ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাতের অন্ধকারে নয়, আমরা স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দিতে চাই: সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আশ্বস্ত করেছেন যে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরাপদ ও স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত হবে। রোববার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি উন্মুক্ত তথ্যপ্রবাহ ও পরিচ্ছন্ন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, “আমরা ইন্টারনেট বন্ধের পক্ষে নই। তথ্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকুক, এটাই চাই। আমরা জাতিকে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দিতে চাই।” তিনি আরও বলেন, “আমরা রাতের অন্ধকারে ভোট চাই না। এমন নির্বাচন চাই, যা সবার চোখের সামনে স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত হবে।”

সভায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। সিইসি পাহাড়ি এলাকায় সাম্প্রতিক সহিংসতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারসহ নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও কথা বলেন।

এনসিপির নির্বাচনী প্রতীক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যে কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে আমাদের প্রদত্ত তালিকা থেকে প্রতীক বেছে নিতে হবে। যেহেতু এনসিপি যে প্রতীকটি চেয়েছে, সেটি তালিকায় নেই, তাই আমরা সেটি বরাদ্দ দিতে পারিনি।” প্রতীক পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধিত তালিকার মধ্য থেকেই প্রতীক নিতে হয়। এখন পর্যন্ত তালিকার বাইরে কোনো প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়নি।”

এনসিপি নেতৃত্বের শুধুমাত্র ‘শাপলা’ প্রতীকেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনড় অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এনসিপির নেতারা ২০২৪ সালের আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। আমি তাঁদের দেশপ্রেমিক মনে করি—যারা গণতন্ত্র ও দেশের কল্যাণ চান। আমি বিশ্বাস করি তারা সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন নির্বাচন নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করবেন।”

সাংবাদিকদের বিষয়ে সিইসি বলেন, “সাংবাদিকদের জন্য কোনো বাধা সৃষ্টি করার ইচ্ছা আমাদের নেই। আমরা সাংবাদিকদের সহযোগী হিসেবে চাই। কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনা প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই করে নিন।”

ভোটার অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে প্রতিটি বাংলাদেশি ভোট দিতে পারবেন। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে, যা আগে ছিল না।”

অবৈধ অস্ত্র বিষয়ে সিইসি বলেন, “অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা নির্বাচন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভোটের সময় অস্ত্রের অপব্যবহার ঠেকাতে কাজ করছে।”

তিনি বলেন, “আমরা চট্টগ্রামের ভোটের ইতিহাস বদলাতে চাই—একটি স্বাধীন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে চাই।”

ট্যাগস

রাতের অন্ধকারে নয়, আমরা স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দিতে চাই: সিইসি

আপডেট সময় ০৫:১৫:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আশ্বস্ত করেছেন যে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরাপদ ও স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত হবে। রোববার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি উন্মুক্ত তথ্যপ্রবাহ ও পরিচ্ছন্ন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, “আমরা ইন্টারনেট বন্ধের পক্ষে নই। তথ্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকুক, এটাই চাই। আমরা জাতিকে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দিতে চাই।” তিনি আরও বলেন, “আমরা রাতের অন্ধকারে ভোট চাই না। এমন নির্বাচন চাই, যা সবার চোখের সামনে স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত হবে।”

সভায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। সিইসি পাহাড়ি এলাকায় সাম্প্রতিক সহিংসতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারসহ নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও কথা বলেন।

এনসিপির নির্বাচনী প্রতীক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যে কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে আমাদের প্রদত্ত তালিকা থেকে প্রতীক বেছে নিতে হবে। যেহেতু এনসিপি যে প্রতীকটি চেয়েছে, সেটি তালিকায় নেই, তাই আমরা সেটি বরাদ্দ দিতে পারিনি।” প্রতীক পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধিত তালিকার মধ্য থেকেই প্রতীক নিতে হয়। এখন পর্যন্ত তালিকার বাইরে কোনো প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়নি।”

এনসিপি নেতৃত্বের শুধুমাত্র ‘শাপলা’ প্রতীকেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনড় অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এনসিপির নেতারা ২০২৪ সালের আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। আমি তাঁদের দেশপ্রেমিক মনে করি—যারা গণতন্ত্র ও দেশের কল্যাণ চান। আমি বিশ্বাস করি তারা সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন নির্বাচন নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করবেন।”

সাংবাদিকদের বিষয়ে সিইসি বলেন, “সাংবাদিকদের জন্য কোনো বাধা সৃষ্টি করার ইচ্ছা আমাদের নেই। আমরা সাংবাদিকদের সহযোগী হিসেবে চাই। কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনা প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই করে নিন।”

ভোটার অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে প্রতিটি বাংলাদেশি ভোট দিতে পারবেন। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে, যা আগে ছিল না।”

অবৈধ অস্ত্র বিষয়ে সিইসি বলেন, “অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা নির্বাচন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভোটের সময় অস্ত্রের অপব্যবহার ঠেকাতে কাজ করছে।”

তিনি বলেন, “আমরা চট্টগ্রামের ভোটের ইতিহাস বদলাতে চাই—একটি স্বাধীন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে চাই।”