ঢাকা ০২:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১ বছর আগে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, শুরুই হয়নি রাস্তার কাজ

নওগাঁর রানীনগর, কালীগঞ্জ, নন্দিগ্রাম মহাসড়ক

দরপত্রে ১ বছর আগে কাজ শেষ হওয়ার চুক্তি থাকলেও এখনও রাস্তা পাকা করনের কাজই শুরুই হয়নি নওগাঁর রানীনগর, কালীগঞ্জ, নন্দিগ্রাম মহাসড়কের প্রায় ২২ কিলোমিটার কালভার্টসহ রাস্তার কাজ।

যান্ত্রিক দুর্ভোগ আর ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবস্থার কারণে দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে ছোট-বড় ও ভারি যানবাহনগুলো। অপরদিকে রাস্তার ধুলার কারণে কৃষি জমির ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় দিন পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এসপেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এবং ওহায়েদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড দরপত্রের মাধ্যমে ২০ নভেম্বর ২০১৮ সালে পাকা রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করে ১৯ নভেম্বর ২০১৯ এ তা শেষ করার কথা থাকলেও এখনও রাস্তা পাকা করনের কাজই শুরু করতে পারেনি প্রতিষ্ঠান দুটি । গেল ২ বছরে নির্মাণ কাজ নির্ধারিত স্থান থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্বের পিচ-ঢালা রাস্তার আস্তরণ উঠিয়ে দেওয়ায় বর্তমানে ধুলা আর উঁচু-নিচু রাস্তা হওয়ায় যান্ত্রিক চলাচলে দুর্ভোগ চরমে।

রানীনগর, কালীগঞ্জ, নন্দিগ্রাম মহাসড়কে জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন ছোট বড়সহ ১৫-২০ হাজার যানবাহন চলাচল করে।

পরিবহণ চালকরা আগে যেখানে তিন থেকে চারবার এই রাস্তা দিয়ে যাত্রী নিয়ে চলাচল করত, সেখানে এখন এক থেকে দুই বার যাতায়াত করতে পারেন। এতে করে তারা আর্থিক সংকটে পরছেন এবং এসব পরিবহণ মালিকদের যানবাহনেরও অনেক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান তাঁরা। অপরদিকে রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে ধুলাবালি এবং ঝাঁকুনির কারণে যাত্রীদের শারীরিক সমস্যাও হচ্ছে বলে জানান যাত্রীরা।

ধুলায় রাস্তার দুই পাশের সবুজ গাছগুলো বাদামী বর্ণ ধারণ করেছে। রাস্তার ধুলার কারণে কৃষি জমিগুলোর ফসলহানীর আশঙ্কায় দিন পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাড়াতাড়ি পাকা রাস্তা নির্মাণ কাজ শেষ করে এমন দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন রাস্তায় চলাচলকারী পরিবহন চালক, যাত্রী এবং স্থানীয়রা।

রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণ জানতে চাইলে নওগাঁ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (সওজ) সাজেদুর রহমান বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দুটি কাজ শেষ করতে পারেনি। গত অর্থবছরে করোনার কারণে পূর্বের পাওনা বকেয়া থাকলেও এই অর্থবছরে তা পরিশোধ করা হয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দুটিকে।

তিনি জানান, বকেয়া পরিশোধ করার পরেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের গাফিলতির কারণে এই অবস্থা। এই বিষয়ে সড়ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য চূড়ান্ত নোটিশ দিয়েছে ওই প্রতিষ্ঠান দুটিকে।

 

স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন হেলাল জানান, রাস্তায় চলাচলকারী ব্যক্তিদের ধুলার কারণে চেনার উপায় থাকে না। এলাকার মানুষদের সুবিধার জন্য অতি দ্রুত রাস্তার কাজ শুরু করতে সংশ্লিষ্টদের অবগত করা হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে রানীনগর, কালীগঞ্জ, নন্দিগ্রাম মহাসড়কের কাজ শেষ হলে এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ উপকৃত হবে।

এদিকে নওগাঁর এই মহাসড়কের নির্মাণ কাজের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

১৪ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ৭৮৩ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হওয়ার কালভার্টসহ রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার সময়কাল শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। কিন্তু রাস্তা পাকা করনের কাজ শুরু হয়নি এখনও। বর্তমানে দুর্ভোগে দিন পার করছেন এলাকার মানুষগুলো।

সূত্রঃ rtv

ট্যাগস

১ বছর আগে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, শুরুই হয়নি রাস্তার কাজ

আপডেট সময় ১০:২৫:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ মার্চ ২০২১

দরপত্রে ১ বছর আগে কাজ শেষ হওয়ার চুক্তি থাকলেও এখনও রাস্তা পাকা করনের কাজই শুরুই হয়নি নওগাঁর রানীনগর, কালীগঞ্জ, নন্দিগ্রাম মহাসড়কের প্রায় ২২ কিলোমিটার কালভার্টসহ রাস্তার কাজ।

যান্ত্রিক দুর্ভোগ আর ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবস্থার কারণে দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে ছোট-বড় ও ভারি যানবাহনগুলো। অপরদিকে রাস্তার ধুলার কারণে কৃষি জমির ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় দিন পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এসপেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এবং ওহায়েদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড দরপত্রের মাধ্যমে ২০ নভেম্বর ২০১৮ সালে পাকা রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করে ১৯ নভেম্বর ২০১৯ এ তা শেষ করার কথা থাকলেও এখনও রাস্তা পাকা করনের কাজই শুরু করতে পারেনি প্রতিষ্ঠান দুটি । গেল ২ বছরে নির্মাণ কাজ নির্ধারিত স্থান থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্বের পিচ-ঢালা রাস্তার আস্তরণ উঠিয়ে দেওয়ায় বর্তমানে ধুলা আর উঁচু-নিচু রাস্তা হওয়ায় যান্ত্রিক চলাচলে দুর্ভোগ চরমে।

রানীনগর, কালীগঞ্জ, নন্দিগ্রাম মহাসড়কে জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন ছোট বড়সহ ১৫-২০ হাজার যানবাহন চলাচল করে।

পরিবহণ চালকরা আগে যেখানে তিন থেকে চারবার এই রাস্তা দিয়ে যাত্রী নিয়ে চলাচল করত, সেখানে এখন এক থেকে দুই বার যাতায়াত করতে পারেন। এতে করে তারা আর্থিক সংকটে পরছেন এবং এসব পরিবহণ মালিকদের যানবাহনেরও অনেক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান তাঁরা। অপরদিকে রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে ধুলাবালি এবং ঝাঁকুনির কারণে যাত্রীদের শারীরিক সমস্যাও হচ্ছে বলে জানান যাত্রীরা।

ধুলায় রাস্তার দুই পাশের সবুজ গাছগুলো বাদামী বর্ণ ধারণ করেছে। রাস্তার ধুলার কারণে কৃষি জমিগুলোর ফসলহানীর আশঙ্কায় দিন পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাড়াতাড়ি পাকা রাস্তা নির্মাণ কাজ শেষ করে এমন দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন রাস্তায় চলাচলকারী পরিবহন চালক, যাত্রী এবং স্থানীয়রা।

রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণ জানতে চাইলে নওগাঁ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (সওজ) সাজেদুর রহমান বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দুটি কাজ শেষ করতে পারেনি। গত অর্থবছরে করোনার কারণে পূর্বের পাওনা বকেয়া থাকলেও এই অর্থবছরে তা পরিশোধ করা হয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দুটিকে।

তিনি জানান, বকেয়া পরিশোধ করার পরেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের গাফিলতির কারণে এই অবস্থা। এই বিষয়ে সড়ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য চূড়ান্ত নোটিশ দিয়েছে ওই প্রতিষ্ঠান দুটিকে।

 

স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন হেলাল জানান, রাস্তায় চলাচলকারী ব্যক্তিদের ধুলার কারণে চেনার উপায় থাকে না। এলাকার মানুষদের সুবিধার জন্য অতি দ্রুত রাস্তার কাজ শুরু করতে সংশ্লিষ্টদের অবগত করা হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে রানীনগর, কালীগঞ্জ, নন্দিগ্রাম মহাসড়কের কাজ শেষ হলে এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ উপকৃত হবে।

এদিকে নওগাঁর এই মহাসড়কের নির্মাণ কাজের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

১৪ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ৭৮৩ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হওয়ার কালভার্টসহ রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার সময়কাল শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। কিন্তু রাস্তা পাকা করনের কাজ শুরু হয়নি এখনও। বর্তমানে দুর্ভোগে দিন পার করছেন এলাকার মানুষগুলো।

সূত্রঃ rtv