ঢাকা ০৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ :
Logo নওগাঁর আত্রাইয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা ভাঙচুর হত্যা চেষ্টার অভিযোগ   Logo হবিগঞ্জে ছাত্রদল সভাপতিসহ ১’শ জনকে আসামি করে মামলা, ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার Logo চুয়েটে পুকুরে গোসল করতে নেমে শিক্ষার্থীর মৃত্যু Logo দুবাই পাঠানোর নামে জাল ভিসা দিয়ে নওগাঁয় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ Logo রাষ্ট্রপতি হওয়ার খবর গুজব, বললেন মির্জা ফখরুল Logo নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে আবু বকর-বেলাল Logo নওগাঁয় মাদকের টাকা না পেয়ে  পিতাকে খুন করলো ছেলে Logo নওগাঁয় সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রীকে অপহরণ ৩ সপ্তাহে হয়নি উদ্ধার Logo নওগাঁয় আদালতের নির্দেশে কবর ১০ মাস পর শিশুর লাশ উত্তোলন Logo নওগাঁয় ক্লাসরুমের ছাদ ধসে ৭ শিক্ষার্থী আহত

‘মায়ের কষ্ট দেখে লুকিয়ে কাঁদতাম’ সাদিয়া

দোকানে দোকানে জর্দা বিক্রি করতেন বাবা। আর অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন মা। দুজনের যা আয়, তাতে সংসার টেনেটুনে চললেও লেখাপড়ার খরচ মিটত না। একপ্রকার বাধ্য হয়েই তাই টিউশনি শুরু করেন সাদিয়া। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অন্যকে পড়িয়ে নিজে পড়েছেন। কিন্তু নবম শ্রেণিতে উঠে পড়লেন বিপদে।

পড়ালেখার খরচ এত বেশি যে কিছুতেই পেরে উঠছিলেন না। সে সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন স্কুলের শিক্ষকেরা।সাদিয়ার লড়াকু জীবনের গল্প এখানেই শেষ নয়। বলছিলেন, ‘এমনও দিন গেছে, সারা দিন না খেয়ে থেকেছি। কখনো নিজের ইচ্ছা পূরণ করতে পারিনি। ঈদের সময় নতুন জামা কিনে দেওয়ার সামর্থ্য মায়ের ছিল না। মূল বইয়ের পাশাপাশি সহায়ক যে বইয়ের প্রয়োজন হয়, সেগুলো বড় ভাই-আপুদের থেকে ধার নিয়ে পড়েছি।’

সেই সাদিয়া মনি এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। লালমনিরহাটের সরকারি আলিমুদ্দিন কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে এই ফল অর্জন করেন তিনি।

সাফল্যের দিনে মায়ের আত্মত্যাগের কথাই বেশি করে মনে পড়ছে সাদিয়ার, ‘অন্যের বাড়িতে রান্নার কাজ করেন মা। নিজে না খেয়ে আমাকে খাইয়েছেন। মাকে কখনো নতুন কাপড় পরতে দেখিনি। এগুলো আমাকে খুব কষ্ট দিত। লুকিয়ে কাঁদতাম আর প্রতিজ্ঞা করতাম, একদিন সফল হয়ে মায়ের সব কষ্ট দূর করব, তাঁর মুখে হাসি ফোটাব।’

সেই লক্ষ্যেই একটু একটু করে এগোচ্ছেন সাদিয়া মনি। ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে মানুষের সেবা করতে চান তিনি।

নওগাঁর আত্রাইয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা ভাঙচুর হত্যা চেষ্টার অভিযোগ  

‘মায়ের কষ্ট দেখে লুকিয়ে কাঁদতাম’ সাদিয়া

আপডেট সময় ০১:৫৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৩

দোকানে দোকানে জর্দা বিক্রি করতেন বাবা। আর অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন মা। দুজনের যা আয়, তাতে সংসার টেনেটুনে চললেও লেখাপড়ার খরচ মিটত না। একপ্রকার বাধ্য হয়েই তাই টিউশনি শুরু করেন সাদিয়া। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অন্যকে পড়িয়ে নিজে পড়েছেন। কিন্তু নবম শ্রেণিতে উঠে পড়লেন বিপদে।

পড়ালেখার খরচ এত বেশি যে কিছুতেই পেরে উঠছিলেন না। সে সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন স্কুলের শিক্ষকেরা।সাদিয়ার লড়াকু জীবনের গল্প এখানেই শেষ নয়। বলছিলেন, ‘এমনও দিন গেছে, সারা দিন না খেয়ে থেকেছি। কখনো নিজের ইচ্ছা পূরণ করতে পারিনি। ঈদের সময় নতুন জামা কিনে দেওয়ার সামর্থ্য মায়ের ছিল না। মূল বইয়ের পাশাপাশি সহায়ক যে বইয়ের প্রয়োজন হয়, সেগুলো বড় ভাই-আপুদের থেকে ধার নিয়ে পড়েছি।’

সেই সাদিয়া মনি এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। লালমনিরহাটের সরকারি আলিমুদ্দিন কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে এই ফল অর্জন করেন তিনি।

সাফল্যের দিনে মায়ের আত্মত্যাগের কথাই বেশি করে মনে পড়ছে সাদিয়ার, ‘অন্যের বাড়িতে রান্নার কাজ করেন মা। নিজে না খেয়ে আমাকে খাইয়েছেন। মাকে কখনো নতুন কাপড় পরতে দেখিনি। এগুলো আমাকে খুব কষ্ট দিত। লুকিয়ে কাঁদতাম আর প্রতিজ্ঞা করতাম, একদিন সফল হয়ে মায়ের সব কষ্ট দূর করব, তাঁর মুখে হাসি ফোটাব।’

সেই লক্ষ্যেই একটু একটু করে এগোচ্ছেন সাদিয়া মনি। ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে মানুষের সেবা করতে চান তিনি।