ঢাকা ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নওগাঁ জেলা বৈষম্যবিরোধী কমিটি থেকে ১০ জনের পদত্যাগ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটি থেকে সংগঠক ও জুলাই আহত যোদ্ধাসহ ১০ জন গণপদত্যাগ করেছেন। জেলা আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে নানাবিধ বিতর্ক, প্রশ্ন ও অস্পষ্টতা, কমিটির গঠন প্রক্রিয়া ও কার্যক্রম ও আন্দোলনের মূল চেতনা এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে সাংঘর্ষিকের অভিযোগ তুলে তারা পদত্যাগ করেন।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা আহ্বায়কের কাছে একাযোগে লিখিত এই গণপদত্যাগপত্র জমা দেন তারা।

পদত্যাগকারীরা হলেন : আহ্বায়ক কমিটির সংগঠক শিহাব হোসেন, সদস্য ও জুলাই আহত যোদ্ধা সালমান, সদস্য সাদমান সাকিব সাদাফ, আহনাফ হোসেন, ইফাত রাব্বী, সাদ্দাম হোসেন, ইলিয়াস হোসেন, গোলাম রাব্বী, এমরান হোসেন ও অমিত হোসেন নিরব।

পদত্যাগপত্রে বলা হয়েছে, সংগঠনের কেন্দ্রীয় অনুমোদনে সম্প্রতি নওগাঁ জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। যা শুরু থেকেই বিতর্ক, প্রশ্ন ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া, পরবর্তী কার্যক্রম আন্দোলনের নৈতিক অবস্থান, আদর্শ এবং ছাত্রসমাজের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ফলে কমিটিতে সদস্য হিসেবে অবস্থান করা তাদের বিব্রতকর ও অনভিপ্রেত হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্দোলনের আদর্শ ও নিজেদের আত্মসম্মান বজায় রাখার স্বার্থে আহ্বায়ক কমিটি থেকে একযোগে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এর কয়েকদিন আগে সাংগাঠনিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ এনে এই কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব শাফিক মোয়ামমার রিয়ান ও পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগের বিষয়ে জুলাই আহত যোদ্ধা ও কমিটির সদস্য সালমান বলেন, ‘আমরা রাজপথে ছিলাম, লাঠি-গুলি মোকাবিলা করেছি। আর আজ দেখি, সেই সংগ্রামের ফসল ভোগ করছে সুবিধাবাদীরা। আহত যোদ্ধারা অবহেলিত। অথচ মঞ্চ দখল করছে এমন অনেকে এই কমিটিতে আছেন, যারা কখনো সামনে দাঁড়াননি।’

সংগঠক সিহাব হোসেন বলেন, ‘এই কমিটি আন্দোলনের আদর্শ ধারণ করে না। এই কমিটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে একটি নিদিষ্ট রাজনৈতিক দলের পথ বঞ্চিত নেতারা রয়েছেন। তারা আন্দোলনের চেতনা নয়, নিজেদের চেয়ার রক্ষা নিয়েই ব্যস্ত। আমরা আশা করেছিলাম, এই কমিটি পুরোটাই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকবে। এমন কমিটি থাকলে আন্দোলনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আমরা বাধ্য হয়ে পদত্যাপত্র পাঠিয়েছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নওগাঁ জেলা শাখা কমিটির আহ্বায়ক আরমান হোসেন বলেন, ‘পদত্যাগপত্র পাওয়ার পর তাৎক্ষনিক সেখানে স্বাক্ষরকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। সেখানে সংগঠক সিহাব ছাড়া আর কেউ স্বাক্ষর করেননি। কেউ সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে এই গণপদত্যাগ পত্র পাঠিয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। বিষয়টি নিয়ে সাংগঠনিক আলোচনা চলমান রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পদত্যাগপত্রে যে কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, তা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য। কমিটিতে এনসিপির কেউ নেই। সদস্য সচিব রাফি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে এখানে যুক্ত হয়েছেন। সবেমাত্র একটি পরিচিতি সভা আমরা সফলভাবে করেছি। তাই এখানে সাংগঠনিক দুর্বলতার প্রশ্ন তোলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। একটি পক্ষ কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।’

উল্লেখ্য, এরআগে গত ২৯ ডিসেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রিফাত রশিদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ২০৬ সদস্যবিশিষ্ট নওগাঁ জেলা আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনদেওয়া হয়।

ট্যাগস

সর্বাধিক পঠিত

নওগাঁ জেলা বৈষম্যবিরোধী কমিটি থেকে ১০ জনের পদত্যাগ

আপডেট সময় ০১:১০:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটি থেকে সংগঠক ও জুলাই আহত যোদ্ধাসহ ১০ জন গণপদত্যাগ করেছেন। জেলা আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে নানাবিধ বিতর্ক, প্রশ্ন ও অস্পষ্টতা, কমিটির গঠন প্রক্রিয়া ও কার্যক্রম ও আন্দোলনের মূল চেতনা এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে সাংঘর্ষিকের অভিযোগ তুলে তারা পদত্যাগ করেন।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা আহ্বায়কের কাছে একাযোগে লিখিত এই গণপদত্যাগপত্র জমা দেন তারা।

পদত্যাগকারীরা হলেন : আহ্বায়ক কমিটির সংগঠক শিহাব হোসেন, সদস্য ও জুলাই আহত যোদ্ধা সালমান, সদস্য সাদমান সাকিব সাদাফ, আহনাফ হোসেন, ইফাত রাব্বী, সাদ্দাম হোসেন, ইলিয়াস হোসেন, গোলাম রাব্বী, এমরান হোসেন ও অমিত হোসেন নিরব।

পদত্যাগপত্রে বলা হয়েছে, সংগঠনের কেন্দ্রীয় অনুমোদনে সম্প্রতি নওগাঁ জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। যা শুরু থেকেই বিতর্ক, প্রশ্ন ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া, পরবর্তী কার্যক্রম আন্দোলনের নৈতিক অবস্থান, আদর্শ এবং ছাত্রসমাজের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ফলে কমিটিতে সদস্য হিসেবে অবস্থান করা তাদের বিব্রতকর ও অনভিপ্রেত হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্দোলনের আদর্শ ও নিজেদের আত্মসম্মান বজায় রাখার স্বার্থে আহ্বায়ক কমিটি থেকে একযোগে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এর কয়েকদিন আগে সাংগাঠনিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ এনে এই কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব শাফিক মোয়ামমার রিয়ান ও পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগের বিষয়ে জুলাই আহত যোদ্ধা ও কমিটির সদস্য সালমান বলেন, ‘আমরা রাজপথে ছিলাম, লাঠি-গুলি মোকাবিলা করেছি। আর আজ দেখি, সেই সংগ্রামের ফসল ভোগ করছে সুবিধাবাদীরা। আহত যোদ্ধারা অবহেলিত। অথচ মঞ্চ দখল করছে এমন অনেকে এই কমিটিতে আছেন, যারা কখনো সামনে দাঁড়াননি।’

সংগঠক সিহাব হোসেন বলেন, ‘এই কমিটি আন্দোলনের আদর্শ ধারণ করে না। এই কমিটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে একটি নিদিষ্ট রাজনৈতিক দলের পথ বঞ্চিত নেতারা রয়েছেন। তারা আন্দোলনের চেতনা নয়, নিজেদের চেয়ার রক্ষা নিয়েই ব্যস্ত। আমরা আশা করেছিলাম, এই কমিটি পুরোটাই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকবে। এমন কমিটি থাকলে আন্দোলনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আমরা বাধ্য হয়ে পদত্যাপত্র পাঠিয়েছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নওগাঁ জেলা শাখা কমিটির আহ্বায়ক আরমান হোসেন বলেন, ‘পদত্যাগপত্র পাওয়ার পর তাৎক্ষনিক সেখানে স্বাক্ষরকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। সেখানে সংগঠক সিহাব ছাড়া আর কেউ স্বাক্ষর করেননি। কেউ সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে এই গণপদত্যাগ পত্র পাঠিয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। বিষয়টি নিয়ে সাংগঠনিক আলোচনা চলমান রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পদত্যাগপত্রে যে কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, তা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য। কমিটিতে এনসিপির কেউ নেই। সদস্য সচিব রাফি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে এখানে যুক্ত হয়েছেন। সবেমাত্র একটি পরিচিতি সভা আমরা সফলভাবে করেছি। তাই এখানে সাংগঠনিক দুর্বলতার প্রশ্ন তোলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। একটি পক্ষ কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।’

উল্লেখ্য, এরআগে গত ২৯ ডিসেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রিফাত রশিদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ২০৬ সদস্যবিশিষ্ট নওগাঁ জেলা আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনদেওয়া হয়।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/visionnewstoday/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481