্রত্যাহার, প্রজ্ঞাপনে যা জানালো Logo নওগাঁর আত্রাইয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা ভাঙচুর হত্যা চেষ্টার অভিযোগ   Logo হবিগঞ্জে ছাত্রদল সভাপতিসহ ১’শ জনকে আসামি করে মামলা, ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার Logo চুয়েটে পুকুরে গোসল করতে নেমে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ভারতের পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৫ গ্রাম প্লাবিত

 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার ১৫টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে কৃষিজমি, মাছের ঘের সহ বিভিন্ন শাখ সবজির জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যথেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে এ অবস্থা।

বানের পানি প্রবেশ করার কারণে নিন্মাঞ্চলের অনেকেই বাড়ীঘর ছেড়ে স্বজনদের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আশ্রয় কেন্দ্র ও ত্রান তৎপড়তার  সার্বিক বিষয় প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর সাথে কথা বলার সময় তারা জানান, আজ সোমবার ভোর রাত থেকে হঠাৎ করেই ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়া উপজেলার হাওড়া নদী, জাজির খাল এবং কালন্দী খাল দিয়ে হু হু করে পানি প্রবেশ শুরু করতে শুরু করে। অব্যাহত পানি বৃদ্ধির কারণে আখাউড়া স্থলবন্দর এলাকার ব্যবসায়ীদের অফিস এবং আশে পাশের বাড়ি ঘরে পানি প্রবেশ করে। নির্মলাঞ্চলের ফসলের জমি,মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। ইতিমধ্যে আখড়া উপজেলার, দক্ষিণ ইউনিয়নের, আনোয়ারপুর, হিরাপুর, আব্দুল্লাহপুর, ধলেশ্বর, বঙ্গের চর, বাউতলা, বীরচন্দ্রপুর, সাহেব নগর, উমেদপুর ও বাউতলা এলাকার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একইভাবে আখাউড়া পৌর এলাকার, নারায়নপুর, তারাগন,ধাতুর পহেলা সহ বেশ কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছ। এছাড়া মোগড়া ইউনিয়নের কর্নেল বাজার, ও মনিয়ন্দ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি প্রবেশকরা বাড়ীঘরের বাসিন্দারা অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ ক্ষতিগ্রস্তরা জানান,পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ক্ষয় ক্ষতির পরিমান বৃদ্ধির পাওয়ার  পাশাপাশি দুর্ভোগের মাত্রা কয়েক গুণ বাড়বে।

আবদুল্লাহপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, অনেক কষ্ট করে এবং বেশি দামে জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। পাহাড়ি ঢলের পানিতে এখন সব তলিয়ে গেছে। পানি নেমে গেলে আবার কীভাবে নতুন করে ধান লাগাব, সেটাই বুঝতে পারছি না। সরকার যেন আমাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে।বীরচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক মনু মিয়াও একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, ধানের জমি পানির নিচে চলে গেছে। এভাবে পানি আরও বাড়তে থাকলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে। কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সরকারের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।রাজেন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক তাজুল ইসলাম জানান, হঠাৎ করে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকেননেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তার চারকানি ধানি ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, দ্রুত পানি নেমে গেলে জমিটি হয়তো রক্ষা পাবে। অন্যথায় তার অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে বলে জানান তিনি। আখাউড়া স্থলবন্দর এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মাহবুব মিয়া জানান, ভোররাতে আরে সর্বনাশা ঢলে আমাদের স্থলবন্দর  এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন দোকানে পানি প্রবেশ করেছে। পানি বাড়তে থাকলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়বে। আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুর রহিম মিয়া জানান, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢল, সীমান্তবর্তী নদী আখাউড়ার হাওড়া এবং দুটি খাল জাজি এবং কালন্দী খাল দিয়ে বানের পানি প্রবেশ করে আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।তারা বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। খবর পেয়ে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া বিভিন্ন এলাকা পরিবেশন করেছেন। তবে তিনি যাওয়ার পর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সীমান্তের ওপারে ভারী বৃষ্টি না হলে পানি কমে যাবে বলে জানান এই জনপ্রতিনিধি। তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নতুন করে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হবে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে বলে জানান তিনি।

এদিকে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া জানান। ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরোপন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মোট ৩২ পরিবার পানি বন্ধি রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৪ শত হক্টের ফসলি জমি পানির নিচে আছে। তিনি জানান, যেহেতু উজান থেকে নেমে আসা বানের পানি,দ্রুত সেই পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে। আর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ন গুলোকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেই সাথে শুকনো খাবার চাল চালসহ ত্রাণ সামগ্রী ওষুধ রাখা হয়েছে।

ট্যাগস

নিন্মমানের খাবার বিক্রি নওগাঁয় ৩ প্রতিষ্টান কে বিপুল টাকা জরিমানা

ভারতের পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৫ গ্রাম প্লাবিত

আপডেট সময় ০৬:৩৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার ১৫টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে কৃষিজমি, মাছের ঘের সহ বিভিন্ন শাখ সবজির জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যথেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে এ অবস্থা।

বানের পানি প্রবেশ করার কারণে নিন্মাঞ্চলের অনেকেই বাড়ীঘর ছেড়ে স্বজনদের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আশ্রয় কেন্দ্র ও ত্রান তৎপড়তার  সার্বিক বিষয় প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর সাথে কথা বলার সময় তারা জানান, আজ সোমবার ভোর রাত থেকে হঠাৎ করেই ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়া উপজেলার হাওড়া নদী, জাজির খাল এবং কালন্দী খাল দিয়ে হু হু করে পানি প্রবেশ শুরু করতে শুরু করে। অব্যাহত পানি বৃদ্ধির কারণে আখাউড়া স্থলবন্দর এলাকার ব্যবসায়ীদের অফিস এবং আশে পাশের বাড়ি ঘরে পানি প্রবেশ করে। নির্মলাঞ্চলের ফসলের জমি,মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। ইতিমধ্যে আখড়া উপজেলার, দক্ষিণ ইউনিয়নের, আনোয়ারপুর, হিরাপুর, আব্দুল্লাহপুর, ধলেশ্বর, বঙ্গের চর, বাউতলা, বীরচন্দ্রপুর, সাহেব নগর, উমেদপুর ও বাউতলা এলাকার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একইভাবে আখাউড়া পৌর এলাকার, নারায়নপুর, তারাগন,ধাতুর পহেলা সহ বেশ কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছ। এছাড়া মোগড়া ইউনিয়নের কর্নেল বাজার, ও মনিয়ন্দ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি প্রবেশকরা বাড়ীঘরের বাসিন্দারা অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ ক্ষতিগ্রস্তরা জানান,পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ক্ষয় ক্ষতির পরিমান বৃদ্ধির পাওয়ার  পাশাপাশি দুর্ভোগের মাত্রা কয়েক গুণ বাড়বে।

আবদুল্লাহপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, অনেক কষ্ট করে এবং বেশি দামে জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। পাহাড়ি ঢলের পানিতে এখন সব তলিয়ে গেছে। পানি নেমে গেলে আবার কীভাবে নতুন করে ধান লাগাব, সেটাই বুঝতে পারছি না। সরকার যেন আমাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে।বীরচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক মনু মিয়াও একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, ধানের জমি পানির নিচে চলে গেছে। এভাবে পানি আরও বাড়তে থাকলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে। কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সরকারের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।রাজেন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক তাজুল ইসলাম জানান, হঠাৎ করে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকেননেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তার চারকানি ধানি ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, দ্রুত পানি নেমে গেলে জমিটি হয়তো রক্ষা পাবে। অন্যথায় তার অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে বলে জানান তিনি। আখাউড়া স্থলবন্দর এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মাহবুব মিয়া জানান, ভোররাতে আরে সর্বনাশা ঢলে আমাদের স্থলবন্দর  এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন দোকানে পানি প্রবেশ করেছে। পানি বাড়তে থাকলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়বে। আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুর রহিম মিয়া জানান, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢল, সীমান্তবর্তী নদী আখাউড়ার হাওড়া এবং দুটি খাল জাজি এবং কালন্দী খাল দিয়ে বানের পানি প্রবেশ করে আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।তারা বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। খবর পেয়ে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া বিভিন্ন এলাকা পরিবেশন করেছেন। তবে তিনি যাওয়ার পর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সীমান্তের ওপারে ভারী বৃষ্টি না হলে পানি কমে যাবে বলে জানান এই জনপ্রতিনিধি। তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নতুন করে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হবে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে বলে জানান তিনি।

এদিকে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া জানান। ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরোপন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মোট ৩২ পরিবার পানি বন্ধি রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৪ শত হক্টের ফসলি জমি পানির নিচে আছে। তিনি জানান, যেহেতু উজান থেকে নেমে আসা বানের পানি,দ্রুত সেই পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে। আর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ন গুলোকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেই সাথে শুকনো খাবার চাল চালসহ ত্রাণ সামগ্রী ওষুধ রাখা হয়েছে।