ঢাকা ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ :
Logo এবার ইরানে ইসরাইল হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে নেই, ট্রাম্প Logo নওগাঁর পত্নীতলায় গৃহবধূর ওপর সন্ত্রাসী হামলা, গুরুতর জখম Logo ইসরাইল ও ইরান কে থামতে বললেন ট্রাম্প Logo নওগাঁয় পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র ডিজিটাল ব্যাংকিং ও ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন শুরু Logo নওগাঁয় কৃষকের ধান কেটে দিলেন এমপি ফজলে হুদা বাবুল Logo কুমিল্লায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ Logo ৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ‘তথ্য সন্ত্রাস’: আত্রাইয়ে দুই ‘ফেসবুকারের তান্ডব Logo রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি গ্রেফতার Logo নওগাঁয় পুলিশের চিরুনি অভিযান: অনলাইন জুয়া সেন্টারের সন্ধান, মূলহোতাসহ গ্রেফতার ১৫ Logo গাজীপুরে ৫খুন: অভিযুক্ত ফোরকানের মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার

নওগাঁয় মুগ্ধতা ছড়ালো গ্রামীণ ঐতিহ্যের লাঠিখেলা ও বাইচ খেলা !

সময়ের ক্রমবির্বতনে মানুষ আধুনিক ছোয়ার পরশ পেয়ে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রাচীন রিতিনীতি গুলো । যা চিরো দিনর জন্য হারিয়ে যেতে বসেছে । এরি মাঝে বাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে নওগাঁ সদর উপজেলা  শৈলগাছী ইউনিয়নে অনুষ্টিত হয়ে গেলো ঐতিবাহী লাঠিখেলা ও নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা।

এসব উৎসবের আয়োজন করেণগুমারদহ মেলা পরিচালোক কমিটি । এদিকে, লাঠিখেলা ও নৌকাবাইচের আয়োজন ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজ করছিল উৎসবের আমেজ। দীর্ঘদিন পর বিলুপ্তপ্রায় লাঠিখেলা দেখে উচ্ছ্বাসিত গ্রামবাংলার মানুষেরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা ও নৌকাবাইচ দেখতে দুপুরের পর থেকেই দুর-দুরান্ত থেকে ছুটে আসে নানা বয়সী মানুষ। একটি বাড়ির আঙিনায় স্থানীয় কয়েকজন লাঠিয়াল একত্রিত হন। সেখানে লাঠিয়ালদের গানের তালে তালে ঢাক, ঢোল আর কাঁসার ঘণ্টার শব্দে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। খেলায় ঢাকের তালে তালে লাঠিয়ালরা প্রথমে শারীরিক কসরত ও অঙ্গভঙ্গি দেখান। বেশ কিছুক্ষণ চলে এই কসরত। এরপরই শুরু হয় মূল আকর্ষণ। ২ জন লাঠিয়াল শব্দের তালে তালে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন একে অন্যের ওপর। এ সময় প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে চলে প্রতিপক্ষকে হারানোর অদম্য চেষ্টা। এমন দৃশ্য দেখে আনন্দে উচ্ছ্বাসিত হয়ে পড়েন গ্রামবাসী ও দুর-দুরান্ত থেকে ছুটে আসা দর্শনার্থীরা।

জিল্লুর রহমান নামে এক দর্শক বলেন, অনেক ছোটবেলায় একবার লাঠিখেলা দেখেছিলাম। অনেক দিনপর আজ দেখলাম খুবই ভালো লাগলো। আজকের বিকেলটা সত্যি অনেক সুন্দর কাটলো। আরেক দর্শক ইসমাইল হোসেন বলেন, ছোটবেলায় আমরা গ্রামে গ্রামে লাঠিখেলাসহ বিভিন্ন ধরনের খেলা দেখতে পেতাম। কিন্তু এখন সেসব খেলা হারিয়ে গেছে। অনেকদিন পরে আজ লাঠিখেলা দেখলাম। বেশ ভালো লাগছে।

সুমাইয়া আক্তার (১০) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী বলে, এই প্রথম লাঠিখেলা দেখলাম। খুব আনন্দ লাগছে। বাবার সঙ্গে এসেছি। লাঠিখেলা দেখে নৌকাবাইচ দেখবো।

লাঠিয়াল আব্দুর রহমান বলেন, আগে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে লাঠি খেলতাম অনেক জমজমাট হতো। লাঠি খেলে আমরাও যেমন আনন্দ পেতাম গ্রামের মানুষও আনন্দ পেতো। কিন্তু আগের মতো এখন আর এই খেলার আয়োজন হয় না। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমরা বন্ধু, বড় ভাই-ছোট ভাইরা মিলে বছরে দুই-একবার খেলে থাকি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা করলে আবারও এই খেলা আগের মতো চালু হবে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে বিনোদনের উৎস গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা ও নৌকাবাইচ। এসব খেলা আবারও সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এমন আয়োজন। লাঠিখেলা ও নৌকাবাইচ দেখে দর্শকরাও মুগ্ধ হয়েছে। আগামীতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখা হবে।

এবার ইরানে ইসরাইল হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে নেই, ট্রাম্প

নওগাঁয় মুগ্ধতা ছড়ালো গ্রামীণ ঐতিহ্যের লাঠিখেলা ও বাইচ খেলা !

আপডেট সময় ০১:৪১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০২৩

সময়ের ক্রমবির্বতনে মানুষ আধুনিক ছোয়ার পরশ পেয়ে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রাচীন রিতিনীতি গুলো । যা চিরো দিনর জন্য হারিয়ে যেতে বসেছে । এরি মাঝে বাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে নওগাঁ সদর উপজেলা  শৈলগাছী ইউনিয়নে অনুষ্টিত হয়ে গেলো ঐতিবাহী লাঠিখেলা ও নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা।

এসব উৎসবের আয়োজন করেণগুমারদহ মেলা পরিচালোক কমিটি । এদিকে, লাঠিখেলা ও নৌকাবাইচের আয়োজন ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজ করছিল উৎসবের আমেজ। দীর্ঘদিন পর বিলুপ্তপ্রায় লাঠিখেলা দেখে উচ্ছ্বাসিত গ্রামবাংলার মানুষেরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা ও নৌকাবাইচ দেখতে দুপুরের পর থেকেই দুর-দুরান্ত থেকে ছুটে আসে নানা বয়সী মানুষ। একটি বাড়ির আঙিনায় স্থানীয় কয়েকজন লাঠিয়াল একত্রিত হন। সেখানে লাঠিয়ালদের গানের তালে তালে ঢাক, ঢোল আর কাঁসার ঘণ্টার শব্দে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। খেলায় ঢাকের তালে তালে লাঠিয়ালরা প্রথমে শারীরিক কসরত ও অঙ্গভঙ্গি দেখান। বেশ কিছুক্ষণ চলে এই কসরত। এরপরই শুরু হয় মূল আকর্ষণ। ২ জন লাঠিয়াল শব্দের তালে তালে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন একে অন্যের ওপর। এ সময় প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে চলে প্রতিপক্ষকে হারানোর অদম্য চেষ্টা। এমন দৃশ্য দেখে আনন্দে উচ্ছ্বাসিত হয়ে পড়েন গ্রামবাসী ও দুর-দুরান্ত থেকে ছুটে আসা দর্শনার্থীরা।

জিল্লুর রহমান নামে এক দর্শক বলেন, অনেক ছোটবেলায় একবার লাঠিখেলা দেখেছিলাম। অনেক দিনপর আজ দেখলাম খুবই ভালো লাগলো। আজকের বিকেলটা সত্যি অনেক সুন্দর কাটলো। আরেক দর্শক ইসমাইল হোসেন বলেন, ছোটবেলায় আমরা গ্রামে গ্রামে লাঠিখেলাসহ বিভিন্ন ধরনের খেলা দেখতে পেতাম। কিন্তু এখন সেসব খেলা হারিয়ে গেছে। অনেকদিন পরে আজ লাঠিখেলা দেখলাম। বেশ ভালো লাগছে।

সুমাইয়া আক্তার (১০) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী বলে, এই প্রথম লাঠিখেলা দেখলাম। খুব আনন্দ লাগছে। বাবার সঙ্গে এসেছি। লাঠিখেলা দেখে নৌকাবাইচ দেখবো।

লাঠিয়াল আব্দুর রহমান বলেন, আগে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে লাঠি খেলতাম অনেক জমজমাট হতো। লাঠি খেলে আমরাও যেমন আনন্দ পেতাম গ্রামের মানুষও আনন্দ পেতো। কিন্তু আগের মতো এখন আর এই খেলার আয়োজন হয় না। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমরা বন্ধু, বড় ভাই-ছোট ভাইরা মিলে বছরে দুই-একবার খেলে থাকি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা করলে আবারও এই খেলা আগের মতো চালু হবে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে বিনোদনের উৎস গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা ও নৌকাবাইচ। এসব খেলা আবারও সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এমন আয়োজন। লাঠিখেলা ও নৌকাবাইচ দেখে দর্শকরাও মুগ্ধ হয়েছে। আগামীতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখা হবে।