নওগাঁর মান্দায় জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিম দুটি পৃথক ও সফল অভিযান চালিয়ে একটি বড় ধরনের অনলাইন জুয়া সেন্টারের সন্ধান পেয়েছে।
অভিযানে জেলা পুলিশের শীর্ষ অনলাইন জুয়াড়ি ও মূলহোতাসহ মোট ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে
গ্রেফতারের পাশাপাশি তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে জুয়া খেলার বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম ও নগদ অর্থ। যার মধ্যে রয়েছে ২১টি মোবাইল ফোন, ৫টি ল্যাপটপ, ১৬টি পার্সোনাল কম্পিউটার এবং নগদ ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সরাসরি নির্দেশনায় ও তত্ত্বাবধানে মান্দা সার্কেলের এএসপি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাওন এবং মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে বিশেষ টিমটি এই অভিযান পরিচালনা করে।
গত ১৪ মে (২০২৬) রাত ১০:৫৫ ঘটিকায় মান্দা থানা পুলিশের বিশেষ টিম প্রথম অভিযানটি চালায়। অনলাইন জুয়া পরিচালনা, অর্থপাচার এবং সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ায় উদ্বুদ্ধ করার অপরাধে এই অভিযানে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মান্দা থানার কাশোপাড়া (ফকিরপাড়া) গ্রামের মোঃ আফজাল হোসেনের ছেলে মূলহোতা মোঃ সোহেল হোসেন (২৪) ও একই গ্রামের মোঃ জামিরুল ইসলামের ছেলে মোঃ রবিউল ইসলাম (১৯) এবং নিয়ামতপুর থানার মুড়িহারী গ্রামের মোঃ মকবুল হোসেনের ছেলে মোঃ সোহেল রানা (২০)।
প্রধান আসামি মোঃ সোহেল হোসেনের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে অনলাইন জুয়ায় ব্যবহৃত ৬টি মোবাইল, ২টি ল্যাপটপ, ৫টি পিসি ও মনিটর এবং জুয়া খেলার নগদ ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা জব্দ করে পুলিশ।
এই অভিযানের সূত্র ধরে পরের দিন ১৫ মে ভোর রাত ৩:৩০ ঘটিকায় দিনবনি হাড়ি সাকিনস্থ এলাকায় দ্বিতীয় অভিযানটি চালানো হয়। সেখানে জনৈক ফজলুর রহমানের একতলা বাড়ির নিচতলা ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা একটি সুসজ্জিত ‘অনলাইন জুয়া সেন্টারের’ সন্ধান পায় পুলিশ।
অভিযান চলাকালীন ওই সেন্টার থেকে আরও ১২ জন অনলাইন জুয়াড়িকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। এই তরুণরা বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে গভীর রাতে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ সাজিয়ে সেখানে জুয়া খেলত। স্থানীয়দের মাঝে এই সেন্টারে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ চলারও জনশ্রুতি রয়েছে।
সেখান থেকে গ্রেফতারকৃতরা হলেন— আলামিন (২৮), আল মামুন (২২), শাকিল বাবু (১৯), বদিউজ্জামান ওরফে বিপ্লব (২০), শাফায়েত রাব্বি (১৯), আরিফ হোসেন (৩০), মুশফিকুর রেজা ওরফে রাতুল (২২), রবিউল ইসলাম (২৬), নাইস বাবু (২৫), মোঃ রোমান বাবু ওরফে রিয়ন (২১), মোঃ নাজমুল হোসেন (২৭) এবং শাফায়েত ওরফে আপন (১৯)।
এই জুয়া সেন্টারের পরিচালক আলামিন। এখান থেকে জুয়া খেলার উপকরণ হিসেবে ১৫টি মোবাইল, ১১টি পিসি, ১১টি মনিটর, ১১টি কি-বোর্ড এবং ৩টি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চক্রটি অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ডলারের অবৈধ লেনদেন (মানি লন্ডারিং) করে আসছিল। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আরও ব্যাপক ও গভীর অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
গ্রেফতারকৃত ১৫ জন আসামির বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ এর ২০/২২(২)/২৪(২)/২৭(২) ধারা মোতাবেক মান্দা থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, নওগাঁ জেলা জুড়ে মাদক এবং অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের বিশেষ ও কঠোর অভিযান চলমান রয়েছে। তরুণ সমাজ ও জেলাবাসীকে এই মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি থেকে রক্ষা করতে আগামী দিনগুলিতেও এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে। কোন অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
স্টাফ রিপোর্টার নওগাঁ: 










