ঢাকা ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লকডাউনে ভুয়া পুলিশ সেজে দোকানিকে অপহরণ

ডেক্স রিপোর্ট :লকডাউনে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে দিয়ে মো. আব্দুল্লাহ (৩২) নামের এক দোকানিকে অপহরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রাম গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে একইদিন রাত পৌনে ১১টায় অপহরণের কাজে ব্যবহৃত গাড়ি ও এর চালক মাসুম হোসেন (৪০) কে গ্রেফতার করে কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ।

গ্রেফতার মাসুম হোসেনের বাড়ি রাজশাহী নগরীর বড়কুঠি এলাকায়।

এ ঘটনায় রাতে চারজনকে আসামি করে আব্দুল্লাহ বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহর বলে, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টায় একটি মাইক্রোবাস তার দোকানের সামনে এসে দাঁড়ায়। গাড়ি থেকে একজন লোক নেমে নিজেকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দেন। এসময় আশেপাশের লোকজন ভয়ে পালিয়ে যান।

তিনি আরো বলেন, গাড়ি থেকে নেমে আসা ওই ব্যক্তি আমাকে বলেন, ‘লকডাউনে দোকান খোলা কেন?’- এ কথা বলে আব্দুল্লাহকে আটক করেন। আব্দুল্লাহর বিকাশের ব্যবসা রয়েছে। তার বাক্সে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিল। টাকাসহ তিনি আব্দুল্লাহকে গাড়িতে তুলে রাজশাহী শহরের দিকে রওনা দেন।

পুলিশ জানায়, গাড়িতে তোলার পর ওই ব্যক্তি আব্দুল্লাহর কাছে আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। আত্মীয়স্বজনের কাছে টাকা চেয়ে ফোন দিতে বলেন। এতে আব্দুল্লাহ বুঝতে পারেন যে, আটককারী ব্যক্তি ডিবি পুলিশ নন বরং অপহরণকারী।

এদিকে আব্দুল আলীম (২৩) নামের এক যুবকও এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বাড়িও একই গ্রামে। তার জড়িত থাকার বিষয়টি পরে স্থানীয় লোকজন বুঝতে পেরে তার বাড়ি ঘেরাও করেন। তখন আলীমের বাবা হোসেন আলী তার ছেলের কাছে ফোন করেন।

আব্দুল আলীম বিপদ বুঝতে পেরে অপহরণকারী আশিকের (৩০) কাছে ফোন করেন। তার ফোন পেয়ে অপহরণকারী আব্দুল্লাহকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেন। কিছু দূর এসে আশিক নিজেও গাড়ি থেকে নেমে যান। গাড়ি থেকে নেমে আব্দুল্লাহ তার এক আত্মীয়কে ফোন করে ঘটনার কথা বলেন। সেই আত্মীয় রাজশাহী নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার পুলিশকে বিষয়টি জানান।

পরে রাস্তায় চেকপোস্ট বসিয়ে পুলিশ মাইক্রোবাসটিকে আটক করে। গাড়িতে তখন শুধু চালক ছিলেন। তার নাম মাসুম হোসেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে চালক অপহরণের ঘটনা স্বীকার করেন।

কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, পালিয়ে যাওয়া আশিকের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। আলীমের ফোনে পেয়ে তিনি মাইক্রোবাস থেকে নেমে পালিয়ে যান। আমরা শুধু গাড়ির চালককে ধরতে পেরেছি।

ওসি আরো জানান, এ ঘটনায় আশিক, আব্দুল আলীম ও চালক মাসুম হোসেনসহ মোট চারজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। মামলার অন্য একজন আসামির নাম জানা যায়নি। গ্রেফতার চালককে শুক্রবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ট্যাগস

সর্বাধিক পঠিত

লকডাউনে ভুয়া পুলিশ সেজে দোকানিকে অপহরণ

আপডেট সময় ০১:৪২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১

ডেক্স রিপোর্ট :লকডাউনে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে দিয়ে মো. আব্দুল্লাহ (৩২) নামের এক দোকানিকে অপহরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রাম গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে একইদিন রাত পৌনে ১১টায় অপহরণের কাজে ব্যবহৃত গাড়ি ও এর চালক মাসুম হোসেন (৪০) কে গ্রেফতার করে কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ।

গ্রেফতার মাসুম হোসেনের বাড়ি রাজশাহী নগরীর বড়কুঠি এলাকায়।

এ ঘটনায় রাতে চারজনকে আসামি করে আব্দুল্লাহ বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহর বলে, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টায় একটি মাইক্রোবাস তার দোকানের সামনে এসে দাঁড়ায়। গাড়ি থেকে একজন লোক নেমে নিজেকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দেন। এসময় আশেপাশের লোকজন ভয়ে পালিয়ে যান।

তিনি আরো বলেন, গাড়ি থেকে নেমে আসা ওই ব্যক্তি আমাকে বলেন, ‘লকডাউনে দোকান খোলা কেন?’- এ কথা বলে আব্দুল্লাহকে আটক করেন। আব্দুল্লাহর বিকাশের ব্যবসা রয়েছে। তার বাক্সে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিল। টাকাসহ তিনি আব্দুল্লাহকে গাড়িতে তুলে রাজশাহী শহরের দিকে রওনা দেন।

পুলিশ জানায়, গাড়িতে তোলার পর ওই ব্যক্তি আব্দুল্লাহর কাছে আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। আত্মীয়স্বজনের কাছে টাকা চেয়ে ফোন দিতে বলেন। এতে আব্দুল্লাহ বুঝতে পারেন যে, আটককারী ব্যক্তি ডিবি পুলিশ নন বরং অপহরণকারী।

এদিকে আব্দুল আলীম (২৩) নামের এক যুবকও এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বাড়িও একই গ্রামে। তার জড়িত থাকার বিষয়টি পরে স্থানীয় লোকজন বুঝতে পেরে তার বাড়ি ঘেরাও করেন। তখন আলীমের বাবা হোসেন আলী তার ছেলের কাছে ফোন করেন।

আব্দুল আলীম বিপদ বুঝতে পেরে অপহরণকারী আশিকের (৩০) কাছে ফোন করেন। তার ফোন পেয়ে অপহরণকারী আব্দুল্লাহকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেন। কিছু দূর এসে আশিক নিজেও গাড়ি থেকে নেমে যান। গাড়ি থেকে নেমে আব্দুল্লাহ তার এক আত্মীয়কে ফোন করে ঘটনার কথা বলেন। সেই আত্মীয় রাজশাহী নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার পুলিশকে বিষয়টি জানান।

পরে রাস্তায় চেকপোস্ট বসিয়ে পুলিশ মাইক্রোবাসটিকে আটক করে। গাড়িতে তখন শুধু চালক ছিলেন। তার নাম মাসুম হোসেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে চালক অপহরণের ঘটনা স্বীকার করেন।

কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, পালিয়ে যাওয়া আশিকের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। আলীমের ফোনে পেয়ে তিনি মাইক্রোবাস থেকে নেমে পালিয়ে যান। আমরা শুধু গাড়ির চালককে ধরতে পেরেছি।

ওসি আরো জানান, এ ঘটনায় আশিক, আব্দুল আলীম ও চালক মাসুম হোসেনসহ মোট চারজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। মামলার অন্য একজন আসামির নাম জানা যায়নি। গ্রেফতার চালককে শুক্রবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।