ঢাকা ০৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ সম্মেলনে প্রতারকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

দুবাই পাঠানোর নামে জাল ভিসা দিয়ে নওগাঁয় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ

 দুবাইয়ে ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 
অর্থ ফেরত চাওয়ায় মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নওগাঁ শহরের পাটালির মোড় এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) সংবাদ সম্মেলনে ‘এমএস ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’ নামক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই প্রতারণার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা প্রতারক চক্রের সদস্যদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধারের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মো. আলতাব (পিতা: কছিমুদ্দীন, সাং: অত্রট শিবনগর, থানা: মান্দা, জেলা: নওগাঁ)। তিনি জানান, মো. সোহেল রানা নামের এক ব্যক্তি তাকে দুবাইয়ে উচ্চ বেতনের চাকরি ও ভিসা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতি ভিসার খরচ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে। সোহেল রানার কথায় বিশ্বাস করে আলতাব নিজেরসহ আরও ৪ জন—মোট ৫ জন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে সর্বমোট ১৮,০০,০০০/- (আঠারো লাখ) টাকা সংগ্রহ করে অভিযুক্ত চক্রের হাতে তুলে দেন।

অর্থ প্রদানকারী ৫ ভুক্তভোগীরা হলেন  মো. সোহেল রানা — ৪,৫০,০০০/- টাকা, মো. ইসমাইল আলী শাহ  ৫,৫০,০০০/- টাকা, মানিক কুমার — ৪,০০,০০০/- টাকা, মো. রাসেল — ২,০০,০০০/- টাকা, মো. শামিম হোসেন — ২,০০,০০০/- টাকা(সর্বমোট প্রদানকৃত অর্থ: ১৮,০০,০০০/- টাকা)।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, টাকা নেওয়ার পর প্রতারক চক্রটি ভুক্তভোগীদের ভুয়া ভিসা প্রদান করে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। গত ১৯ জুলাই ২০২৪ বিকেল আনুমানিক ৩:০০ ঘটিকায় ভুক্তভোগীরা নওগাঁ সদর থানাধীন আনন্দ নগরস্থ ‘এমএস ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’ অফিসে গিয়ে সঠিক ভিসা অথবা টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা মারাত্মক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

সে সময় চক্রের সদস্যরা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং উপস্থিত ভুক্তভোগীদের শারীরিক লাঞ্ছনা ও মারধর করে। একই সাথে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ইতিপূর্বে নওগাঁ সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কেবল এই ৫ জনই নন এই চক্রটি এলাকার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিস-মিমাংসার চেষ্টা করা হলেও প্রতারক চক্রটি তাতে সাড়া দেয়নি।চিহ্নিত অভিযুক্ত আসামি মো. সোহেল রানা (৪২), পিতা: মো. জালাল মহুরী, মো. শাহাদত হোসেন উজ্জ্বল (৪৫), পিতা: মো. জালাল মহুরী মো. মাহমুদুল হাসান খান (৩৬), পিতা: আলমগীর খান, মো. কামরুল হাসান (৪৫), পিতা: অজ্ঞাত(এছাড়া আরও ১০/১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি এই চক্রের সাথে জড়িত রয়েছে বলে জানানো হয়।)

পাটালির মোড়ের সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের আকুল আবেদন জানিয়ে ৩ দফা দাবি উত্থাপন করেন।  উক্ত প্রতারক চক্রের আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক। ভুক্তভোগীদের কষ্টার্জিত ১৮,০০,০০০/- টাকা অবিলম্বে ফেরতের প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

ট্যাগস

সংবাদ সম্মেলনে প্রতারকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

দুবাই পাঠানোর নামে জাল ভিসা দিয়ে নওগাঁয় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ

আপডেট সময় ০৬:০০:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

 দুবাইয়ে ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 
অর্থ ফেরত চাওয়ায় মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নওগাঁ শহরের পাটালির মোড় এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) সংবাদ সম্মেলনে ‘এমএস ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’ নামক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই প্রতারণার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা প্রতারক চক্রের সদস্যদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধারের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মো. আলতাব (পিতা: কছিমুদ্দীন, সাং: অত্রট শিবনগর, থানা: মান্দা, জেলা: নওগাঁ)। তিনি জানান, মো. সোহেল রানা নামের এক ব্যক্তি তাকে দুবাইয়ে উচ্চ বেতনের চাকরি ও ভিসা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতি ভিসার খরচ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে। সোহেল রানার কথায় বিশ্বাস করে আলতাব নিজেরসহ আরও ৪ জন—মোট ৫ জন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে সর্বমোট ১৮,০০,০০০/- (আঠারো লাখ) টাকা সংগ্রহ করে অভিযুক্ত চক্রের হাতে তুলে দেন।

অর্থ প্রদানকারী ৫ ভুক্তভোগীরা হলেন  মো. সোহেল রানা — ৪,৫০,০০০/- টাকা, মো. ইসমাইল আলী শাহ  ৫,৫০,০০০/- টাকা, মানিক কুমার — ৪,০০,০০০/- টাকা, মো. রাসেল — ২,০০,০০০/- টাকা, মো. শামিম হোসেন — ২,০০,০০০/- টাকা(সর্বমোট প্রদানকৃত অর্থ: ১৮,০০,০০০/- টাকা)।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, টাকা নেওয়ার পর প্রতারক চক্রটি ভুক্তভোগীদের ভুয়া ভিসা প্রদান করে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। গত ১৯ জুলাই ২০২৪ বিকেল আনুমানিক ৩:০০ ঘটিকায় ভুক্তভোগীরা নওগাঁ সদর থানাধীন আনন্দ নগরস্থ ‘এমএস ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’ অফিসে গিয়ে সঠিক ভিসা অথবা টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা মারাত্মক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

সে সময় চক্রের সদস্যরা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং উপস্থিত ভুক্তভোগীদের শারীরিক লাঞ্ছনা ও মারধর করে। একই সাথে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ইতিপূর্বে নওগাঁ সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কেবল এই ৫ জনই নন এই চক্রটি এলাকার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিস-মিমাংসার চেষ্টা করা হলেও প্রতারক চক্রটি তাতে সাড়া দেয়নি।চিহ্নিত অভিযুক্ত আসামি মো. সোহেল রানা (৪২), পিতা: মো. জালাল মহুরী, মো. শাহাদত হোসেন উজ্জ্বল (৪৫), পিতা: মো. জালাল মহুরী মো. মাহমুদুল হাসান খান (৩৬), পিতা: আলমগীর খান, মো. কামরুল হাসান (৪৫), পিতা: অজ্ঞাত(এছাড়া আরও ১০/১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি এই চক্রের সাথে জড়িত রয়েছে বলে জানানো হয়।)

পাটালির মোড়ের সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের আকুল আবেদন জানিয়ে ৩ দফা দাবি উত্থাপন করেন।  উক্ত প্রতারক চক্রের আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক। ভুক্তভোগীদের কষ্টার্জিত ১৮,০০,০০০/- টাকা অবিলম্বে ফেরতের প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।