ঢাকা ০৬:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ :
Logo নওগাঁর আত্রাইয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা ভাঙচুর হত্যা চেষ্টার অভিযোগ   Logo হবিগঞ্জে ছাত্রদল সভাপতিসহ ১’শ জনকে আসামি করে মামলা, ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার Logo চুয়েটে পুকুরে গোসল করতে নেমে শিক্ষার্থীর মৃত্যু Logo দুবাই পাঠানোর নামে জাল ভিসা দিয়ে নওগাঁয় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ Logo রাষ্ট্রপতি হওয়ার খবর গুজব, বললেন মির্জা ফখরুল Logo নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে আবু বকর-বেলাল Logo নওগাঁয় মাদকের টাকা না পেয়ে  পিতাকে খুন করলো ছেলে Logo নওগাঁয় সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রীকে অপহরণ ৩ সপ্তাহে হয়নি উদ্ধার Logo নওগাঁয় আদালতের নির্দেশে কবর ১০ মাস পর শিশুর লাশ উত্তোলন Logo নওগাঁয় ক্লাসরুমের ছাদ ধসে ৭ শিক্ষার্থী আহত

সবাই অংশ নিলে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতো; লিটন

এইচএম খায়রুজ্জামান লিটন

বিএনপিসহ সব দল নির্বাচনে না এসে ভুল করেছে; সবাই অংশ নিলে নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতো বলে মনে করেন এইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে নৌকার মেয়র প্রার্থী তিনি।

বুধবার (২১ জুন) সকাল সোয়া ৯টায় রাজশাহী মহানগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের উপশহর এলাকার স্যাটেলাইট টাউন হাইস্কুল কেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় স্ত্রী শাহীন আক্তার রেনি ও তার দুই মেয়ে এবং দলীয় নেতাকর্মীরা সঙ্গে ছিলেন।

লিটন বলেন, ‘জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে স্বতঃস্ফূতভাবে ভোট দিচ্ছেন। নির্বাচনে শতকরা ৬০ ভাগ ভোট পড়বে বলে আশা করি।’

এ সময় বিএনপিসহ অন্য সব দল নির্বাচনে না এসে ভুল করেছেন বলে মন্তব্য করে লিটন বলেন, তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে হতো। তারা এলে নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতো।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ শুরু হয় সকাল ৮টায়; একটানা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

রাজশাহী সিটি নির্বাচনে এবার মেয়র পদে প্রার্থী চারজন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন (নৌকা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম স্বপন (লাঙ্গল), জাকের পার্টির প্রার্থী লতিফ আনোয়ার (গোলাপ ফুল)। তবে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী মুরশিদ আলম (হাতপাখা) ভোট বয়কট করেছেন।

নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৫৫টি। এর মধ্যে ১৪৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এসব কেন্দ্র চিহ্নিত করে বাড়তি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে ভোটার তিন লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৭১ হাজার ১৬৭ জন এবং নারী এক লাখ ৮০ হাজার ৮০৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের আছেন ছয়জন। নতুন ৩০ হাজার ১৫৭ জন এবার প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করার কথা।

রাজশাহীর সিটি নির্বাচন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রতিবারই আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। সিটির প্রথম নির্বাচিত মেয়র বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু। ১৯৯৪ সালে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। টানা দুবারের জয়ে তিনি ২০০৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে, বুধবারের ভোটে আওয়ামী লীগ জিতলে টানা দুবার এবং সব মিলিয়ে তিনবার মেয়রের চেয়ারে বসবেন খায়রুজ্জামান লিটন।

২০১৮ সালের নির্বাচনে লিটনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির প্রার্থী বুলবুল। ২০১৮ সালে খায়রুজ্জামান লিটন নৌকা প্রতীকে পান ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোসাদ্দেক হেসেন বুলবুল ধানের শীষ প্রতীকে পান ৭৭ হাজার ৭০০ ভোট। ভোট পড়েছিল ৭৮.৮৬ শতাংশ।

২০১৩ সালে মেয়র পদে প্রার্থী ছিলেন তিনজন। ১৮ দলীয় জোটের সমর্থনে বিএনপির মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক বুলবুল ৪৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারান আওয়ামী লীগের মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক খায়রুজ্জামান লিটনকে। ওইবার ভোট পড়েছিল ৭৬.০৯ শতাংশ।

আর ২০০৮ সালে বিএনপির প্রার্থী বুলবুলের ৭৪ হাজার ৫৫০ ভোটের বিপরীতে খায়রুজ্জামান লিটন ৯৮ হাজার ৩৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ফলে দেখা যাচ্ছে, প্রতিবারই আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির প্রার্থীর মধ্যেই ভোটযুদ্ধ হয়েছে।

ট্যাগস

নওগাঁর আত্রাইয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা ভাঙচুর হত্যা চেষ্টার অভিযোগ  

সবাই অংশ নিলে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতো; লিটন

আপডেট সময় ১২:২৬:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জুন ২০২৩

বিএনপিসহ সব দল নির্বাচনে না এসে ভুল করেছে; সবাই অংশ নিলে নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতো বলে মনে করেন এইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে নৌকার মেয়র প্রার্থী তিনি।

বুধবার (২১ জুন) সকাল সোয়া ৯টায় রাজশাহী মহানগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের উপশহর এলাকার স্যাটেলাইট টাউন হাইস্কুল কেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় স্ত্রী শাহীন আক্তার রেনি ও তার দুই মেয়ে এবং দলীয় নেতাকর্মীরা সঙ্গে ছিলেন।

লিটন বলেন, ‘জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে স্বতঃস্ফূতভাবে ভোট দিচ্ছেন। নির্বাচনে শতকরা ৬০ ভাগ ভোট পড়বে বলে আশা করি।’

এ সময় বিএনপিসহ অন্য সব দল নির্বাচনে না এসে ভুল করেছেন বলে মন্তব্য করে লিটন বলেন, তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে হতো। তারা এলে নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতো।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ শুরু হয় সকাল ৮টায়; একটানা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

রাজশাহী সিটি নির্বাচনে এবার মেয়র পদে প্রার্থী চারজন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন (নৌকা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম স্বপন (লাঙ্গল), জাকের পার্টির প্রার্থী লতিফ আনোয়ার (গোলাপ ফুল)। তবে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী মুরশিদ আলম (হাতপাখা) ভোট বয়কট করেছেন।

নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৫৫টি। এর মধ্যে ১৪৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এসব কেন্দ্র চিহ্নিত করে বাড়তি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে ভোটার তিন লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৭১ হাজার ১৬৭ জন এবং নারী এক লাখ ৮০ হাজার ৮০৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের আছেন ছয়জন। নতুন ৩০ হাজার ১৫৭ জন এবার প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করার কথা।

রাজশাহীর সিটি নির্বাচন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রতিবারই আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। সিটির প্রথম নির্বাচিত মেয়র বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু। ১৯৯৪ সালে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। টানা দুবারের জয়ে তিনি ২০০৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে, বুধবারের ভোটে আওয়ামী লীগ জিতলে টানা দুবার এবং সব মিলিয়ে তিনবার মেয়রের চেয়ারে বসবেন খায়রুজ্জামান লিটন।

২০১৮ সালের নির্বাচনে লিটনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির প্রার্থী বুলবুল। ২০১৮ সালে খায়রুজ্জামান লিটন নৌকা প্রতীকে পান ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোসাদ্দেক হেসেন বুলবুল ধানের শীষ প্রতীকে পান ৭৭ হাজার ৭০০ ভোট। ভোট পড়েছিল ৭৮.৮৬ শতাংশ।

২০১৩ সালে মেয়র পদে প্রার্থী ছিলেন তিনজন। ১৮ দলীয় জোটের সমর্থনে বিএনপির মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক বুলবুল ৪৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারান আওয়ামী লীগের মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক খায়রুজ্জামান লিটনকে। ওইবার ভোট পড়েছিল ৭৬.০৯ শতাংশ।

আর ২০০৮ সালে বিএনপির প্রার্থী বুলবুলের ৭৪ হাজার ৫৫০ ভোটের বিপরীতে খায়রুজ্জামান লিটন ৯৮ হাজার ৩৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ফলে দেখা যাচ্ছে, প্রতিবারই আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির প্রার্থীর মধ্যেই ভোটযুদ্ধ হয়েছে।