ঢাকা ১২:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিবচরে ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ছেলেসহ ৫ জনকে কুপিয়ে জখম

শিবচরে ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ছেলেসহ ৫ জনকে কুপিয়ে জখম

মাদারীপুর প্রতিনিধি:  মাদারীপুরের শিবচরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাবুল ফকির ও তার ছেলেসহ ৫ জনকে কুপিয়ে আহত করেছে প্রতিপক্ষরা।

এসময় ইউপি চেয়ারম্যানের মাথা, ঘাড়সহ বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত থাকায় চেয়ারম্যানসহ ৩ জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।রবিবার (১৪ নভেম্বর) রাতে শিবচর উপজেলার শিবচর ইউনিয়ন পরিষদের কাজীরমোড় নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও হাসাপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিবচর উপজেলার শিবচর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বাবুল ফকির ও তার চাচাতো ভাই রাসেল ফকিরের সাথে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। শনিবার ন্যায্যমূল্যের চাল দেওয়ার সময় দুজনের সমর্থকদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার সূত্র ধরে পরিবর্তিতে উভয় দলের সমর্থকদের মধ্যে পৃথকভাবে মারধোর হয়। এ ঘটনায় উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রবিবার একজনকে আটক করে।

এ ঘটনার পর রবিবার রাতে আবার কাজী মোড় নামক স্থানে ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল ফকির ও তার ছেলে সুমন ফকিরসহ কিছু লোকজন তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অবস্থান করছিল। এসময় সুমন বাইরে বের হলে প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। সুমনের চিৎকারে চেয়ারম্যানসহ লোকজন এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলায় ইউপি চেয়ারম্যানের মাথা, ঘাড়সহ বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে। এসময় ৫ জনকে উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। তবে ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ছেলে সুমনসহ ৩ জনের অবস্থা গুরুতর হলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

আহত ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল ফকির বলেন, রাসেল,আকবরসহ অনেকে ধারালো অস্ত্রসহ আমার ছেলের ওপর প্রথম হামলা চালায়। অদেরকে রক্ষা করতে গেলে ওরা আমার ওপরও হামলা চালায়। মারা গেছি ভেবে ওরা আমাকে ফেলে রেখে যায়। ওরা আমাদের একজনের দোকান লুটপাট করেছে। আমার স্ত্রী ও বোনকেও মারধোর করেছে। মোট ৫ জনকে ওরা কুপিয়েছে। ওরা সন্ত্রাসী বাহিনী অস্ত্রধারী। আমি এর দৃষ্টান্তমুলক বিচার চাই।

মুঠোফোনে রাসেল ফকির বলেন, চেয়ারম্যানের ওপর হামলার সময় আমি ছিলাম না। এই গন্ডগোলের সূত্রপাত ওরা আগে করেছে। চেয়ারম্যানের ছেলে আগে আমার লোককে মেরেছে। পরে আমিও ওদের এক লোককে থাপ্পড় দিয়েছি। এরপর ওরা থানায় অভিযোগ দেওয়ায় আমি সরে গিয়েছিলাম। আমার পক্ষের বাড়ি ঘরে হামলা চালাতে যাওয়ায় সেই পক্ষ ঘটনাটি ঘটাতে পারে।

 শিবচর থানার ওসি মো. মিরাজ হোসেন বলেন , আধিপত্য নিয়ে এটা তাদের পারিবারিক দীর্ঘদিনের বিরোধ। সেই সূত্র ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীদের ধরতে অভিযান চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মামলা প্রক্রীয়াধীন রয়েছে।

ট্যাগস

শিবচরে ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ছেলেসহ ৫ জনকে কুপিয়ে জখম

আপডেট সময় ১২:১৫:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ নভেম্বর ২০২১

মাদারীপুর প্রতিনিধি:  মাদারীপুরের শিবচরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাবুল ফকির ও তার ছেলেসহ ৫ জনকে কুপিয়ে আহত করেছে প্রতিপক্ষরা।

এসময় ইউপি চেয়ারম্যানের মাথা, ঘাড়সহ বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত থাকায় চেয়ারম্যানসহ ৩ জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।রবিবার (১৪ নভেম্বর) রাতে শিবচর উপজেলার শিবচর ইউনিয়ন পরিষদের কাজীরমোড় নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও হাসাপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিবচর উপজেলার শিবচর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বাবুল ফকির ও তার চাচাতো ভাই রাসেল ফকিরের সাথে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। শনিবার ন্যায্যমূল্যের চাল দেওয়ার সময় দুজনের সমর্থকদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার সূত্র ধরে পরিবর্তিতে উভয় দলের সমর্থকদের মধ্যে পৃথকভাবে মারধোর হয়। এ ঘটনায় উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রবিবার একজনকে আটক করে।

এ ঘটনার পর রবিবার রাতে আবার কাজী মোড় নামক স্থানে ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল ফকির ও তার ছেলে সুমন ফকিরসহ কিছু লোকজন তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অবস্থান করছিল। এসময় সুমন বাইরে বের হলে প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। সুমনের চিৎকারে চেয়ারম্যানসহ লোকজন এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলায় ইউপি চেয়ারম্যানের মাথা, ঘাড়সহ বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে। এসময় ৫ জনকে উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। তবে ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ছেলে সুমনসহ ৩ জনের অবস্থা গুরুতর হলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

আহত ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল ফকির বলেন, রাসেল,আকবরসহ অনেকে ধারালো অস্ত্রসহ আমার ছেলের ওপর প্রথম হামলা চালায়। অদেরকে রক্ষা করতে গেলে ওরা আমার ওপরও হামলা চালায়। মারা গেছি ভেবে ওরা আমাকে ফেলে রেখে যায়। ওরা আমাদের একজনের দোকান লুটপাট করেছে। আমার স্ত্রী ও বোনকেও মারধোর করেছে। মোট ৫ জনকে ওরা কুপিয়েছে। ওরা সন্ত্রাসী বাহিনী অস্ত্রধারী। আমি এর দৃষ্টান্তমুলক বিচার চাই।

মুঠোফোনে রাসেল ফকির বলেন, চেয়ারম্যানের ওপর হামলার সময় আমি ছিলাম না। এই গন্ডগোলের সূত্রপাত ওরা আগে করেছে। চেয়ারম্যানের ছেলে আগে আমার লোককে মেরেছে। পরে আমিও ওদের এক লোককে থাপ্পড় দিয়েছি। এরপর ওরা থানায় অভিযোগ দেওয়ায় আমি সরে গিয়েছিলাম। আমার পক্ষের বাড়ি ঘরে হামলা চালাতে যাওয়ায় সেই পক্ষ ঘটনাটি ঘটাতে পারে।

 শিবচর থানার ওসি মো. মিরাজ হোসেন বলেন , আধিপত্য নিয়ে এটা তাদের পারিবারিক দীর্ঘদিনের বিরোধ। সেই সূত্র ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীদের ধরতে অভিযান চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মামলা প্রক্রীয়াধীন রয়েছে।