ঢাকা ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুতিন-জিনপিংয়ের কঠোর সমালোচনায় বাইডেন

পুতিন-জিনপিংয়ের কঠোর সমালোচনায় বাইডেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  জলবায়ু সংকট থেকে বিশ্বকে রক্ষার যুদ্ধে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় চলমান জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক কপ-২৬ সম্মেলনে অংশগ্রহণ না করায় চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) স্থানীয় সময় দিবাগত রাতে দেওয়া এক ভাষণে জো বাইডেন কার্যত রাশিয়া ও চীনা প্রেসিডেন্টের একহাত নিয়ে ছাড়েন।

বুধবার (৩ নভেম্বর) প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার, রাষ্ট্রপ্রধান ও বিভিন্ন সংস্থার ২৫ হাজারের অধিক সদস্যের অংশগ্রহণে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে গেল রবিবার সম্মেলনটির শুরু হয়। যদিও ওই সম্মেলনে অংশ নেননি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

মঙ্গলবার রাতে দেওয়া ওই ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছিলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জলবায়ু পরিবর্তন এবং এ সংক্রান্ত সংকট মোকাবিলা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলেও কপ-২৬ সম্মেলনে অংশ নেয়নি চীন। এমনকি রাশিয়া ও পুতিনও সেই একই কাজ করেছে।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জলবায়ু সম্মেলনে অংশ না নিলেও উভয় দেশই সেখানে নিজেদের প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে। আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করবেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেবেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, বিশ্বের মোড়ল হিসেবে চীন নতুন ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে বলে অন্যান্য দেশগুলোর সামনে নিজেকে উপস্থাপন করছে বেইজিং। যদিও জলবায়ু সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অনুপস্থিতি ‘বড় একটি ভুল’।

 এদিন রুশ প্রেসিডেন্টের সমালোচনাতেও মুখর হন জো বাইডেন। তিনি দাবি করেন, রাশিয়ার বনাঞ্চলগুলো পুড়ছে এবং সেসব বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট নিশ্চুপ রয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের সবকয়টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণকারী রাষ্ট্র হচ্ছে চীন। এশিয়ার পরাশক্তি খ্যাত এই দেশটির পরই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান। দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ দেশ ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পর পঞ্চম অবস্থানে আছে রাশিয়া।

উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এখন অনেকটাই স্পষ্ট। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে নিয়মিতভাবে ঘূর্ণিঝড়, দাবদাহ ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ল সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও।

 সংকটময় এমন পরিস্থিতিতে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় চলমান জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে রুশ ও চীনা প্রেসিডেন্টের অংশ না নেওয়ার ফলে বিদ্যমান সমস্যা আরও গভীর হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগস

পুতিন-জিনপিংয়ের কঠোর সমালোচনায় বাইডেন

আপডেট সময় ০৩:৩২:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ নভেম্বর ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  জলবায়ু সংকট থেকে বিশ্বকে রক্ষার যুদ্ধে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় চলমান জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক কপ-২৬ সম্মেলনে অংশগ্রহণ না করায় চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) স্থানীয় সময় দিবাগত রাতে দেওয়া এক ভাষণে জো বাইডেন কার্যত রাশিয়া ও চীনা প্রেসিডেন্টের একহাত নিয়ে ছাড়েন।

বুধবার (৩ নভেম্বর) প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার, রাষ্ট্রপ্রধান ও বিভিন্ন সংস্থার ২৫ হাজারের অধিক সদস্যের অংশগ্রহণে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে গেল রবিবার সম্মেলনটির শুরু হয়। যদিও ওই সম্মেলনে অংশ নেননি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

মঙ্গলবার রাতে দেওয়া ওই ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছিলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জলবায়ু পরিবর্তন এবং এ সংক্রান্ত সংকট মোকাবিলা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলেও কপ-২৬ সম্মেলনে অংশ নেয়নি চীন। এমনকি রাশিয়া ও পুতিনও সেই একই কাজ করেছে।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জলবায়ু সম্মেলনে অংশ না নিলেও উভয় দেশই সেখানে নিজেদের প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে। আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করবেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেবেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, বিশ্বের মোড়ল হিসেবে চীন নতুন ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে বলে অন্যান্য দেশগুলোর সামনে নিজেকে উপস্থাপন করছে বেইজিং। যদিও জলবায়ু সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অনুপস্থিতি ‘বড় একটি ভুল’।

 এদিন রুশ প্রেসিডেন্টের সমালোচনাতেও মুখর হন জো বাইডেন। তিনি দাবি করেন, রাশিয়ার বনাঞ্চলগুলো পুড়ছে এবং সেসব বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট নিশ্চুপ রয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের সবকয়টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণকারী রাষ্ট্র হচ্ছে চীন। এশিয়ার পরাশক্তি খ্যাত এই দেশটির পরই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান। দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ দেশ ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পর পঞ্চম অবস্থানে আছে রাশিয়া।

উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এখন অনেকটাই স্পষ্ট। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে নিয়মিতভাবে ঘূর্ণিঝড়, দাবদাহ ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ল সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও।

 সংকটময় এমন পরিস্থিতিতে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় চলমান জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে রুশ ও চীনা প্রেসিডেন্টের অংশ না নেওয়ার ফলে বিদ্যমান সমস্যা আরও গভীর হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।