আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প হেরে যাওয়ার পর থেকে তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা একে একে পদত্যাগ করে যাচ্ছেন। তিনি যদিও এখন পর্যন্ত পরাজয় মেনে নিতে পারছেন না। কিন্তু তাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পিছিয়ে পড়ার ইঙ্গিতে হোয়াইট হাউস ছাড়ার হিড়িক পড়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের।
তারা আর সেখানে থাকতে চাচ্ছেন না। ইতোমধ্যে হোয়াইট হাউস ছেড়েছে অনেকেই। এমনকি ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচার শিবিরের কয়েকজন কর্মকর্তাও তার কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন।
এ দিকে হোয়াইট হাউজের পর এবার পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপারকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরখাস্ত করার পর পেন্টাগনের নেতৃত্বে কাঁপন ধরেছে।
পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের মধ্যে শীর্ষ নীতিনির্ধারক জেমস অ্যান্ডারসন, মার্ক এসপারের চিফ অব স্টাফ জেন স্টেওয়ার্ট পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন। তাদের পদত্যাগ তৎক্ষণাৎ কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্য হিলের প্রকাশিত খবরে এসব তথ্য জানা গেছে।
সিআইএ পরিচালকের পদ থেকে জিনা হাসপেলকে ট্রাম্প বরখাস্ত করতে পারেন- এমন গুঞ্জনের মধ্যে রিপাবলিকান সিনেটররা তাকে পদে রাখার পক্ষে সমর্থন দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
পেন্টাগনের শীর্ষ এসব কর্মকর্তার পদত্যাগপত্র দাখিল করার পর ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্রিস্টোফার মিলার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ড. অ্যান্ডারসন, জেন স্টেওয়ার্টকে জাতির প্রতি ও প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রতি তাদের অবদানের জন্য আমি ধন্যবাদ দিতে চাই।
নিজেদের ক্যারিয়ারজুড়ে তারা জাতীয় প্রতিরক্ষা ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যতের জন্য অনেক অবদান রেখেছেন। পরবর্তী পদক্ষেপে তারা সফল হবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।
অ্যান্ডারসনের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ট্রাম্প অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অ্যান্থোনি টাটার নাম প্রস্তাব করেছেন। এ কারণেও উদ্বিগ্ন স্মিথ। তিনি বলেন, এই গ্রীষ্মকালে পেন্টাগনের শীর্ষ পলিসি কর্তা হিসেবে ফক্স নিউজের কমেন্টেটর টাটার নাম প্রস্তাব করেন ট্রাম্প।
কিন্তু তখন ইসলাম নিয়ে তার বিতর্কিত মন্তব্য সামনে আসায় নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন তিনি। টাটা বারাক ওবামাকে সন্ত্রাসী নেতা ও ইসলামকে তার জানা সবচেয়ে সহিংস ধর্ম বলে টুইট করেছিলেন।
২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ তদন্ত সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিআইএ পরিচালক জিনা গাসপেল।
এ কারণে হতাশা থেকে ট্রাম্প তাকে বরখাস্ত করতে পারেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। হাসপেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জন ওঠার কারণ হচ্ছে বরখাস্ত করা প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার নির্বাচনপূর্ব ঘটনাবলী নিয়ে কথা বলতে পারেন।
এতে করে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে। তাই সিআইএ পরিচালককে সরিয়ে দেওয়া উত্তম মনে করতে পারেন ট্রাম্প। তবে শীর্ষ রিপাবলিকান সিনেটররা বলছেন, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ছাড়া সিআইএ পরিচালককে বরখাস্তের মতো অন্য কোনো কারণ তারা দেখছেন না।

নিউজ ভিশন টুডে ডেস্ক : 











