ঢাকা ০৪:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ :
Logo নওগাঁর আত্রাইয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা ভাঙচুর হত্যা চেষ্টার অভিযোগ   Logo হবিগঞ্জে ছাত্রদল সভাপতিসহ ১’শ জনকে আসামি করে মামলা, ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার Logo চুয়েটে পুকুরে গোসল করতে নেমে শিক্ষার্থীর মৃত্যু Logo দুবাই পাঠানোর নামে জাল ভিসা দিয়ে নওগাঁয় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ Logo রাষ্ট্রপতি হওয়ার খবর গুজব, বললেন মির্জা ফখরুল Logo নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে আবু বকর-বেলাল Logo নওগাঁয় মাদকের টাকা না পেয়ে  পিতাকে খুন করলো ছেলে Logo নওগাঁয় সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রীকে অপহরণ ৩ সপ্তাহে হয়নি উদ্ধার Logo নওগাঁয় আদালতের নির্দেশে কবর ১০ মাস পর শিশুর লাশ উত্তোলন Logo নওগাঁয় ক্লাসরুমের ছাদ ধসে ৭ শিক্ষার্থী আহত

চীন ছাড়তে চায় বিদেশি কোম্পানিগুলো, সুযোগ নিতে পারে বাংলাদেশ

চীন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্কঃ  চীনে করোনা ভাইরাসের কারণে স্থগিত হয়ে যাওয়া অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখনও উৎপাদন শুরু করেনি। লকডাউন উঠিয়ে নিলেও পণ্যের চাহিদা হ্রাস, আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে ব্যাঘাতসহ নানা কারণে এখনও পুরোদমে উৎপাদনে যেতে পারছেনা দেশটি।

ফলে সেখানে বেকারত্ব বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।জাপান, জার্মানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু সংখ্যক বিনিয়োগকারীও চীনে তাদের কোম্পানির উৎপাদন শুরু করেনি। অনেকে বিদেশি কোম্পানি চীন থেকে তাদের কারখানা বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

এমন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ টানতে জমি প্রস্তুতসহ নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারতসহ একাধিক দেশ। এ তালিকায় পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। এরইমধ্যে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে শুরু করেছে।

চীন থেকে বিনিয়োগ অন্যত্র সরিয়ে নিতে পারে- এমন কোম্পানির তালিকায় আছে জাপানিজ হোন্ডা মটর, টয়োটা মোটর, মিৎসুবিশি, হেভি ইন্ড্রাস্ট্রিজ, লওসন, নিট্টো ডেনকো ও রোম।

তারা চীনে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার নতুন কোনও স্থানে বিনিয়োগ স্থানান্তরিত করতে আগ্রহী। জাপানিজ নিক্কেই-এর এক জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জরিপে ৮০টি কোম্পানিকে বিকল্প উৎপাদন পরিকল্পনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। এতে ১৭টি কোম্পানি চীন থেকে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম অন্য দেশ ও অঞ্চলে সরিয়ে নিতে পারে বলে জানিয়েছে।

এছাড়া চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বেশ কিছু কোম্পানি তাদের বিনিয়োগ সরিয়ে নিতে তোড়জোড় শুরু করেছে। চলতি মাসের শুরুতে জাপান ব্যবসা স্থানান্তর করতে তাদের কোম্পানিগুলোর জন্য মোট ২.২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে।

তবে বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্য দেশের তুলনায় চীনেই এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তাই ব্যাপক হারে কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নাও হতে পারে। তাছাড়া বিনিয়োগকারীদের হাতে ব্যবসা সরানোর প্রয়োজনীয় অর্থ নাও থাকতে পারে।

তবে চীন থেকে বিনিয়োগ সরাতে আগ্রহী দেশগুলোর পছন্দের জায়গার রয়েছে দক্ষিণ এশিয়া। এক্ষেত্রে চীনের বিকল্প বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে একাধিক দেশ।

মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস জানিয়েছে, চীনের পার্শ্ববর্তী দেশ যেমন ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া উপযুক্ত উৎপাদন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পরিবহন অবকাঠামো ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বড় মাপের বিনিয়োগ করছে।

মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে চীন ছাড়তে ইচ্ছুক বিদেশি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ নিজের দেশে টানার সুযোগ নিতে পারে বাংলাদেশও।

বিনিয়োগ টানতে শিল্পগোষ্ঠী কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় নামতে পারেন কূটনীতিকরা। ‘The Global Economic Recession due to Unprecedented Spread of Deadly Coronavirus and the Possible Economic Impact on Bangladesh’ নামের একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে বাণিজ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়। সেখানে এমন সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে আরও আলোচনার জন্য তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও এ বিষয়ে ব্যক্তিগত খাত, বিশেষত ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিকে (এফবিসিসিআই) অবহিত করা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগ আনার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। সূত্র: বিজনেস মিরর

 

ট্যাগস

নওগাঁর আত্রাইয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা ভাঙচুর হত্যা চেষ্টার অভিযোগ  

চীন ছাড়তে চায় বিদেশি কোম্পানিগুলো, সুযোগ নিতে পারে বাংলাদেশ

আপডেট সময় ০৪:৩৯:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২০

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্কঃ  চীনে করোনা ভাইরাসের কারণে স্থগিত হয়ে যাওয়া অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখনও উৎপাদন শুরু করেনি। লকডাউন উঠিয়ে নিলেও পণ্যের চাহিদা হ্রাস, আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে ব্যাঘাতসহ নানা কারণে এখনও পুরোদমে উৎপাদনে যেতে পারছেনা দেশটি।

ফলে সেখানে বেকারত্ব বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।জাপান, জার্মানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু সংখ্যক বিনিয়োগকারীও চীনে তাদের কোম্পানির উৎপাদন শুরু করেনি। অনেকে বিদেশি কোম্পানি চীন থেকে তাদের কারখানা বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

এমন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ টানতে জমি প্রস্তুতসহ নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারতসহ একাধিক দেশ। এ তালিকায় পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। এরইমধ্যে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে শুরু করেছে।

চীন থেকে বিনিয়োগ অন্যত্র সরিয়ে নিতে পারে- এমন কোম্পানির তালিকায় আছে জাপানিজ হোন্ডা মটর, টয়োটা মোটর, মিৎসুবিশি, হেভি ইন্ড্রাস্ট্রিজ, লওসন, নিট্টো ডেনকো ও রোম।

তারা চীনে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার নতুন কোনও স্থানে বিনিয়োগ স্থানান্তরিত করতে আগ্রহী। জাপানিজ নিক্কেই-এর এক জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জরিপে ৮০টি কোম্পানিকে বিকল্প উৎপাদন পরিকল্পনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। এতে ১৭টি কোম্পানি চীন থেকে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম অন্য দেশ ও অঞ্চলে সরিয়ে নিতে পারে বলে জানিয়েছে।

এছাড়া চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বেশ কিছু কোম্পানি তাদের বিনিয়োগ সরিয়ে নিতে তোড়জোড় শুরু করেছে। চলতি মাসের শুরুতে জাপান ব্যবসা স্থানান্তর করতে তাদের কোম্পানিগুলোর জন্য মোট ২.২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে।

তবে বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্য দেশের তুলনায় চীনেই এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তাই ব্যাপক হারে কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নাও হতে পারে। তাছাড়া বিনিয়োগকারীদের হাতে ব্যবসা সরানোর প্রয়োজনীয় অর্থ নাও থাকতে পারে।

তবে চীন থেকে বিনিয়োগ সরাতে আগ্রহী দেশগুলোর পছন্দের জায়গার রয়েছে দক্ষিণ এশিয়া। এক্ষেত্রে চীনের বিকল্প বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে একাধিক দেশ।

মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস জানিয়েছে, চীনের পার্শ্ববর্তী দেশ যেমন ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া উপযুক্ত উৎপাদন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পরিবহন অবকাঠামো ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বড় মাপের বিনিয়োগ করছে।

মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে চীন ছাড়তে ইচ্ছুক বিদেশি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ নিজের দেশে টানার সুযোগ নিতে পারে বাংলাদেশও।

বিনিয়োগ টানতে শিল্পগোষ্ঠী কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় নামতে পারেন কূটনীতিকরা। ‘The Global Economic Recession due to Unprecedented Spread of Deadly Coronavirus and the Possible Economic Impact on Bangladesh’ নামের একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে বাণিজ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়। সেখানে এমন সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে আরও আলোচনার জন্য তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও এ বিষয়ে ব্যক্তিগত খাত, বিশেষত ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিকে (এফবিসিসিআই) অবহিত করা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগ আনার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। সূত্র: বিজনেস মিরর