কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial intelligent বা AI ) হলো এমন এক ধরনের প্রযুক্তি যা মনুষের মতো চিন্তা করতে ,শিখতে ও সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এটি মূলত ডেটা বিশ্লেষন করে ভবিষ্যতের পূবাভাস দেয় এবং কাজকে স্বয়ংক্রিয় করে তোলে। দুগ্ধ শিল্পে AI ঠিক এমনভাবেই কাজ করে গরুর স্বাস্থ্য , দুধ উৎপাদন, পরিবহন সময়, তাপমাত্রা এবং বাজারের চাহিদা ইত্যাদি তথ্য বিশ্লেষন করে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারী খামার গুলোতে দুধ উৎপাদন প্রক্রিয়া সাধারনত ম্যানুয়াল ও অগোছালো। এর ফলে অনেক দুধ নষ্ট হয়, খরচ বাড়ে, আর খামারীরা সঠিক লাভ পান না। AI এই সমস্যাগুলি সমাধানে বাস্তবসম্মত উপায় দেয়। যেমন দুধের মান নিয়ন্ত্রন (সেন্সর ও AI সফটওয়ার তাপমাত্রা ও PH ট্র্যাক করে দুধ পচে যাওয়ার আগেই সতর্ক করে দেয় ), স্বয়ংক্রিয় পরিকল্পনা (AI দুধ সংগ্রহের সময়, ট্রান্সপোর্ট রুট ও সংরক্ষন শিডিউল অপ্টিমাইজ করে ফলে কম খরচে দ্রত সরবরাহ সম্ভব), রোগ সনাক্তকরন ও উৎপাদন পূর্বাভাস (গরুর আচরন, খাওয়া ও দুধের পরিমান বিশ্লেষন করে AI আগে থেকেই রোগ বা কম উৎপাদনের সম্ভাবনা জানাতে পারে), বাজার বিশ্লেষন (AI বাজারের চাহিদা দেখে বলে দিতে পারে কোথায় কখন দুধের দাম বেশি বা বিক্রির সুযোগ বেশী)
বাংলাদেশে দুগ্ধ খাতের উন্নয়নে সম্ভবনা অনেক,তবে কিছু বাস্তব সমস্যার কারনে ছোট খামারগুলো পিছিয়ে পড়ছে। দুধ সংগ্রহ ও সরবরাহে বাংলাদেশের বর্তমান চালেঞ্জ গুলো যথাক্রমে দুধ সংরক্ষন ঘাটতি (পচন ও ক্ষতি করে), পরিকল্পনার অভাব (পরিবহন খরচ বেশি), প্রযুক্তির অভাব (কম উৎপাদন ও অপচয়), রোগ সনাক্ত না হওয়া (গরুর মূত্য ও ক্ষতি), বাজার অনিশ্চয়তা (খামারীর আয় কমে যায়)।
AI ব্যবহারে দুধের মান উন্নত হয়, পচন কমে ,খরচ কমে এবং খামারীর আয় বৃদ্ধি পায়। দুগ্ধ শিল্পের টেকসই উন্নয়নে এটিই সময়ের দাবি।

কৃষিবিদ ডাঃ নৃপেন্দ্র কুমার মজুমদার, 














