ঢাকা ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ :
Logo এবার ইরানে ইসরাইল হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে নেই, ট্রাম্প Logo নওগাঁর পত্নীতলায় গৃহবধূর ওপর সন্ত্রাসী হামলা, গুরুতর জখম Logo ইসরাইল ও ইরান কে থামতে বললেন ট্রাম্প Logo নওগাঁয় পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র ডিজিটাল ব্যাংকিং ও ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন শুরু Logo নওগাঁয় কৃষকের ধান কেটে দিলেন এমপি ফজলে হুদা বাবুল Logo কুমিল্লায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ Logo ৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ‘তথ্য সন্ত্রাস’: আত্রাইয়ে দুই ‘ফেসবুকারের তান্ডব Logo রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি গ্রেফতার Logo নওগাঁয় পুলিশের চিরুনি অভিযান: অনলাইন জুয়া সেন্টারের সন্ধান, মূলহোতাসহ গ্রেফতার ১৫ Logo গাজীপুরে ৫খুন: অভিযুক্ত ফোরকানের মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার

বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই: ইইউ মিশন

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন বাংলাদেশের আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে না।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিশনের উপ-প্রধান পর্যবেক্ষক ইন্তা লাসে জানান, আগামী সংসদ নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক বাংলাদেশব্যাপী মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সময়ের সাথে সাথে পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন দীর্ঘমেয়াদি ও দেশব্যাপী পর্যবেক্ষণের জন্য সুসংহত ও সুপ্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকে। এর মাধ্যমে নির্বাচনি প্রক্রিয়ার একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও গভীর বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়। মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকরা আঞ্চলিক পর্যায়ে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং ঢাকাভিত্তিক মূল দলের বিশ্লেষণ কার্যক্রমে সহায়তা করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পর্যবেক্ষকরা দুই সদস্যের দলে কাজ করবেন। তারা ভোটার, নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রার্থী, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, নাগরিক পর্যবেক্ষক ও তরুণ কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। শহরের পাশাপাশি ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলেও তাদের কার্যক্রম চলবে।

ইন্ডা লাসে আরও বলেন, এসব পর্যবেক্ষক ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে এসেছেন। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের আগে তাদের বাংলাদেশের নির্বাচনি ব্যবস্থা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন কাজ করছে। মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভার্স ইজাবস গত ১১ জানুয়ারি ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মিশনের কার্যক্রম শুরু করেন।

নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে এলে মিশনের সঙ্গে আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক যুক্ত হবেন। পাশাপাশি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলো এবং কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকরাও নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা ও ফলাফল প্রস্তুত প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন। এ ছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের একটি প্রতিনিধিদলও মিশনে যোগ দেবে। সব মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ পর্যায়ে এই মিশনে প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক কাজ করবেন।

ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। পরে সম্পূর্ণ নির্বাচনি প্রক্রিয়া শেষ হলে সুপারিশসহ একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। প্রতিবেদনগুলো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং মিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন একটি কঠোর আচরণবিধির আওতায় পরিচালিত হয়, যেখানে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মিশনটি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ২০০৫ সালে অনুমোদিত আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা অনুসরণ করে কাজ করে।

ট্যাগস

এবার ইরানে ইসরাইল হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে নেই, ট্রাম্প

বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই: ইইউ মিশন

আপডেট সময় ০২:০৭:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন বাংলাদেশের আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে না।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিশনের উপ-প্রধান পর্যবেক্ষক ইন্তা লাসে জানান, আগামী সংসদ নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক বাংলাদেশব্যাপী মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সময়ের সাথে সাথে পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন দীর্ঘমেয়াদি ও দেশব্যাপী পর্যবেক্ষণের জন্য সুসংহত ও সুপ্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকে। এর মাধ্যমে নির্বাচনি প্রক্রিয়ার একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও গভীর বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়। মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকরা আঞ্চলিক পর্যায়ে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং ঢাকাভিত্তিক মূল দলের বিশ্লেষণ কার্যক্রমে সহায়তা করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পর্যবেক্ষকরা দুই সদস্যের দলে কাজ করবেন। তারা ভোটার, নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রার্থী, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, নাগরিক পর্যবেক্ষক ও তরুণ কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। শহরের পাশাপাশি ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলেও তাদের কার্যক্রম চলবে।

ইন্ডা লাসে আরও বলেন, এসব পর্যবেক্ষক ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে এসেছেন। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের আগে তাদের বাংলাদেশের নির্বাচনি ব্যবস্থা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন কাজ করছে। মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভার্স ইজাবস গত ১১ জানুয়ারি ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মিশনের কার্যক্রম শুরু করেন।

নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে এলে মিশনের সঙ্গে আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক যুক্ত হবেন। পাশাপাশি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলো এবং কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকরাও নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা ও ফলাফল প্রস্তুত প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন। এ ছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের একটি প্রতিনিধিদলও মিশনে যোগ দেবে। সব মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ পর্যায়ে এই মিশনে প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক কাজ করবেন।

ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। পরে সম্পূর্ণ নির্বাচনি প্রক্রিয়া শেষ হলে সুপারিশসহ একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। প্রতিবেদনগুলো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং মিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন একটি কঠোর আচরণবিধির আওতায় পরিচালিত হয়, যেখানে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মিশনটি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ২০০৫ সালে অনুমোদিত আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা অনুসরণ করে কাজ করে।