আন্তর্জাতিক ডেক্সঃ মিয়ানমারের জান্তা সরকারকে অবশ্যই দেশটির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চিকে মুক্তি হবে। সোমবার জাতিসংঘে মানবাধিকার কাউন্সিলে দেওয়া ভাষণে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ দেশের এমন অবস্থান তুলে ধরবেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব।
জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্মান প্রদর্শন করে বর্মি সেনাবাহিনীকে ক্ষমতা ছাড়ারও আহ্বান জানাবেন ডমিনিক রাব।
জেনেভায় জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের এক সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব তার ভাষণে চীন ও রাশিয়ার মতো সদস্য দেশগুলোয় মানবাধিকার ভঙ্গের যে রেকর্ড রয়েছে সে প্রসঙ্গে নিন্দা জানান। একই সঙ্গে তিনি মিয়ানমার ও বেলারুশের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
রাব বলেন,‘ প্রায়ই বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে আমরা জানতে পারছি, চীন কতটা পদ্ধতিগতভাবে শিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলিম এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার হরণ করে চলেছে। শিনজিয়াংয়ের পরিস্থিতি বর্ণনার বাইরে। সেখানে নিপীড়নের যেসব খবর আমরা পাই তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- বিভিন্ন পন্থায় অত্যাচার, জোরপূর্বক শ্রম আদায় এবং নারীদের জোর করে বন্ধ্যা করে দেওয়া। আর এ বিষয়গুলোকে অঞ্চলটিতে চরম আকার ধারণ করেছে।’
এ দিকে চরমপন্থা নির্মূল এবং সাধারণ মানুষকে নতুনভাবে দক্ষ করে তুলতে ‘কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ নামে শিনজিয়াংকে বেশ কিছু ভবন তৈরি করেছে বেইজিং কর্তৃপক্ষ। তবে চীনের সমালোচকরা বলছেন প্রশিক্ষণের নামে এসব ভবনে মূলত সংখ্যালঘুদের আটকে রাখা হয়। যদিও চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গত সোমবার দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তিব্বত এবং শিনজিয়াং ‘মানবাধিকার উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।’
দেশটির ঊর্ধ্বতন কূটনীতিবিদ ওয়াংইয়ে এক ভাষণে বলেন, ‘চীন এমন একটি দেশ যারা সব সময়ই মানবাধিকার সুরক্ষিত এবং অগ্রগতি করে আসছে। গত ৬০ বছরে সামগ্রিকভাবে শিনজিয়াংয়ের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ২০০ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয় এ অঞ্চলের মাথাপিছু আয় বেড়েছে প্রায় ৪০ গুণ এবং গড় আয়ু ৭২ বছরে উন্নীত হয়েছে।’
চীনের দাবি, শিনজিয়াংয়ে মুসলমান সংখ্যালঘুরা খুবই উচ্চমানের জীবনযাপন করছে। তবে চীনের পক্ষ থেকে যা-ই বলা হোক না কেন মানবাধিকার প্রসঙ্গে দেশটির কার্যক্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক মত কিন্তু ভিন্ন। জাতিসংঘের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, কমপক্ষে ১০ লাখ ইউঘুর এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের মুসলিম শিনজিয়াংয়ে বন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। কোনো সাংবাদিক শিনজিয়াং থেকে স্বতন্ত্রভাবে সংবাদ প্রকাশ করতে চাইলে প্রায় সময়েই তাদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের রোষানলে পড়তে হয়।
শিনজিয়াংয়ে মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি করতে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে চীন সরকার। গত ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এক ঘোষণায় বলা হয়, তারা নিশ্চিত যে চীন সরকার শিনজিয়াংয়ে গণহত্যা পরিচালিত করছে।
সূত্রঃ বিবিসি।
নিউজ ভিশন টুডে ডেস্ক : 











