ঢাকা ০৬:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিঙ্গাপুরের তরুণরা দীর্ঘ সময় পরিবারের সঙ্গে থাকতে চান না

আন্তর্জাতিক ডেক্স : মনে হতেই পারে সিঙ্গাপুর অবিবাহিতদের জন্য স্বর্গ। তরুণরা বিনাভাড়ার বাড়িতে থাকতে পারেন, কাজের লোকের সহায়তার জন্য অপেক্ষা করতে পারেন কিংবা মাঝে মাঝে জীবনটাকে অন্যভাবে উপভোগ করতে পারেন।

এ আরামপ্রদ জীবনের মাঝে গোপন বিষয়টি হলো তারা যদি বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতে পারেন বা তাদের অনেকেই ৩০ বছরের মধ্যে ভালো কিছু করতে পারেন। আর সরকার তাদের পরিবারের মূল্য বুঝতে উৎসাহিত করে।

সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ওয়ে-জুন জিন ইয়ুং বলেন, আবাসননীতি তরুণদের জন্য এক ধরনের জটিলতা তৈরি করেছে। দেশটির ৮০ ভাগ লোক সরকারের ভর্তুকি দেওয়া বাড়িতে বসবাস করে। কিন্তু একজন তরুণ ৩৫ বছর বয়স না হলে কিংবা বিয়ে না করলে বাড়ি পাবেন না।

দেশটিতে ১৯৯০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৩৫ বছরের নিচে তরুণ, যারা একাই বাস করছে অথবা পরিবারের বাইরের লোকজনের সঙ্গে বসবাস করছে তাদের সংখ্যা ৩৩ হাজার চারশ থেকে ৫১ হাজার তিনশ’তে এসে দাঁড়িয়েছে। তারা সরকারি বাড়ি পাওয়ার জন্য যোগ্য বিবেচিত হননি, বাধ্য হয়ে ব্যক্তিগত খরচে থাকছেন।

আবাসন প্রকল্পের সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, ২০১৪ সালে গড়ে ৯০ জন ভাড়াটিয়া ছিল। ২০১৯ সালে এসে সেখানে ৬৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। যাদের বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।

এটি একটি বড় কারণ হতে পারে যে সিঙ্গাপুরের তরুণরা দেরিতে বিয়ে করেন। ১৯৮০ সালে যেখানে তরুণ-তরুণীরা ২৪ থেকে ২৭ বছরের মধ্যে বিয়ে করেন সেটি এখন ২৯ থেকে ৩০ বছরে চলে এসেছে। অনেক তরুণ এটাও মনে করেন বিয়েই সব সমস্যার সমাধান নয়। আবার সিঙ্গাপুরে সমকামী বিয়েও বৈধ নয়।

এছাড়া করোনা মহামারিও তাদের ঘর থেকে বের হওয়ার প্রবণতা তৈরি করছে। কারণ করোনায় সবকিছুতে নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে অনেকে হতাশায় ভুগছেন।

অন্যদিকে, প্রথমত তরুণদের বাবা-মাকে অবহিত করতে হয় সবকিছুর জন্য। দ্বিতীয়ত তাদের অবশ্যই নিজের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে সব কাজে।

তবে আলাদা থাকার কারণে সম্পর্ক আরও ভালো হতে পারে এমনটা ভাবছেন কেউ কেউ। এরকম এক দম্পতি বলেন, তারা বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা হওয়ার পর সর্ম্পক আরও ভালো হয়েছে। সর্ম্পক শীতল হয়ে গেলে তারা আবার মনোযোগী হতে পারেন। প্রতি সপ্তাহে বাবা-মা দেখতে আসলে তারা দু’জনই খুশি হন। ভালো সময় কাটাতে পারেন।

বাবা-মা সারাজীবন সন্তানকে বাচ্চা মনে করেন। কিন্তু যখন তারা দেখতে পান তাদের সন্তানরা সবকিছু নিজেই করছে তখন এটা বিশ্বাস করতে পারেন যে তারা আসলে সবকিছু করতে পারে।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট

ট্যাগস

সিঙ্গাপুরের তরুণরা দীর্ঘ সময় পরিবারের সঙ্গে থাকতে চান না

আপডেট সময় ১১:৫৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ অগাস্ট ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেক্স : মনে হতেই পারে সিঙ্গাপুর অবিবাহিতদের জন্য স্বর্গ। তরুণরা বিনাভাড়ার বাড়িতে থাকতে পারেন, কাজের লোকের সহায়তার জন্য অপেক্ষা করতে পারেন কিংবা মাঝে মাঝে জীবনটাকে অন্যভাবে উপভোগ করতে পারেন।

এ আরামপ্রদ জীবনের মাঝে গোপন বিষয়টি হলো তারা যদি বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতে পারেন বা তাদের অনেকেই ৩০ বছরের মধ্যে ভালো কিছু করতে পারেন। আর সরকার তাদের পরিবারের মূল্য বুঝতে উৎসাহিত করে।

সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ওয়ে-জুন জিন ইয়ুং বলেন, আবাসননীতি তরুণদের জন্য এক ধরনের জটিলতা তৈরি করেছে। দেশটির ৮০ ভাগ লোক সরকারের ভর্তুকি দেওয়া বাড়িতে বসবাস করে। কিন্তু একজন তরুণ ৩৫ বছর বয়স না হলে কিংবা বিয়ে না করলে বাড়ি পাবেন না।

দেশটিতে ১৯৯০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৩৫ বছরের নিচে তরুণ, যারা একাই বাস করছে অথবা পরিবারের বাইরের লোকজনের সঙ্গে বসবাস করছে তাদের সংখ্যা ৩৩ হাজার চারশ থেকে ৫১ হাজার তিনশ’তে এসে দাঁড়িয়েছে। তারা সরকারি বাড়ি পাওয়ার জন্য যোগ্য বিবেচিত হননি, বাধ্য হয়ে ব্যক্তিগত খরচে থাকছেন।

আবাসন প্রকল্পের সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, ২০১৪ সালে গড়ে ৯০ জন ভাড়াটিয়া ছিল। ২০১৯ সালে এসে সেখানে ৬৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। যাদের বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।

এটি একটি বড় কারণ হতে পারে যে সিঙ্গাপুরের তরুণরা দেরিতে বিয়ে করেন। ১৯৮০ সালে যেখানে তরুণ-তরুণীরা ২৪ থেকে ২৭ বছরের মধ্যে বিয়ে করেন সেটি এখন ২৯ থেকে ৩০ বছরে চলে এসেছে। অনেক তরুণ এটাও মনে করেন বিয়েই সব সমস্যার সমাধান নয়। আবার সিঙ্গাপুরে সমকামী বিয়েও বৈধ নয়।

এছাড়া করোনা মহামারিও তাদের ঘর থেকে বের হওয়ার প্রবণতা তৈরি করছে। কারণ করোনায় সবকিছুতে নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে অনেকে হতাশায় ভুগছেন।

অন্যদিকে, প্রথমত তরুণদের বাবা-মাকে অবহিত করতে হয় সবকিছুর জন্য। দ্বিতীয়ত তাদের অবশ্যই নিজের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে সব কাজে।

তবে আলাদা থাকার কারণে সম্পর্ক আরও ভালো হতে পারে এমনটা ভাবছেন কেউ কেউ। এরকম এক দম্পতি বলেন, তারা বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা হওয়ার পর সর্ম্পক আরও ভালো হয়েছে। সর্ম্পক শীতল হয়ে গেলে তারা আবার মনোযোগী হতে পারেন। প্রতি সপ্তাহে বাবা-মা দেখতে আসলে তারা দু’জনই খুশি হন। ভালো সময় কাটাতে পারেন।

বাবা-মা সারাজীবন সন্তানকে বাচ্চা মনে করেন। কিন্তু যখন তারা দেখতে পান তাদের সন্তানরা সবকিছু নিজেই করছে তখন এটা বিশ্বাস করতে পারেন যে তারা আসলে সবকিছু করতে পারে।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট