ঢাকা ০৩:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘তাইওয়ানের পাশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন’

আন্তর্জাতিক ডেক্স : চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। বেইজিং এবং তাইওয়ানের মধ্যকার অস্থিরতার মধ্যেই ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রথম একটি সরকারি প্রতিনিধি দল তাইওয়ানে সফর করেছে।

এ সময় ওই কর্মকর্তারা তাইওয়ানকে এ বিষয়টি আশ্বস্ত করেছে যে, তারা মোটেও একা নয়।তাইপেই বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইইউ-তাইওয়ান সম্পর্ক জোরদার করার জন্য সাহসী পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভ্যাটিকান সিটি ছাড়া ইউরোপের আর কোনো দেশের সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়।

তাইওয়ানে প্রতিনিয়ত সামরিক চাপ বজায় রেখেছে বেইজিং। এমনকি কিছুদিন পর পরই তাইওয়ানের আকাশে চীনের সামরিক বিমানের মহড়া করতে দেখা গেছে। সম্প্রতি চীনের ১৫০টি যুদ্ধবিমান তাইওয়ানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

চীন তাইওয়ানকে নিজেদের একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে তাইওয়ান নিজেকে সার্বভৌম দেশ হিসেবে দেখে। গত এক বছর ধরেই তাইওয়ান বলে আসছে, চীনা যুদ্ধবিমান বার বার তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করছে।

ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের সদস্য রাফায়েল গ্লুক্সমান তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনকে বলেন, আমরা এখানে খুব সহজ এবং সাধারণ একটি বার্তা নিয়ে এসেছি। আপনারা একা নন। ইউরোপ আপনাদের পাশে আছে।

তিনি বলেন, আমাদের এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তিনি ওই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রও জানিয়েছে যে, তারা তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায়। তাছাড়া তাইওয়ানের ওপর চীনের চলমান মারাত্মক প্রভাব মোকাবিলায়ও যুক্তরাষ্ট্র কাজ করতে চায় বলে জানিয়েছেন তাইওয়ানে আমেরিকান ইনস্টিটিউটের নতুন পরিচালক স্যান্ড্রা ওডকির্ক।

তিনি জানান, ওয়াশিংটন তাইওয়ানের প্রতি গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সাইবার নিরাপত্তা ও সরবরাহ চেইনের মতো সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রগুলোতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়াবে। তাইওয়ানের সঙ্গে একটি অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রাখছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষার জন্য ক্রমাগত সমর্থন দেওয়াকে ভালোভাবে নিচ্ছে না চীন।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, চীন তাইওয়ান আক্রমণ করলে, তাইওয়ানকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দিতে এগিয়ে আসবে যুক্তরাষ্ট্র।

ট্যাগস

‘তাইওয়ানের পাশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন’

আপডেট সময় ০৩:৪৬:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ নভেম্বর ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেক্স : চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। বেইজিং এবং তাইওয়ানের মধ্যকার অস্থিরতার মধ্যেই ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রথম একটি সরকারি প্রতিনিধি দল তাইওয়ানে সফর করেছে।

এ সময় ওই কর্মকর্তারা তাইওয়ানকে এ বিষয়টি আশ্বস্ত করেছে যে, তারা মোটেও একা নয়।তাইপেই বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইইউ-তাইওয়ান সম্পর্ক জোরদার করার জন্য সাহসী পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভ্যাটিকান সিটি ছাড়া ইউরোপের আর কোনো দেশের সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়।

তাইওয়ানে প্রতিনিয়ত সামরিক চাপ বজায় রেখেছে বেইজিং। এমনকি কিছুদিন পর পরই তাইওয়ানের আকাশে চীনের সামরিক বিমানের মহড়া করতে দেখা গেছে। সম্প্রতি চীনের ১৫০টি যুদ্ধবিমান তাইওয়ানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

চীন তাইওয়ানকে নিজেদের একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে তাইওয়ান নিজেকে সার্বভৌম দেশ হিসেবে দেখে। গত এক বছর ধরেই তাইওয়ান বলে আসছে, চীনা যুদ্ধবিমান বার বার তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করছে।

ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের সদস্য রাফায়েল গ্লুক্সমান তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনকে বলেন, আমরা এখানে খুব সহজ এবং সাধারণ একটি বার্তা নিয়ে এসেছি। আপনারা একা নন। ইউরোপ আপনাদের পাশে আছে।

তিনি বলেন, আমাদের এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তিনি ওই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রও জানিয়েছে যে, তারা তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায়। তাছাড়া তাইওয়ানের ওপর চীনের চলমান মারাত্মক প্রভাব মোকাবিলায়ও যুক্তরাষ্ট্র কাজ করতে চায় বলে জানিয়েছেন তাইওয়ানে আমেরিকান ইনস্টিটিউটের নতুন পরিচালক স্যান্ড্রা ওডকির্ক।

তিনি জানান, ওয়াশিংটন তাইওয়ানের প্রতি গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সাইবার নিরাপত্তা ও সরবরাহ চেইনের মতো সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রগুলোতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়াবে। তাইওয়ানের সঙ্গে একটি অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রাখছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষার জন্য ক্রমাগত সমর্থন দেওয়াকে ভালোভাবে নিচ্ছে না চীন।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, চীন তাইওয়ান আক্রমণ করলে, তাইওয়ানকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দিতে এগিয়ে আসবে যুক্তরাষ্ট্র।