ঢাকা ০২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৩টি জেলায় বেশ মারাত্মকভাবে আঘাত হানবে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং

নিজস্ব প্রতিবেদক:ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং বাংলাদেশে ধেয়ে আসার প্রেক্ষাপটে দুর্গত মানুষকে আশ্রয় দিতে ৭ হাজার ৩০ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্র ২৫ লাখ মানুষ সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

সোমবার (২৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একসভা শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।

এনামুর রহমান বলেন, ‘এটা (ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং) এরই মধ্যে সিভিয়ার সাইক্লোনে রূপ নিয়েছে। কেন্দ্র থেকে উপকূলের দূরত্ব ৪০০ কিলোমিটারের মতো এবং পেরিফেরি (ঘূর্ণিঝড়ের সীমানা) উপকূল থেকে ১৫০ কিলোমিটারের মতো দূরত্বে আছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, সিত্রাংয়ের অগ্রভাগ আজ (সোমবার) সন্ধ্যায় আঘাত হানবে। আর মূল আঘাত হানবে মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে।’

তিনি বলেন, ৭ হাজার ৩০টির মতো শেল্টার (আশ্রয়কেন্দ্র) প্রস্তুত করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ নেওয়ার কাজ সকাল থেকে শুরু হয়েছে। এ মুহূর্তে এটা আরও জোরদার করা হচ্ছে। আশাকরি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার শতভাগ মানুষকে সরিয়ে আনতে পারবো। এরই মধ্যে আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের প্রতিনিধিদের বলা হয়েছে, তারা যেন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ডকে সম্পৃক্ত করে। দুর্গম এলাকা থেকে লোকজন সরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তারা যেন সহযোগিতা করে। তারা এতে সম্মতি দিয়েছে- বলেন প্রতিমন্ত্রী।

উপকূলীয় ১৩টি জেলায় বেশ মারাত্মকভাবে আঘাত হানবে। আর দুটি জেলায় হালকাভাবে আঘাত হানবে।বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ সর্বাত্মক রক্ষা করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দিয়েছে বলেও জানান ডা. মো. এনামুর রহমান।

১৩ জেলার মধ্যে রয়েছে— বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, লক্ষীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ফেনী।

ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কাজ করছে। কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় যারা আছে তারা তাদের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছে। আমরা এটুকু বলতে পারি সিত্রাং সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত আঘাত হানবে।

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয় ১৫ জেলার কত মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হবে? এর উত্তরে তিনি বলেন, আম্ফানে আমরা ২৪ লাখ ৭৬ হাজার মানুষকে শেল্টার দিয়েছিলাম। এবার আমরা ২৫ লাখের মতো টার্গেটে রেখেছি।

 

 

ট্যাগস

সর্বাধিক পঠিত

১৩টি জেলায় বেশ মারাত্মকভাবে আঘাত হানবে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং

আপডেট সময় ০৫:০৪:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অক্টোবর ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক:ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং বাংলাদেশে ধেয়ে আসার প্রেক্ষাপটে দুর্গত মানুষকে আশ্রয় দিতে ৭ হাজার ৩০ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্র ২৫ লাখ মানুষ সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

সোমবার (২৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একসভা শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।

এনামুর রহমান বলেন, ‘এটা (ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং) এরই মধ্যে সিভিয়ার সাইক্লোনে রূপ নিয়েছে। কেন্দ্র থেকে উপকূলের দূরত্ব ৪০০ কিলোমিটারের মতো এবং পেরিফেরি (ঘূর্ণিঝড়ের সীমানা) উপকূল থেকে ১৫০ কিলোমিটারের মতো দূরত্বে আছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, সিত্রাংয়ের অগ্রভাগ আজ (সোমবার) সন্ধ্যায় আঘাত হানবে। আর মূল আঘাত হানবে মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে।’

তিনি বলেন, ৭ হাজার ৩০টির মতো শেল্টার (আশ্রয়কেন্দ্র) প্রস্তুত করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ নেওয়ার কাজ সকাল থেকে শুরু হয়েছে। এ মুহূর্তে এটা আরও জোরদার করা হচ্ছে। আশাকরি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার শতভাগ মানুষকে সরিয়ে আনতে পারবো। এরই মধ্যে আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের প্রতিনিধিদের বলা হয়েছে, তারা যেন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ডকে সম্পৃক্ত করে। দুর্গম এলাকা থেকে লোকজন সরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তারা যেন সহযোগিতা করে। তারা এতে সম্মতি দিয়েছে- বলেন প্রতিমন্ত্রী।

উপকূলীয় ১৩টি জেলায় বেশ মারাত্মকভাবে আঘাত হানবে। আর দুটি জেলায় হালকাভাবে আঘাত হানবে।বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ সর্বাত্মক রক্ষা করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দিয়েছে বলেও জানান ডা. মো. এনামুর রহমান।

১৩ জেলার মধ্যে রয়েছে— বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, লক্ষীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ফেনী।

ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কাজ করছে। কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় যারা আছে তারা তাদের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছে। আমরা এটুকু বলতে পারি সিত্রাং সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত আঘাত হানবে।

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয় ১৫ জেলার কত মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হবে? এর উত্তরে তিনি বলেন, আম্ফানে আমরা ২৪ লাখ ৭৬ হাজার মানুষকে শেল্টার দিয়েছিলাম। এবার আমরা ২৫ লাখের মতো টার্গেটে রেখেছি।