বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দিয়েছে আদালত।
শনিবার (৩০ আগস্ট) শুনানিসাপেক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত এ আদেশ দেয়।
এর আগে, গত ২৫ আগস্ট বিকেলে শুনানির পর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত তৌহিদ আফ্রিদির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তৌহিদ আফ্রিদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং মাইটিভির পরিচালক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে জুলাই আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। তিনি স্বৈরাচারী সরকারের পক্ষ নিয়ে লাইভে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিল এবং সেলিব্রেটি ও অন্য কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের দিয়ে আন্দোলন বন্ধের জন্য প্ররোচিত করেছে। এ ক্ষেত্রে যারা দ্বিমত পোষণ করে তাদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়েছে সে।
এতে আরও বলা হয়, আসামির উসকানিমূলক কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিচারে গুলিবর্ষণে মামলার ভিকটিম আসাদুল হক বাবু (২৪) মৃত্যুবরণ করে বলে তদন্তে প্রকাশ পায়। মামলার প্রকৃত ঘটনা, অজ্ঞাতনামা আসামিদের পরিচয় শনাক্তকরণ ও রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
আদালতে রিমান্ড শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন তৌহিদ আফ্রিদির বিরুদ্ধে হত্যায় সহায়তার অভিযোগ আনেন। এ সময় তৌহিদ আফ্রিদি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নাকচ করেন।
প্রসঙ্গত, একই মামলায় ২২ নম্বর আসামি তৌহিদ আফ্রিদির বাবা মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীকে গত ১৭ আগস্ট ঢাকা মহানগর পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তিনিও বর্তমানে কারাগারে আছেন।