ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরে বাঁধ ধসে পদ্মা নদীতে পড়ে এক শ্রমিক নিখোঁজ হয়েছেন। শুক্রবার রাত ১০টা পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজ শ্রমিকের নাম মো. বিল্লাল হোসেন (৩৯)।
তিনি ডিক্রিরচর ইউনিয়নের পালডাঙ্গীর বাসিন্দা এবং এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। বিল্লাল হোসেন ইট ভাটার ইট পারাপারে ট্রলারের শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।
শুক্রবার (২০ মে) ভোর পাঁচটার দিকে ফরিদপুর সদরের ডিক্রিরচর ইউনিয়নের মদনখালী এলাকার কুমার নদের উৎসমুখে মাটির বাঁধ ধসে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুব ভোরে ঘূর্ণি বাতাসের কারণে পদ্মা নদীতে বড় ঢেউ ছিল। ওই সময় কুমার নদের উৎসমুখ বন্ধ করে দেওয়া মাটির বাঁধটি অতিক্রম করছিলেন বিল্লালসহ তিন শ্রমিক। ওই সময় উপস্থিত দুই শ্রমিকের সামনে মাটির বাঁধ ধসে পড়ায় বিল্লাল পদ্মা নদীতে তলিয়ে যান।
এ ব্যপারে ডিক্রিরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে এলাকাবাসী পানিতে নেমে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ব্যর্থ হয়। পরে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের এক সদস্য চেষ্টা করে বিকেল তিনটা পর্যন্ত নদীতে নিখোঁজ ওই শ্রমিকের কোনো সন্ধান পাননি। পরে মানিকগঞ্জের আরিচা ঘাটে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে তলব করা হয়।
এ ব্যাপারে ফরিদপুর ফায়ার স্টেশনের সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, মানিকগঞ্জের আরিচা থেকে চার সদস্যের একটি দল বিকেল ৪টা থেকে কাজ শুরু করেছে। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম ভদ্র বলেন, মদনখালীতে পদ্মা নদীর কুমার নদের উৎসে যে মাটির বাঁধটি ধসে গিয়েছে সেটি পানি উন্নয়ন বোর্ড দেয়নি। ওই বাঁধটি এলাকাবাসী মাটি কাটার সুবিধার জন্য নিজেরা দিয়েছিলেন।
যেহেতু পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুমার নদ খনন কর্মসূচি চলছে এজন্য বাঁধটি আমাদের সুবিধা হওয়ায় তা এখনো অপসারণ করেনি পাউবো।