ঢাকা ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ :
Logo সালিশে নারীকে জুতাপেটা, চেয়ারম্যান বললেন ‘রায় কার্যকর করেছি’ Logo ৩ জেলার ডিসি ও রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার প্রত্যাহার, প্রজ্ঞাপনে যা জানালো Logo নওগাঁর আত্রাইয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা ভাঙচুর হত্যা চেষ্টার অভিযোগ   Logo হবিগঞ্জে ছাত্রদল সভাপতিসহ ১’শ জনকে আসামি করে মামলা, ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার Logo চুয়েটে পুকুরে গোসল করতে নেমে শিক্ষার্থীর মৃত্যু Logo দুবাই পাঠানোর নামে জাল ভিসা দিয়ে নওগাঁয় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ Logo রাষ্ট্রপতি হওয়ার খবর গুজব, বললেন মির্জা ফখরুল Logo নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে আবু বকর-বেলাল Logo নওগাঁয় মাদকের টাকা না পেয়ে  পিতাকে খুন করলো ছেলে Logo নওগাঁয় সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রীকে অপহরণ ৩ সপ্তাহে হয়নি উদ্ধার

সালিশে নারীকে জুতাপেটা, চেয়ারম্যান বললেন ‘রায় কার্যকর করেছি’

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় গ্রাম্য সালিশে এক নারীকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করার অভিযোগ উঠেছে মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে চেয়ারম্যানকে ওই নারীকে জুতাপেটা করতে দেখা যায়।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বলাকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাধবপুর ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামের বিল্লাল হোসেন নামের এক যুবকের সঙ্গে ওই নারীর কথিত পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠকটি বসে। সালিশে ওই নারী ও ওই যুবকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে ওই যুবককে শাস্তি দেওয়ার কোনো ভিডিও প্রকাশ্যে আসেনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রামের মানুষের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিন ওই নারীকে জুতাপেটা করছেন। এ সময় ঘটনাস্থলে নারী-পুরুষসহ বেশ কয়েকজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বিষয়টি জানানো উচিত। সালিশের নামে প্রকাশ্যে শারীরিক শাস্তি দেওয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেয় হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘প্রবাসী স্বামীর সংসারে থেকে ওই নারী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছেন। সামাজিক বিচারের রায় আমি কার্যকর করেছি মাত্র।’

তবে সালিশে এ ধরনের শাস্তি দেওয়ার আইনগত বৈধতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আইনজীবী এখলাছ উদ্দিন ভূইয়া  বলেন, ‘একজন নারীকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করা বড় ধরনের অন্যায়। তিনি অপরাধী হয়ে থাকলে তাকে আইনের আওতায় তুলে দেওয়া দরকার ছিল। একজন জনপ্রতিনিধির এমন কাজ করা নিন্দনীয়।’

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। কী কারণে একজন নারীকে এভাবে হেনস্তা করা হয়েছে, তা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সালিশের নামে প্রকাশ্যে শারীরিকভাবে হেনস্তার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা চলছে। ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ট্যাগস

সালিশে নারীকে জুতাপেটা, চেয়ারম্যান বললেন ‘রায় কার্যকর করেছি’

সালিশে নারীকে জুতাপেটা, চেয়ারম্যান বললেন ‘রায় কার্যকর করেছি’

আপডেট সময় ০৭:৪৬:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় গ্রাম্য সালিশে এক নারীকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করার অভিযোগ উঠেছে মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে চেয়ারম্যানকে ওই নারীকে জুতাপেটা করতে দেখা যায়।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বলাকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাধবপুর ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামের বিল্লাল হোসেন নামের এক যুবকের সঙ্গে ওই নারীর কথিত পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠকটি বসে। সালিশে ওই নারী ও ওই যুবকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে ওই যুবককে শাস্তি দেওয়ার কোনো ভিডিও প্রকাশ্যে আসেনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রামের মানুষের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিন ওই নারীকে জুতাপেটা করছেন। এ সময় ঘটনাস্থলে নারী-পুরুষসহ বেশ কয়েকজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বিষয়টি জানানো উচিত। সালিশের নামে প্রকাশ্যে শারীরিক শাস্তি দেওয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেয় হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘প্রবাসী স্বামীর সংসারে থেকে ওই নারী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছেন। সামাজিক বিচারের রায় আমি কার্যকর করেছি মাত্র।’

তবে সালিশে এ ধরনের শাস্তি দেওয়ার আইনগত বৈধতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আইনজীবী এখলাছ উদ্দিন ভূইয়া  বলেন, ‘একজন নারীকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করা বড় ধরনের অন্যায়। তিনি অপরাধী হয়ে থাকলে তাকে আইনের আওতায় তুলে দেওয়া দরকার ছিল। একজন জনপ্রতিনিধির এমন কাজ করা নিন্দনীয়।’

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। কী কারণে একজন নারীকে এভাবে হেনস্তা করা হয়েছে, তা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সালিশের নামে প্রকাশ্যে শারীরিকভাবে হেনস্তার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা চলছে। ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।