ঢাকা ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তার অসদাচরণের কারণে টিকাদান বন্ধ

স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তার অসদাচরণের কারণে টিকাদান বন্ধ

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:  চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে উপজেলার অস্থায়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্রের টিকাদান কর্মসূচি। এতে করে বিপাকে পড়েছেন টিকা প্রত্যাশীরা।

সোমবার (২২ নভেম্বর) জেলা প্রশাসকের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করবেন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) চুয়াডাঙ্গার নেতৃবৃন্দ। এর আগে রোববার চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে টানা ১ ঘণ্টা জরুরি বৈঠক করেছেন জেলার তিন উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ জেলার ১৭ জন চিকিৎসক।

আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে মুন্সিগঞ্জ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভিড় হওয়ায় আমাকে বিষয়টি জানান সেখানে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক। কিছুক্ষণ পর ভিড় ঠেলে আমি কেন্দ্রে ভিতরে যাই।

এসময় আমার গাড়ি চালক নুর আলম টিকা কেন্দ্রে ঢুকতে গেলে দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক সালাউদ্দিন ও সহকারী উপ-পরিদর্শক মখলেছুর রহমান তাকে বাধা দেন। পরিচয় দেওয়ার পরও বাকবিতণ্ডা শেষে দুই পুলিশ কর্মকর্তা নূর আলমকে চড়-ঘুষি দিয়ে মারধর করেন। আমি সেখানে গিয়ে পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন, আমার চালকও একজন স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যেই পড়ে। তারা তাকে মারধর করতে পারেন না। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যেই যদি পুলিশ মারধর ও লাঞ্ছিতের শিকার হতে হয় তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কে দিবে।

জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগসহ জেলা মেডিকেল এসোসিয়েশনকে জানিয়েছি। এ ঘটনার পর থেকে আলমডাঙ্গা উপজেলায় অস্থায়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) চুয়াডাঙ্গার সভাপতি ডা. মার্টিন হীরক চৌধুরী জানান, এ বিষয়ে সিভিল সার্জনের সঙ্গে বৈঠক করেছি জেলার ১৭ জন চিকিৎসক। সোমবার জেলা প্রশাসকের কাছে যাবো। ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তি না হলে মঙ্গলবার আলমডাঙ্গা উপজেলায় ও সদর হাসপাতাল চত্বরে মানববন্ধনের মাধ্যমে কঠোর কর্মসূচিতে দেওয়া হবে।

পুলিশ সুপার (এসপি) জাহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন বিকেলেই অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে মুন্সিগঞ্জের পুলিশ ক্যাম্প থেকে আলমডাঙ্গা থানায় বদলী করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস

স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তার অসদাচরণের কারণে টিকাদান বন্ধ

আপডেট সময় ১১:২২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ নভেম্বর ২০২১

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:  চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে উপজেলার অস্থায়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্রের টিকাদান কর্মসূচি। এতে করে বিপাকে পড়েছেন টিকা প্রত্যাশীরা।

সোমবার (২২ নভেম্বর) জেলা প্রশাসকের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করবেন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) চুয়াডাঙ্গার নেতৃবৃন্দ। এর আগে রোববার চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে টানা ১ ঘণ্টা জরুরি বৈঠক করেছেন জেলার তিন উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ জেলার ১৭ জন চিকিৎসক।

আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে মুন্সিগঞ্জ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভিড় হওয়ায় আমাকে বিষয়টি জানান সেখানে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক। কিছুক্ষণ পর ভিড় ঠেলে আমি কেন্দ্রে ভিতরে যাই।

এসময় আমার গাড়ি চালক নুর আলম টিকা কেন্দ্রে ঢুকতে গেলে দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক সালাউদ্দিন ও সহকারী উপ-পরিদর্শক মখলেছুর রহমান তাকে বাধা দেন। পরিচয় দেওয়ার পরও বাকবিতণ্ডা শেষে দুই পুলিশ কর্মকর্তা নূর আলমকে চড়-ঘুষি দিয়ে মারধর করেন। আমি সেখানে গিয়ে পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন, আমার চালকও একজন স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যেই পড়ে। তারা তাকে মারধর করতে পারেন না। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যেই যদি পুলিশ মারধর ও লাঞ্ছিতের শিকার হতে হয় তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কে দিবে।

জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগসহ জেলা মেডিকেল এসোসিয়েশনকে জানিয়েছি। এ ঘটনার পর থেকে আলমডাঙ্গা উপজেলায় অস্থায়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) চুয়াডাঙ্গার সভাপতি ডা. মার্টিন হীরক চৌধুরী জানান, এ বিষয়ে সিভিল সার্জনের সঙ্গে বৈঠক করেছি জেলার ১৭ জন চিকিৎসক। সোমবার জেলা প্রশাসকের কাছে যাবো। ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তি না হলে মঙ্গলবার আলমডাঙ্গা উপজেলায় ও সদর হাসপাতাল চত্বরে মানববন্ধনের মাধ্যমে কঠোর কর্মসূচিতে দেওয়া হবে।

পুলিশ সুপার (এসপি) জাহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন বিকেলেই অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে মুন্সিগঞ্জের পুলিশ ক্যাম্প থেকে আলমডাঙ্গা থানায় বদলী করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।