ঢাকা ০১:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ :
Logo নওগাঁর আত্রাইয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা ভাঙচুর হত্যা চেষ্টার অভিযোগ   Logo হবিগঞ্জে ছাত্রদল সভাপতিসহ ১’শ জনকে আসামি করে মামলা, ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার Logo চুয়েটে পুকুরে গোসল করতে নেমে শিক্ষার্থীর মৃত্যু Logo দুবাই পাঠানোর নামে জাল ভিসা দিয়ে নওগাঁয় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ Logo রাষ্ট্রপতি হওয়ার খবর গুজব, বললেন মির্জা ফখরুল Logo নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে আবু বকর-বেলাল Logo নওগাঁয় মাদকের টাকা না পেয়ে  পিতাকে খুন করলো ছেলে Logo নওগাঁয় সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রীকে অপহরণ ৩ সপ্তাহে হয়নি উদ্ধার Logo নওগাঁয় আদালতের নির্দেশে কবর ১০ মাস পর শিশুর লাশ উত্তোলন Logo নওগাঁয় ক্লাসরুমের ছাদ ধসে ৭ শিক্ষার্থী আহত

চীনের যে তিনটি অস্ত্র ভারতের প্রধান চিন্তার কারণ!

চীনের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ  গত ৪৫ বছরে প্রথমবারের মতো সীমান্তে ভারত ও চীনের সামরিক সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশ দুটির সম্পর্ক।

লাদাখ সীমান্তে গলওয়ান উপত্যকায় চীনা সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর সতর্ক অবস্থানে আছে দুই দেশের সেনারা। পিছু হটে যাওয়ার কথা বলেও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ক্রমশ সেনা সরঞ্জাম মজুত করছে দুই দেশ।

লাদাখ সীমান্তে ইতোমধ্যে অত্যাধুনিক মিসাইল সিস্টেম, ট্যাংক, কামান মজুত করেছে ভারত। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই চীনও। এবার তারাও নিজেদের প্রধান প্রধান অস্ত্রগুলোকে শানিয়ে নিতে শুরু করেছে।

এবার সত্যিই যদি যুদ্ধ লেগে গেলে চীন-ভারতের মধ্যে কে জিতবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে চীনের যে তিনটি অস্ত্র ভারতের প্রধান চিন্তার কারণ আজ সেগুলো নিয়েই আলোচনা করা হচ্ছে।

চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া, এই তিনটি দেশই বর্তমান বিশ্বে এক অস্ত্র প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছে।

অভ্যন্তরীণ সমস্যা আর সমুদ্র সীমা নিয়ে ভৌগলিক দ্বন্দ্বের কারণে নব্বুই দশকের শুরু থেকেই দেশটির সামরিক বাহিনী, পিপলস’স লিবারেশন আর্মিকে আধুনিক করে তৈরির করতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে চীন।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট শী জিনপিংয়ের আমলে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গে তাদের সামরিক ক্ষমতার পার্থক্য দ্রুত কমে আসছে এবং দেশটি দ্রুত বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশগুলোর একটি হয়ে উঠছে।

‘চীনের দুই সংখ্যার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্প্রতি কমে এসেছে, কিন্তু দেশটি সামরিক শক্তিকে আধুনিকায়ন করার পাঁচ বছরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যেতে তারা এখনো সক্ষম’- যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা প্রতিরক্ষা সংস্থার একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমনটা বলা হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, প্রযুক্তির নানা ধরণের ব্যবহার দেশটির সামরিক বাহিনীকে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক কিছু অস্ত্র সম্ভারের মালিক করে তুলছে। অনেকগুলো ক্ষেত্রে দেশটি এর মধ্যেই বিশ্বের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছে গেছে।

এখানে চীনের সবচেয়ে আধুনিক কিছু অস্ত্রের বিবরণ তুলে ধরা হলো, যেগুলো বর্তমান অস্ত্র প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে বড় ধরণের ভূমিকা রাখতে চলেছে।

১. নৌবাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র

২০১৮ সালে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত কিছু ছবি থেকে ধারণা করা হচ্ছে, চীন হয়তো এমন যুদ্ধজাহাজে স্থাপন করার উপযোগী এমন অস্ত্র তৈরি-

করেছে যেটি শব্দের পাঁচগুণ গতিতে (হাইপারসনিক স্পিড) গুলি ছুড়তে পারে। অনেকদিন ধরেই বিশ্বের অনেক দেশ এমন অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে।

‘রেলগান’ নামের এই অস্ত্রটি সেকেন্ড আড়াই কিলোমিটার গতিতে গুলি ছুড়তে পারে, যেগুলো দুইশও কিলোমিটার দূরের লক্ষবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেখানে বলা হয়, ওই অস্ত্রটি ২০২৫ সালের মধ্যে যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে।

যখন এ ধরণের অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র আর রাশিয়া, এমনকি ইরানেরও এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ রয়েছে, তখন হয়তো প্রথম দেশ হিসাবে চীনই তাদের যুদ্ধজাহাজে অস্ত্রটি সংযোজন করবে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ওই ছবি-যেটি বিবিসি নিজে যাচাই করে দেখতে পারেনি- দেখা যাচ্ছে যে অস্ত্রটি সাগরে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় পত্রিকা গ্লোবাল টাইমসের তথ্য মতে, চীনে তৈরি প্রথম ১০হাজার টন ক্লাস মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ০৫৫-এ ওই অস্ত্রটি প্রথম স্থাপন করা হবে।

সামরিক বিশ্লেষক এবং সাবেক পিএলএ সদস্য সঙ জনপিং সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক প্রযুক্তির সমকক্ষ হয়ে ওঠার জন্য চীন কোন চেষ্টাই বাদ রাখেনি।

বরং ওই ছবি দেখে মনে করা যায়, যে, চীন জাহাজে বসানো রেলগানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু যে ধরেই ফেলেছে তা নয়, বরং আগামী পাঁচ দশ বছরের মধ্যে হয়তো ছাড়িয়েও যাবে।

এর কারণ, বাজেট অনুমোদন পেতেই যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সময় চলে যায়, যখন চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এরকম প্রকল্পে সহজেই অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ হয়ে যায়।

২. হাইপারসনিক অস্ত্র

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবর অনুযায়ী, ২০১৮ সালের অগাস্টে চীন ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা এমন একটি হাইপারসনিক বিমান পরীক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে, যেটি বিশ্বের যে কোনো মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেদ করতে সক্ষম।

এটি এমন একটি ‘ওয়েভ রাইডার’ বিমান যেটি, যেটি নিজের তৈরি করা শব্দের ধাক্কা ব্যবহার করে বায়ুমণ্ডলে দ্রুত গতিতে ভেসে বেড়াতে পারে।

পরীক্ষায় জিংকং-২ (আকাশের আতংক-২) নামের চীনের ওয়েভ রাইডার বিমানটি ৩২০ কিলোমিটার উঁচুতে উঠে ঘণ্টায় ৭.৩৪৪ কিলোমিটার গতিতে ভেসে বেড়ায়।

তবে এই বিমানটি চীনের প্রথম হাইপারসনিক বিমান নয়-২০১৪ সাল থেকেই দেশটি বায়ুমণ্ডলে ভেসে থাকা বিমান পরীক্ষা করে যাচ্ছে-কিন্তু এই প্রথমবার-

তারা এমন একটি বিমান তৈরি করেছে যেটি ওয়েভ রাইডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে। রাশিয়া আর যুক্তরাষ্ট্র হাইপারসনিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের তথ্য মতে, যখন পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে, তখন এই ওয়েভ রাইডারগুলো বোমা নিয়ে বর্তমান বিশ্বের যেকোনো মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে যেতে পারবে।

তবে বেইজিংয়ের সামরিক বিশ্লেষক যোউ চেনমিং ওই পত্রিকাকে বলেছেন, চীনের ওয়েভ রাইডারগুলো সম্ভবত পারমাণবিক অস্ত্রের বদলে প্রচলিত বোমাগুলো বহনে ব্যবহৃত হবে।

তিনি আরও বলেন, আমার মতে, এই প্রযুক্তি বোমা বহনে সক্ষম হয়ে উঠতে এখনো তিন থেকে পাঁচবছর সময় লাগবে।

হ্যারি হ্যারিস বলছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত আধুনিক অস্ত্রের পেছনে আরও বিনিয়োগ করা, যাতে পিছিয়ে থাকতে না হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল হ্যারি হ্যারিস মার্কিন কংগ্রেসে বলেছেন, হাইপারসনিক অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিযোগীদের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়ছে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, এমনটাও হতে পারে যে, চীন মিসাইল ছুড়েছে এবং ভারতের রাডার সেগুলো সনাক্ত করার আগেই-

শত্রুপক্ষের ভূখণ্ডে তা আঘাত করেছে। তাই আমাদের উচিত নিজস্ব হাইপারসনিক অস্ত্র তৈরিতে উঠেপড়ে কাজ শুরু করা।

২০১৭ সালে হাইপারসনিক মিসাইল – ডিএফ-১৭ তৈরির ঘোষণা দেয় চীন, যেটি ১৮০০ থেকে ২০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম।

৩. চীনের ‘সব বোমার মা’

গত মাসে নতুন ধরণের একটি বিশাল বোমার প্রদর্শন করেছে চীন, যাকে বলা হচ্ছে চীনের ‘সব বোমার মা’। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসিভ অর্ডিন্যান্স এয়ার ব্লাস্টের মতো যেটিকে বর্ণনা করা হচ্ছে।

প্রচারণা ভিডিওতে চীনের অস্ত্র তৈরির প্রধান কোম্পানি নোরিনকো দেখিয়েছে, এইচ-সিকে বোমারু বিমান থেকে বোমাটি ফেলা হচ্ছে এবং বড় ধরণের বিস্ফোরণ ঘটছে তার বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া বলছে, ওই বোমাটি হচ্ছে চীনের পারমাণবিক অস্ত্রের বাইরে সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা এবং এটি এতো বড় যে, একটি এইচ-৬কে বোমারু বিমান একেকবারে মাত্র একটি বোমাই বহন করতে পারে।

বেইজিংয়ের সামরিক বিশ্লেষক ওয়েই ডংজু গ্লোবাল টাইমসকে বলেছেন, তুলনা করা হলেও, চীনের বোমাটি আমেরিকান এ ধরণের বোমার তুলনায় খানিকটা ছোট।

তিনি ধারণা করেন, চীনের বোমাটি প্রায় পাঁচ ছয় মিটার লম্বা- অথচ আমেরিকান বোমাটি প্রায় ১০ মিটার লম্বা এবং হালকা, যার ফলে সেটি বহন করা সহজ।

ওয়েই বলছেন, এই বিশাল বোমার বিস্ফোরণে বিশাল ভবন, ঘাটি বা প্রতিরক্ষা কেন্দ্রগুলো একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে। ২০১৭ আফগানিস্তানের ইসলামিক স্টেটের গুহাগুলোর ওপর এ ধরণের একটি বোমা ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

রাশিয়ারও এ ধরণের বোমা রয়েছে- যাকে বলা হয় ‘সব বোমার বাবা”। এটা আমেরিকান বোমাটি চেয়ে আকারে বড় এবং যখন ফেলা হয়, তখন শক ওয়েভের বদলে আগুনের কুণ্ড তৈরি করে।

 

ট্যাগস

নওগাঁর আত্রাইয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা ভাঙচুর হত্যা চেষ্টার অভিযোগ  

চীনের যে তিনটি অস্ত্র ভারতের প্রধান চিন্তার কারণ!

আপডেট সময় ০১:২৭:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ  গত ৪৫ বছরে প্রথমবারের মতো সীমান্তে ভারত ও চীনের সামরিক সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশ দুটির সম্পর্ক।

লাদাখ সীমান্তে গলওয়ান উপত্যকায় চীনা সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর সতর্ক অবস্থানে আছে দুই দেশের সেনারা। পিছু হটে যাওয়ার কথা বলেও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ক্রমশ সেনা সরঞ্জাম মজুত করছে দুই দেশ।

লাদাখ সীমান্তে ইতোমধ্যে অত্যাধুনিক মিসাইল সিস্টেম, ট্যাংক, কামান মজুত করেছে ভারত। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই চীনও। এবার তারাও নিজেদের প্রধান প্রধান অস্ত্রগুলোকে শানিয়ে নিতে শুরু করেছে।

এবার সত্যিই যদি যুদ্ধ লেগে গেলে চীন-ভারতের মধ্যে কে জিতবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে চীনের যে তিনটি অস্ত্র ভারতের প্রধান চিন্তার কারণ আজ সেগুলো নিয়েই আলোচনা করা হচ্ছে।

চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া, এই তিনটি দেশই বর্তমান বিশ্বে এক অস্ত্র প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছে।

অভ্যন্তরীণ সমস্যা আর সমুদ্র সীমা নিয়ে ভৌগলিক দ্বন্দ্বের কারণে নব্বুই দশকের শুরু থেকেই দেশটির সামরিক বাহিনী, পিপলস’স লিবারেশন আর্মিকে আধুনিক করে তৈরির করতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে চীন।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট শী জিনপিংয়ের আমলে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গে তাদের সামরিক ক্ষমতার পার্থক্য দ্রুত কমে আসছে এবং দেশটি দ্রুত বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশগুলোর একটি হয়ে উঠছে।

‘চীনের দুই সংখ্যার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্প্রতি কমে এসেছে, কিন্তু দেশটি সামরিক শক্তিকে আধুনিকায়ন করার পাঁচ বছরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যেতে তারা এখনো সক্ষম’- যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা প্রতিরক্ষা সংস্থার একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমনটা বলা হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, প্রযুক্তির নানা ধরণের ব্যবহার দেশটির সামরিক বাহিনীকে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক কিছু অস্ত্র সম্ভারের মালিক করে তুলছে। অনেকগুলো ক্ষেত্রে দেশটি এর মধ্যেই বিশ্বের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছে গেছে।

এখানে চীনের সবচেয়ে আধুনিক কিছু অস্ত্রের বিবরণ তুলে ধরা হলো, যেগুলো বর্তমান অস্ত্র প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে বড় ধরণের ভূমিকা রাখতে চলেছে।

১. নৌবাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র

২০১৮ সালে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত কিছু ছবি থেকে ধারণা করা হচ্ছে, চীন হয়তো এমন যুদ্ধজাহাজে স্থাপন করার উপযোগী এমন অস্ত্র তৈরি-

করেছে যেটি শব্দের পাঁচগুণ গতিতে (হাইপারসনিক স্পিড) গুলি ছুড়তে পারে। অনেকদিন ধরেই বিশ্বের অনেক দেশ এমন অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে।

‘রেলগান’ নামের এই অস্ত্রটি সেকেন্ড আড়াই কিলোমিটার গতিতে গুলি ছুড়তে পারে, যেগুলো দুইশও কিলোমিটার দূরের লক্ষবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেখানে বলা হয়, ওই অস্ত্রটি ২০২৫ সালের মধ্যে যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে।

যখন এ ধরণের অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র আর রাশিয়া, এমনকি ইরানেরও এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ রয়েছে, তখন হয়তো প্রথম দেশ হিসাবে চীনই তাদের যুদ্ধজাহাজে অস্ত্রটি সংযোজন করবে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ওই ছবি-যেটি বিবিসি নিজে যাচাই করে দেখতে পারেনি- দেখা যাচ্ছে যে অস্ত্রটি সাগরে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় পত্রিকা গ্লোবাল টাইমসের তথ্য মতে, চীনে তৈরি প্রথম ১০হাজার টন ক্লাস মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ০৫৫-এ ওই অস্ত্রটি প্রথম স্থাপন করা হবে।

সামরিক বিশ্লেষক এবং সাবেক পিএলএ সদস্য সঙ জনপিং সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক প্রযুক্তির সমকক্ষ হয়ে ওঠার জন্য চীন কোন চেষ্টাই বাদ রাখেনি।

বরং ওই ছবি দেখে মনে করা যায়, যে, চীন জাহাজে বসানো রেলগানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু যে ধরেই ফেলেছে তা নয়, বরং আগামী পাঁচ দশ বছরের মধ্যে হয়তো ছাড়িয়েও যাবে।

এর কারণ, বাজেট অনুমোদন পেতেই যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সময় চলে যায়, যখন চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এরকম প্রকল্পে সহজেই অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ হয়ে যায়।

২. হাইপারসনিক অস্ত্র

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবর অনুযায়ী, ২০১৮ সালের অগাস্টে চীন ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা এমন একটি হাইপারসনিক বিমান পরীক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে, যেটি বিশ্বের যে কোনো মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেদ করতে সক্ষম।

এটি এমন একটি ‘ওয়েভ রাইডার’ বিমান যেটি, যেটি নিজের তৈরি করা শব্দের ধাক্কা ব্যবহার করে বায়ুমণ্ডলে দ্রুত গতিতে ভেসে বেড়াতে পারে।

পরীক্ষায় জিংকং-২ (আকাশের আতংক-২) নামের চীনের ওয়েভ রাইডার বিমানটি ৩২০ কিলোমিটার উঁচুতে উঠে ঘণ্টায় ৭.৩৪৪ কিলোমিটার গতিতে ভেসে বেড়ায়।

তবে এই বিমানটি চীনের প্রথম হাইপারসনিক বিমান নয়-২০১৪ সাল থেকেই দেশটি বায়ুমণ্ডলে ভেসে থাকা বিমান পরীক্ষা করে যাচ্ছে-কিন্তু এই প্রথমবার-

তারা এমন একটি বিমান তৈরি করেছে যেটি ওয়েভ রাইডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে। রাশিয়া আর যুক্তরাষ্ট্র হাইপারসনিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের তথ্য মতে, যখন পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে, তখন এই ওয়েভ রাইডারগুলো বোমা নিয়ে বর্তমান বিশ্বের যেকোনো মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে যেতে পারবে।

তবে বেইজিংয়ের সামরিক বিশ্লেষক যোউ চেনমিং ওই পত্রিকাকে বলেছেন, চীনের ওয়েভ রাইডারগুলো সম্ভবত পারমাণবিক অস্ত্রের বদলে প্রচলিত বোমাগুলো বহনে ব্যবহৃত হবে।

তিনি আরও বলেন, আমার মতে, এই প্রযুক্তি বোমা বহনে সক্ষম হয়ে উঠতে এখনো তিন থেকে পাঁচবছর সময় লাগবে।

হ্যারি হ্যারিস বলছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত আধুনিক অস্ত্রের পেছনে আরও বিনিয়োগ করা, যাতে পিছিয়ে থাকতে না হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল হ্যারি হ্যারিস মার্কিন কংগ্রেসে বলেছেন, হাইপারসনিক অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিযোগীদের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়ছে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, এমনটাও হতে পারে যে, চীন মিসাইল ছুড়েছে এবং ভারতের রাডার সেগুলো সনাক্ত করার আগেই-

শত্রুপক্ষের ভূখণ্ডে তা আঘাত করেছে। তাই আমাদের উচিত নিজস্ব হাইপারসনিক অস্ত্র তৈরিতে উঠেপড়ে কাজ শুরু করা।

২০১৭ সালে হাইপারসনিক মিসাইল – ডিএফ-১৭ তৈরির ঘোষণা দেয় চীন, যেটি ১৮০০ থেকে ২০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম।

৩. চীনের ‘সব বোমার মা’

গত মাসে নতুন ধরণের একটি বিশাল বোমার প্রদর্শন করেছে চীন, যাকে বলা হচ্ছে চীনের ‘সব বোমার মা’। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসিভ অর্ডিন্যান্স এয়ার ব্লাস্টের মতো যেটিকে বর্ণনা করা হচ্ছে।

প্রচারণা ভিডিওতে চীনের অস্ত্র তৈরির প্রধান কোম্পানি নোরিনকো দেখিয়েছে, এইচ-সিকে বোমারু বিমান থেকে বোমাটি ফেলা হচ্ছে এবং বড় ধরণের বিস্ফোরণ ঘটছে তার বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া বলছে, ওই বোমাটি হচ্ছে চীনের পারমাণবিক অস্ত্রের বাইরে সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা এবং এটি এতো বড় যে, একটি এইচ-৬কে বোমারু বিমান একেকবারে মাত্র একটি বোমাই বহন করতে পারে।

বেইজিংয়ের সামরিক বিশ্লেষক ওয়েই ডংজু গ্লোবাল টাইমসকে বলেছেন, তুলনা করা হলেও, চীনের বোমাটি আমেরিকান এ ধরণের বোমার তুলনায় খানিকটা ছোট।

তিনি ধারণা করেন, চীনের বোমাটি প্রায় পাঁচ ছয় মিটার লম্বা- অথচ আমেরিকান বোমাটি প্রায় ১০ মিটার লম্বা এবং হালকা, যার ফলে সেটি বহন করা সহজ।

ওয়েই বলছেন, এই বিশাল বোমার বিস্ফোরণে বিশাল ভবন, ঘাটি বা প্রতিরক্ষা কেন্দ্রগুলো একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে। ২০১৭ আফগানিস্তানের ইসলামিক স্টেটের গুহাগুলোর ওপর এ ধরণের একটি বোমা ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

রাশিয়ারও এ ধরণের বোমা রয়েছে- যাকে বলা হয় ‘সব বোমার বাবা”। এটা আমেরিকান বোমাটি চেয়ে আকারে বড় এবং যখন ফেলা হয়, তখন শক ওয়েভের বদলে আগুনের কুণ্ড তৈরি করে।