ঢাকা ০৬:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ :
Logo শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Logo ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী Logo মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়, চাপে ট্রাম্প Logo ১০ পরীক্ষার্থী ১৭ জন শিক্ষক, পাশ করেননি কেউ Logo টাঙ্গাইলে প্রাইভেট কার ও অটো রিক্সার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ Logo গাজীপুরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে দফায় দফায় শ্রমিক বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ Logo জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পেয়ারা ও মাল্টা গাছ কেটে দিল Logo বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর Logo শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে মাইকিং, নওগাঁয় গ্রেপ্তার ২ Logo জেনিফার লোপেজের নতুন প্রেমের গুঞ্জন!

গাইবান্ধায় মোল্লার চর ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙন; ৪টি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন

গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধা সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়ন জুড়েই শুরু হয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদের ব্যাপক ভাঙন। ইতোমধ্যে এই ইউনিয়নের ৪টি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এছাড়া ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৬টি মসজিদ, ২টি কমিউনিটি ক্লিনিকসহ ৩শ’ বসতবাড়ি ও ১ হাজার হেক্টর একর আবাদি জমি নদী ভাঙনে হারিয়ে গেছে। ইউনিয়নটি চরাঞ্চল হওয়ায় নদীভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেও কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

নদী ভাঙনে সব হারিয়ে ওই কৃষিজীবি পরিবারগুলো এখন বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

এছাড়াও ওই ইউনিয়নের বাজে চিথুলিয়া, চিথুলিয়া দিগর, মাইজবাড়ী, সিধাই, কাচির চর, উত্তর মোল্লার চর, দক্ষিণ মোল্লার চর এবং মৌলভীর চর এলাকা জুড়ে চলছে ব্যাপক নদী ভাঙন।

এছাড়া সদ্য নির্মিত ৩টি কালভার্ট ও কমিউনিটি ক্লিনিক এবং চিথুলিয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিথুলিয়া দিগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মৌলভীর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ২টি এবতেদায়ী মাদ্রাসা, ৫টি টিকাদান কেন্দ্র ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলুপ্ত হয়েছে।

বাজে চিথুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যুধিষ্টীর বর্মণ বলেন, তার বিদ্যালয়ে মোট ৭৭ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করতো। নদী ভাঙনে পরিবারগুলো অন্যত্র চলে যাওয়ায় শিক্ষার্র্থী সংখ্যা কমতে থাকে।

গত জুলাই মাসের ২৪ তারিখে বন্যায় তার বিদ্যালয়ের ভবনটি নদী গর্ভে চলে যাওয়ায় বর্তমানে বিদ্যালয়টি পাশ^বর্তী একটি চরে অর্থাৎ এক কিলোমিটার দুরে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, করোনার কারণে বর্তমানে স্কুল বন্ধ থাকায় কতজন শিক্ষার্থীর পরিবার অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছে নিশ্চিত করে সে সংখ্যা বলা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে মোল্লারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাই মন্ডল বলেন, ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৮শ’ পরিবারের ঘরবাড়ি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ওইসব পরিবার এখন পার্শবর্তী জামালপুর জেলা দেওয়ানগঞ্জ, পশ্চিমে সদরের কামারজানি ইউনিয়ন, উত্তরে কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুরের মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন এবং দক্ষিণে ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছে। অনেকে আশপাশে অবস্থান নিয়ে অতিকষ্টে জীবন যাপন করছে।

তিনি আরও জানান, বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে এ ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন শুরু হয়েছে। পানি কমার পর এখনও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। অথচ ভাঙন রোধে কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, মোল্লার চর ইউনিয়ন পুরোটাই নদী বেষ্টিত হওয়ায় সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের কোন সুযোগ নেই। তবে সরকারিভাবে নদী খননের কাজ শুরু হলে তখন ভাঙন কিছুটা কমে আসবে।

ট্যাগস

শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

গাইবান্ধায় মোল্লার চর ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙন; ৪টি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন

আপডেট সময় ০৬:০১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২০

গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধা সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়ন জুড়েই শুরু হয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদের ব্যাপক ভাঙন। ইতোমধ্যে এই ইউনিয়নের ৪টি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এছাড়া ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৬টি মসজিদ, ২টি কমিউনিটি ক্লিনিকসহ ৩শ’ বসতবাড়ি ও ১ হাজার হেক্টর একর আবাদি জমি নদী ভাঙনে হারিয়ে গেছে। ইউনিয়নটি চরাঞ্চল হওয়ায় নদীভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেও কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

নদী ভাঙনে সব হারিয়ে ওই কৃষিজীবি পরিবারগুলো এখন বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

এছাড়াও ওই ইউনিয়নের বাজে চিথুলিয়া, চিথুলিয়া দিগর, মাইজবাড়ী, সিধাই, কাচির চর, উত্তর মোল্লার চর, দক্ষিণ মোল্লার চর এবং মৌলভীর চর এলাকা জুড়ে চলছে ব্যাপক নদী ভাঙন।

এছাড়া সদ্য নির্মিত ৩টি কালভার্ট ও কমিউনিটি ক্লিনিক এবং চিথুলিয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিথুলিয়া দিগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মৌলভীর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ২টি এবতেদায়ী মাদ্রাসা, ৫টি টিকাদান কেন্দ্র ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলুপ্ত হয়েছে।

বাজে চিথুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যুধিষ্টীর বর্মণ বলেন, তার বিদ্যালয়ে মোট ৭৭ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করতো। নদী ভাঙনে পরিবারগুলো অন্যত্র চলে যাওয়ায় শিক্ষার্র্থী সংখ্যা কমতে থাকে।

গত জুলাই মাসের ২৪ তারিখে বন্যায় তার বিদ্যালয়ের ভবনটি নদী গর্ভে চলে যাওয়ায় বর্তমানে বিদ্যালয়টি পাশ^বর্তী একটি চরে অর্থাৎ এক কিলোমিটার দুরে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, করোনার কারণে বর্তমানে স্কুল বন্ধ থাকায় কতজন শিক্ষার্থীর পরিবার অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছে নিশ্চিত করে সে সংখ্যা বলা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে মোল্লারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাই মন্ডল বলেন, ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৮শ’ পরিবারের ঘরবাড়ি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ওইসব পরিবার এখন পার্শবর্তী জামালপুর জেলা দেওয়ানগঞ্জ, পশ্চিমে সদরের কামারজানি ইউনিয়ন, উত্তরে কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুরের মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন এবং দক্ষিণে ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছে। অনেকে আশপাশে অবস্থান নিয়ে অতিকষ্টে জীবন যাপন করছে।

তিনি আরও জানান, বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে এ ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন শুরু হয়েছে। পানি কমার পর এখনও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। অথচ ভাঙন রোধে কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, মোল্লার চর ইউনিয়ন পুরোটাই নদী বেষ্টিত হওয়ায় সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের কোন সুযোগ নেই। তবে সরকারিভাবে নদী খননের কাজ শুরু হলে তখন ভাঙন কিছুটা কমে আসবে।