নিজস্ব প্রতিবেদক:স্বল্প আয়ের মানুষের আমিষ পূরণের অন্যতম উৎস ডিম। একটি ডিম কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ১৩ টাকা। এক হালি ৫০ টাকা। আর এক ডজন ১৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন মানুষের দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদা পূরণে প্রতিদিন অন্তত একটি ডিম খেতে হবে। তবে লাগাতার দাম বাড়ায় নিম্নআয়ের মানুষ পুষ্টি চাহিদা অনুযায়ী ডিম খেতে পারছেন না।এপ্রিল- মে মাসে বাজারে ব্রয়লার মুরগির ডিমের প্রতিহালি বিক্রি হয়েছে ৩২ থেকে ৩৫ টাকায়। তবে আগস্ট মাসে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর এক লাফে ডিমের হালি হয় ৬০ টাকা। সরকারের নানান ধরনের পদক্ষেপের কারণে ডিমের হালি নেমে এসেছিল ৩৮ থেকে ৪০ টাকায়। তবে এটা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। মাস খানেক ধরে ফের বাড়ছে ডিমের দাম। এখন প্রতিহালি ডিম ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ডিম ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা গেছে, ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজারে কমেছে ডিমের বিক্রি। ডিম খাওয়াও কমেছে রেস্তোরাঁগুলোতে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সূত্র বলছে, ২০১২-১৩ সালে বাংলাদেশে ডিমের উৎপাদন ছিল ৭৬১ দশমিক ৭৪ কোটি এবং ২০২১-২২ সালে এ পরিমাণ দাঁড়ায় ২৩৩৫ দশমিক ৩৫ কোটিতে। অর্থাৎ গত ১০ বছরে বাংলাদেশে ডিমের উৎপাদন তিন গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।পুষ্টিবিজ্ঞানের ভাষায়, ডিম শুধু প্রোটিনের উৎস নয়, রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন যেমন- ডি, বি-সিক্স, বি-টুয়েল্ভ। খনিজ উপাদানের মধ্যে আছে জিঙ্ক, কপার এবং শক্তির আধার আয়রন বা লৌহ।প্রাণীজ আমিষের সহজলভ্য উৎস ডিম। কিন্তু মাঝেমধ্যেই কারণে-অকারণে দাম বেড়ে যাওয়ায় সবার জন্য তা আর সহজলভ্য থাকছে না।
তবে মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২০৩০ বাস্তবায়নে জনপ্রতি বছরে ১৬৫টি ডিম সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।
গতকাল কাকরাইল এলাকায় কথা হয় ডিম কিনতে আসা সেলিম আহমেদের সঙ্গে। তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আজ বিশ্ব ডিম দিবস। কিন্তু দুঃখের বিষয় ডিমের হালি কিনতে হচ্ছে ৫০ টাকায়। আর একটি ডিম কিনতে গেলে তো ১৩ টাকা দিতে হয়। এরকম ঊর্ধ্বমুখী বাজার কতোদিন চলবে! ব্যবসায়ীদের কাছে আমার অনুরোধ যতদ্রুত সম্ভব বাজারের সব পণ্যের দাম নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ক্রয় করা সহজ করে দেওয়া হোক।’
নিউজ ভিশন টুডে ডেস্ক : 











