বিশ্বভ্রমণের অংশ হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপের মূল ট্রফি আগামীকাল বুধবার ঢাকায় আসছে। ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই ট্রফির আগমন ঘিরে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও, সবাই সরাসরি ট্রফিটি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন না।
কেবল কোকা-কোলার ‘আন্ডার দ্য ক্যাপ’ প্রোমোশনাল ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করে নির্বাচিত বিজয়ীরাই ট্রফিটি কাছ থেকে দেখা এবং এর সঙ্গে ছবি তোলার এক্সক্লুসিভ সুযোগ পাবেন। এই ক্যাম্পেইনটি শেষ হয় গত ৮ জানুয়ারি। নির্দিষ্ট প্রোমোশনাল বোতল কিনে কিউআর কোড স্ক্যান এবং ফিফা-থিমভিত্তিক কুইজে অংশ নিয়ে বিজয়ীরা এই বিশেষ পাস অর্জন করেন।
এর আগে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর বাই কোকা-কোলার ষষ্ঠ আসরের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় গত শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে। ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপজয়ী ইতালিয়ান কিংবদন্তি ফুটবলার আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো এই বিশ্বভ্রমণের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সৌদি আরব ফুটবল ফেডারেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ভিআইপিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ ট্রফি ট্যুর বিমানে করে রিয়াদে পৌঁছানোর পর দেল পিয়েরো বিমানবন্দরের টারমাকে বিশ্বকাপ ট্রফি উন্মোচন করেন। পরে তিনি একটি ফুটবল ক্লিনিকে অংশ নেন, যেখানে তরুণ শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান ও বিভিন্ন ফুটবল কার্যক্রম পরিচালনা করেন। কিংবদন্তি ফুটবলার ও বিশ্বকাপ ট্রফির উপস্থিতিতে শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
দিনের শেষভাগে রিয়াদের একটি বড় শপিং মলে সাধারণ দর্শকদের জন্য আয়োজন করা হয় পাবলিক ফ্যান ইভেন্ট। সেখানে শত শত ফুটবলপ্রেমী ও গণমাধ্যমকর্মীর সামনে প্রদর্শন করা হয় ফিফা বিশ্বকাপের মূল ট্রফি।
এই ট্রফি ট্যুরে ফিফা বিশ্বকাপের মূল ট্রফিটি ৩০টি ফিফা সদস্য দেশের ৭৫টি গন্তব্যে ভ্রমণ করবে। ১৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সফরের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে হাজারো ফুটবলপ্রেমী জীবনে একবার হলেও কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবেন ফুটবলের সর্বোচ্চ পুরস্কারটি।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—এই তিন দেশ যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। এবারের আসরে অংশ নেবে ৪৮টি দল এবং অনুষ্ঠিত হবে রেকর্ড ১০৪টি ম্যাচ।
কোকা-কোলার গ্লোবাল অ্যাসেটস, ইনফ্লুয়েন্সার ও পার্টনারশিপস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মিকায়েল ভিনে বলেন, ফুটবল এমন একটি খেলা যা ভাষা ও সীমান্তের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষকে একত্রিত করে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর বাই কোকা-কোলা বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের এই আবেগের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে।
ফিফার চিফ বিজনেস অফিসার রোমি গাই বলেন, ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি খেলাধুলার জগতে সর্বোচ্চ সম্মানের প্রতীক। কোকা-কোলার সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বিশ্বকাপের উত্তেজনা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
সংক্ষিপ্ত এই সফর হলেও ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির ঢাকায় আগমন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য নিঃসন্দেহে এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।

স্টাফ রিপোর্টার: 




















