ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক চরম উত্তেজনার দিকে এগোচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কঠোর বক্তব্যের পর আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইরানের সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। দেশটির শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব জানায়, যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একই সঙ্গে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তার প্রভাব শুধু ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; পুরো অঞ্চলই অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানে নিহতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ওয়াশিংটনের ক্ষোভ তীব্র হয়েছে।
ট্রাম্প প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে যুক্তরাষ্ট্র শক্ত জবাব দেবে। সম্প্রতি এক তরুণ বিক্ষোভকারীকে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ইউরোপীয় কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসন এবার কেবল হুমকিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইতিমধ্যে ইরানের পরমাণু স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সাইবার অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার বিভিন্ন পরিকল্পনা হোয়াইট হাউসের কাছে উপস্থাপন করেছে বলে জানা গেছে।
যুদ্ধের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটি থেকে সেনা সদস্যদের আংশিকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কাতারসহ গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলোতে নিরাপত্তা সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বাতিল হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বিদেশি কোনো হামলার মুখে দেশ একচুলও পিছু হটবে না।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দ্রুত বিচারের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে।
এই উত্তেজনা নিয়ে বিশ্বশক্তিগুলোও অবস্থান স্পষ্ট করছে। রাশিয়া ও চীন সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। মস্কো সতর্ক করে বলেছে, ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কৌশলগত ভুল হতে পারে। তুরস্কও সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি স্থল অভিযান এড়িয়ে সীমিত পরিসরের ড্রোন বা বিমান হামলার পথ বেছে নিতে পারে। তবে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপই মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন করে বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে- এ নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক ডেক্স: 




















