ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নজিপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা জরাজীর্ণ হাজারো মানুষের ভোগান্তি

বরেন্দ্র জনপদের শান্ত–স্নিগ্ধ একটি এলাকা পত্নীতলার নজিপুর। অথচ এই নীরবতার মাঝেই লুকিয়ে আছে বহুদিনের চেপে রাখা কষ্ট—নজিপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তাটি যেন দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ, সরকারি নানা সেবা—সবকিছুর যাতায়াতের একমাত্র পথ এই সড়ক। বছরের পর বছর অযত্নে পড়ে থেকে এখন সে পথ প্রায় চলাচল-অযোগ্য।

জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোর সময় ছবিটা আরও বেদনাদায়ক। বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি কিংবা বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল—হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসে এ স্কুলমাঠে। মানুষের ভিড়ে মাঠ যেন উৎসব আর ঐতিহ্যের মিলনস্থল। কিন্তু বাইরে বেরুলেই সামনে দাঁড়িয়ে যায় সেই ভাঙা রাস্তার নির্মম বাস্তবতা। গর্ত, ভাঙা বিটুমিন, ধুলাবালি—এ যেন এলাকার মানুষের দীর্ঘশ্বাসের প্রতিধ্বনি।

হাই স্কুল পাড়ার বাসিন্দা, ব্যাংক কর্মকর্তা মোঃ নাহিদ চৌধুরীর কথায় উঠে আসে প্রতিদিনের দুঃসহ অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, “বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে গাড়িতে যেতে হলে এমনভাবে ঝাঁকুনি খেতে হয় যে শরীরই ব্যথায় ভরে যায়। রাস্তাটা এত খারাপ যে চলাচল করাই কষ্টকর।”

তাঁর চোখে আরেকটি দুশ্চিন্তা—রাস্তা বেহাল হওয়ায় পাশের বড় মাঠের একাংশ এখন মানুষ বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার শুরু করেছে। ফলে মাঠটি ধীরে ধীরে খেলাধুলার অযোগ্য হয়ে পড়ছে। শিশু-কিশোরদের স্বপ্নবোনা খেলাঘর হারিয়ে যেতে বসেছে নোনাধরা মাটির নিচে।

এ এলাকায় এই স্কুল শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; ইতিহাস, ঐতিহ্য, স্মৃতি আর মানুষের আবেগের ঠিকানা। সেই প্রতিষ্ঠানের সামনে এমন বেহাল রাস্তা এখন এলাকার মর্যাদায়ই যেন আঘাত হানছে। তাই এলাকাবাসীর দাবি—অবিলম্বে এই রাস্তাটির সংস্কার করা হোক। রাস্তা ভালো হলে শুধু চলাচলই সহজ হবে না, ফিরে আসবে এলাকার সৌন্দর্য, সুরক্ষা, আর স্কুলের মাঠে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে শিশুদের দৌড়ঝাঁপ।

একটি রাস্তার উন্নয়ন কখনো শুধু ইট-বালুর কাজ নয়; সেটা মানুষের জীবনমান, গৌরব আর নিরাপত্তার প্রতিফলন। নজিপুরবাসীর আশা—দীর্ঘ দিনের দুর্ভোগ কাটিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে এলাকার চেহারা পাল্টে যাবে, আর শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাত্রা হবে স্বস্তির।

ট্যাগস

নজিপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা জরাজীর্ণ হাজারো মানুষের ভোগান্তি

আপডেট সময় ০৮:২৯:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

বরেন্দ্র জনপদের শান্ত–স্নিগ্ধ একটি এলাকা পত্নীতলার নজিপুর। অথচ এই নীরবতার মাঝেই লুকিয়ে আছে বহুদিনের চেপে রাখা কষ্ট—নজিপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তাটি যেন দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ, সরকারি নানা সেবা—সবকিছুর যাতায়াতের একমাত্র পথ এই সড়ক। বছরের পর বছর অযত্নে পড়ে থেকে এখন সে পথ প্রায় চলাচল-অযোগ্য।

জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোর সময় ছবিটা আরও বেদনাদায়ক। বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি কিংবা বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল—হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসে এ স্কুলমাঠে। মানুষের ভিড়ে মাঠ যেন উৎসব আর ঐতিহ্যের মিলনস্থল। কিন্তু বাইরে বেরুলেই সামনে দাঁড়িয়ে যায় সেই ভাঙা রাস্তার নির্মম বাস্তবতা। গর্ত, ভাঙা বিটুমিন, ধুলাবালি—এ যেন এলাকার মানুষের দীর্ঘশ্বাসের প্রতিধ্বনি।

হাই স্কুল পাড়ার বাসিন্দা, ব্যাংক কর্মকর্তা মোঃ নাহিদ চৌধুরীর কথায় উঠে আসে প্রতিদিনের দুঃসহ অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, “বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে গাড়িতে যেতে হলে এমনভাবে ঝাঁকুনি খেতে হয় যে শরীরই ব্যথায় ভরে যায়। রাস্তাটা এত খারাপ যে চলাচল করাই কষ্টকর।”

তাঁর চোখে আরেকটি দুশ্চিন্তা—রাস্তা বেহাল হওয়ায় পাশের বড় মাঠের একাংশ এখন মানুষ বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার শুরু করেছে। ফলে মাঠটি ধীরে ধীরে খেলাধুলার অযোগ্য হয়ে পড়ছে। শিশু-কিশোরদের স্বপ্নবোনা খেলাঘর হারিয়ে যেতে বসেছে নোনাধরা মাটির নিচে।

এ এলাকায় এই স্কুল শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; ইতিহাস, ঐতিহ্য, স্মৃতি আর মানুষের আবেগের ঠিকানা। সেই প্রতিষ্ঠানের সামনে এমন বেহাল রাস্তা এখন এলাকার মর্যাদায়ই যেন আঘাত হানছে। তাই এলাকাবাসীর দাবি—অবিলম্বে এই রাস্তাটির সংস্কার করা হোক। রাস্তা ভালো হলে শুধু চলাচলই সহজ হবে না, ফিরে আসবে এলাকার সৌন্দর্য, সুরক্ষা, আর স্কুলের মাঠে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে শিশুদের দৌড়ঝাঁপ।

একটি রাস্তার উন্নয়ন কখনো শুধু ইট-বালুর কাজ নয়; সেটা মানুষের জীবনমান, গৌরব আর নিরাপত্তার প্রতিফলন। নজিপুরবাসীর আশা—দীর্ঘ দিনের দুর্ভোগ কাটিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে এলাকার চেহারা পাল্টে যাবে, আর শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাত্রা হবে স্বস্তির।