ঢাকা ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ :
Logo নওগাঁর আত্রাইয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা ভাঙচুর হত্যা চেষ্টার অভিযোগ   Logo হবিগঞ্জে ছাত্রদল সভাপতিসহ ১’শ জনকে আসামি করে মামলা, ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার Logo চুয়েটে পুকুরে গোসল করতে নেমে শিক্ষার্থীর মৃত্যু Logo দুবাই পাঠানোর নামে জাল ভিসা দিয়ে নওগাঁয় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ Logo রাষ্ট্রপতি হওয়ার খবর গুজব, বললেন মির্জা ফখরুল Logo নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে আবু বকর-বেলাল Logo নওগাঁয় মাদকের টাকা না পেয়ে  পিতাকে খুন করলো ছেলে Logo নওগাঁয় সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রীকে অপহরণ ৩ সপ্তাহে হয়নি উদ্ধার Logo নওগাঁয় আদালতের নির্দেশে কবর ১০ মাস পর শিশুর লাশ উত্তোলন Logo নওগাঁয় ক্লাসরুমের ছাদ ধসে ৭ শিক্ষার্থী আহত

করোনায় গরুর খামারিদের লোকসান ২০০০ কোটি টাকা

গরুর খামার

অর্থনীতি ডেস্কঃ  করোনা ভাইরাসের প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে মাংস উৎপাদনকারী খামারের ব্যবসা। গত আড়াই মাসে গবাদি পশুর বিক্রি কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ।

ব্যবসায়ীদের হিসাবে মাংস উৎপাদনকারী খামারগুলো দৈনিক ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে। করোনা ভাইরাসের ছুটির শুরু থেকে এ পর্যন্ত লোকসান হয়েছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা।

চলমান পরিস্থিতিতে তিন মাসের জন্য খামারের বিদ্যুৎ ও পানির বিল মওকুফসহ প্রান্তিক খামারিদের জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশন।

দেশে প্রায় তিনলাখ ছোট বড় ডেইরি খামার রয়েছে। বছরে এসব খামারে ৭৬ লাখ মেট্রিক টন মাংস এবং ৯৯ লাখ মেট্রিক টন দুধ উৎপাদন হয়।

মাংস উৎপাদনের প্রতিটি গরুকে ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত বিশেষ পরিচর্যা করতে হয়। এই সময়ে শুধু খাবার বাবদ প্রতিটি গরুর পেছনে ব্যয় হয় ৩০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। অন্য খরচ তো সঙ্গে থাকছেই।

পারভেজ মোশারফ নামে ময়মনসিংহের এক খামারি বলেন, আমরা যারা প্রান্তিক খামারি আছি, তারা একদমই গরু বিক্রি করতে পারছি না।

হাটবাজার বন্ধ থাকায় অধিকাংশ গরু খামারেই আটকে রয়েছে। গরুকে ঠিকমতো খাবার দিতে না পারায় অনেক শুকিয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, গতবছর আমি ২০টি গরু মোটাতাজা করেছিলাম। সবগুলোই বিক্রি হওয়ার পর আরও ১০টি গরু অন্য জায়গা থেকে এনে বিক্রি করেছি।

করোনা ভাইরাসের কারণে খাবারের অভাবে এবছর অধিকাংশ গরু কম দামে বিক্রি করে দিয়েছি। দেখা গেছে যে গরুটি আগে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি হতো সেই গরুটি এবছর ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি।

বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ কোটি টাকার গবাদি পশুম বিক্রি করতো খামারিরা।

এসব মূলত মাংস হিসেবে বিক্রি হতো খুচরা পর্যায়ে। করোনা ভাইরাসের কারণে সেই বিক্রি নেমে এসেছে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকায়। বিক্রি কমে যাওয়ায় খামারের খরচ মেটানোই কঠিন হয়েছে খামার মালিকদের জন্য।

পারভেজ মোশারফ বলেন, অধিকাংশ খামারি দোকানদারের কাছ থেকে বাকিতে খাবার আনে গরুর জন্য।

করোনা ভাইরাসের ছুটির কারণে সময়মতো গরু বিক্রি করে টাকা দিতে পারবো কিনা সেই ভয়ে দোকানদার আমাদের খাবার সরবরাহ করা বন্ধ করে দিয়েছে। দাম বেড়েছে রেডিমিক্স ও গমের ভুসির।

বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ ইমরান বলেন, এবার সত্যিকার অর্থে বেচাবিক্রির অবস্থা খুবই খারাপ।

৬০ থেকে ৭০ শতাংশ খামারিদের বিক্রি বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিন যেখানে ৪৫ কোটি টাকার মাংস বিক্রি হতো সেটা ১৫ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

ট্যাগস

নওগাঁর আত্রাইয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা ভাঙচুর হত্যা চেষ্টার অভিযোগ  

করোনায় গরুর খামারিদের লোকসান ২০০০ কোটি টাকা

আপডেট সময় ০৬:৪৩:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২০

অর্থনীতি ডেস্কঃ  করোনা ভাইরাসের প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে মাংস উৎপাদনকারী খামারের ব্যবসা। গত আড়াই মাসে গবাদি পশুর বিক্রি কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ।

ব্যবসায়ীদের হিসাবে মাংস উৎপাদনকারী খামারগুলো দৈনিক ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে। করোনা ভাইরাসের ছুটির শুরু থেকে এ পর্যন্ত লোকসান হয়েছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা।

চলমান পরিস্থিতিতে তিন মাসের জন্য খামারের বিদ্যুৎ ও পানির বিল মওকুফসহ প্রান্তিক খামারিদের জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশন।

দেশে প্রায় তিনলাখ ছোট বড় ডেইরি খামার রয়েছে। বছরে এসব খামারে ৭৬ লাখ মেট্রিক টন মাংস এবং ৯৯ লাখ মেট্রিক টন দুধ উৎপাদন হয়।

মাংস উৎপাদনের প্রতিটি গরুকে ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত বিশেষ পরিচর্যা করতে হয়। এই সময়ে শুধু খাবার বাবদ প্রতিটি গরুর পেছনে ব্যয় হয় ৩০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। অন্য খরচ তো সঙ্গে থাকছেই।

পারভেজ মোশারফ নামে ময়মনসিংহের এক খামারি বলেন, আমরা যারা প্রান্তিক খামারি আছি, তারা একদমই গরু বিক্রি করতে পারছি না।

হাটবাজার বন্ধ থাকায় অধিকাংশ গরু খামারেই আটকে রয়েছে। গরুকে ঠিকমতো খাবার দিতে না পারায় অনেক শুকিয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, গতবছর আমি ২০টি গরু মোটাতাজা করেছিলাম। সবগুলোই বিক্রি হওয়ার পর আরও ১০টি গরু অন্য জায়গা থেকে এনে বিক্রি করেছি।

করোনা ভাইরাসের কারণে খাবারের অভাবে এবছর অধিকাংশ গরু কম দামে বিক্রি করে দিয়েছি। দেখা গেছে যে গরুটি আগে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি হতো সেই গরুটি এবছর ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি।

বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ কোটি টাকার গবাদি পশুম বিক্রি করতো খামারিরা।

এসব মূলত মাংস হিসেবে বিক্রি হতো খুচরা পর্যায়ে। করোনা ভাইরাসের কারণে সেই বিক্রি নেমে এসেছে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকায়। বিক্রি কমে যাওয়ায় খামারের খরচ মেটানোই কঠিন হয়েছে খামার মালিকদের জন্য।

পারভেজ মোশারফ বলেন, অধিকাংশ খামারি দোকানদারের কাছ থেকে বাকিতে খাবার আনে গরুর জন্য।

করোনা ভাইরাসের ছুটির কারণে সময়মতো গরু বিক্রি করে টাকা দিতে পারবো কিনা সেই ভয়ে দোকানদার আমাদের খাবার সরবরাহ করা বন্ধ করে দিয়েছে। দাম বেড়েছে রেডিমিক্স ও গমের ভুসির।

বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ ইমরান বলেন, এবার সত্যিকার অর্থে বেচাবিক্রির অবস্থা খুবই খারাপ।

৬০ থেকে ৭০ শতাংশ খামারিদের বিক্রি বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিন যেখানে ৪৫ কোটি টাকার মাংস বিক্রি হতো সেটা ১৫ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।