ঢাকা ০৯:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দৌলতদিয়ায় পদ্মার ভাঙ্গনে বিলিন মসজিদ; হুমকিতে ফেরি ঘাট

রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ পদ্মা পানি বৃদ্ধি অব্যহত রয়েছে। যে কারনে সোমবার ( ৩০ আগষ্ট ) সকাল নয় টা থেকে হঠাৎ ভাঙ্গন শুরু হয়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুটের দৌলতদিয়ার ৪ নম্বর ফেরি ঘাট এলাকায়।

ফেরিঘাট সংলগ্ন সিদ্দিক কাজীর পাড়া জামে মসজিদসহ ৫ বসতবাড়ী নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। এছাড়াও সরিয়ে নিে হয়েছে আরো অন্তত ২০ টি বসতবাড়ি। এখনও ভাঙ্গন আতঙ্কে রয়েছে ফেরি দৌলতদিয়া ঘাট, শতশত বসতবাড়ীসহ নানা স্থাপনা।

মঙ্গলবার ( ৩১ আগষ্ট ) সকাল ১০ টার সময় দৌলতদিয়া ৪ নম্বর ফেরি ঘাটে গিয়ে দেখাযায়, মুহুর্তেই বিলিন হচ্ছে বসত বাড়ি। একের পর বড় বড় মাটির চাপ ভেঙ্গে পরছে।

এছাড়াও সিদ্দিক কাজীর পাড়া জামে মসজিদের তিন ভাগের দুই গিলে খেয়েছে পদ্মায়। কোনক্রমে অবশিস্ট অংশটুকু ঝুলে আছে। সেটুকু বাচানোর আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছে বিআইডব্লিটিএ কর্তৃপক্ষ। আর আশে পাশের বাসিন্দারা তাদের শেষ সম্বল সরাতে ব্যস্ততা মধ্যে সময় পার করছে।

মুহুর্তেই নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে অন্তত ১০০ মিটার এলাকা।

এ সময় দৌলতদিয়া ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হামজা মোল্লা বলেন, সোমবার ভোর থেকে আস্তে আস্তে ভাঙ্গন শুরু হলেও ভংঙ্কর রুপ নিয়েছে সকাল নয়টা থেকে।  মুহুর্তেই পাচটি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। এখনও ভাঙ্গন ঝুকিতে রয়েছে  লঞ্চঘাট এবং ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ফেরি ঘাটসহ দুই শতাধিক বাড়ী ।

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মন্ডল বলেন,  ভাঙ্গন এলাকার মানুষের আহাজারি দেখে নীজেকে ধরে রাখাই কষ্ট। আমরাও নিরুপায়। বার বার কর্তৃপক্ষকে বলার পরও কেন জোরালো পদক্ষেপ হচ্ছে না বুঝতে পারছিনা। এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া আর কাজ হবে না। অতি দ্রুত ব্যাবস্তা নেওয়া দাবী করেন তিনি।

বিআইডব্লিউটিএ আরিচা সেক্টরের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ মকবুল হোসেন বলেন, ভাঙ্গন রোধে জরুরী ভিত্তিতে ৩০ জন শ্রমিক দ্বারা জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে। এছাড়াও এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম, গোয়ালন্দ উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা মুন্সি, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুল হক খান মামুন, দৌলতদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রহমান মন্ডলসহ অনেকে।

এ সময় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, আগামী শুকনো মৌসুমী দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় স্থায়ী কাজ করা হবে যা একনেকে পাশ হয়ে আছে। তারপরও ঘাট এলাকার ভাঙ্গন রোধে বিআইডব্লিউটিএ  বালুর বস্তা ফেলার কাজ করছেন। এবং কাজের গতি বাড়াতে বিআইডব্লিউটিএ  উপসহকারী প্রকৌশলী মকবুল হোসেনকে নির্দেশ দেন তিনি।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ন এই নৌরুটটি যাতে সচল থাকে ভাঙ্গনরোধে যাতে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয় সেজন্য মন্ত্রনালয়ের পত্র প্রেরন করা হবে। সেই সাথে ক্ষতিগ্রস্থদের শুকনো খাবার ও তালিকা করে টিন প্রদান করা হবে।

ট্যাগস

দৌলতদিয়ায় পদ্মার ভাঙ্গনে বিলিন মসজিদ; হুমকিতে ফেরি ঘাট

আপডেট সময় ০৫:৪৩:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ পদ্মা পানি বৃদ্ধি অব্যহত রয়েছে। যে কারনে সোমবার ( ৩০ আগষ্ট ) সকাল নয় টা থেকে হঠাৎ ভাঙ্গন শুরু হয়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুটের দৌলতদিয়ার ৪ নম্বর ফেরি ঘাট এলাকায়।

ফেরিঘাট সংলগ্ন সিদ্দিক কাজীর পাড়া জামে মসজিদসহ ৫ বসতবাড়ী নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। এছাড়াও সরিয়ে নিে হয়েছে আরো অন্তত ২০ টি বসতবাড়ি। এখনও ভাঙ্গন আতঙ্কে রয়েছে ফেরি দৌলতদিয়া ঘাট, শতশত বসতবাড়ীসহ নানা স্থাপনা।

মঙ্গলবার ( ৩১ আগষ্ট ) সকাল ১০ টার সময় দৌলতদিয়া ৪ নম্বর ফেরি ঘাটে গিয়ে দেখাযায়, মুহুর্তেই বিলিন হচ্ছে বসত বাড়ি। একের পর বড় বড় মাটির চাপ ভেঙ্গে পরছে।

এছাড়াও সিদ্দিক কাজীর পাড়া জামে মসজিদের তিন ভাগের দুই গিলে খেয়েছে পদ্মায়। কোনক্রমে অবশিস্ট অংশটুকু ঝুলে আছে। সেটুকু বাচানোর আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছে বিআইডব্লিটিএ কর্তৃপক্ষ। আর আশে পাশের বাসিন্দারা তাদের শেষ সম্বল সরাতে ব্যস্ততা মধ্যে সময় পার করছে।

মুহুর্তেই নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে অন্তত ১০০ মিটার এলাকা।

এ সময় দৌলতদিয়া ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হামজা মোল্লা বলেন, সোমবার ভোর থেকে আস্তে আস্তে ভাঙ্গন শুরু হলেও ভংঙ্কর রুপ নিয়েছে সকাল নয়টা থেকে।  মুহুর্তেই পাচটি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। এখনও ভাঙ্গন ঝুকিতে রয়েছে  লঞ্চঘাট এবং ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ফেরি ঘাটসহ দুই শতাধিক বাড়ী ।

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মন্ডল বলেন,  ভাঙ্গন এলাকার মানুষের আহাজারি দেখে নীজেকে ধরে রাখাই কষ্ট। আমরাও নিরুপায়। বার বার কর্তৃপক্ষকে বলার পরও কেন জোরালো পদক্ষেপ হচ্ছে না বুঝতে পারছিনা। এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া আর কাজ হবে না। অতি দ্রুত ব্যাবস্তা নেওয়া দাবী করেন তিনি।

বিআইডব্লিউটিএ আরিচা সেক্টরের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ মকবুল হোসেন বলেন, ভাঙ্গন রোধে জরুরী ভিত্তিতে ৩০ জন শ্রমিক দ্বারা জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে। এছাড়াও এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম, গোয়ালন্দ উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা মুন্সি, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুল হক খান মামুন, দৌলতদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রহমান মন্ডলসহ অনেকে।

এ সময় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, আগামী শুকনো মৌসুমী দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় স্থায়ী কাজ করা হবে যা একনেকে পাশ হয়ে আছে। তারপরও ঘাট এলাকার ভাঙ্গন রোধে বিআইডব্লিউটিএ  বালুর বস্তা ফেলার কাজ করছেন। এবং কাজের গতি বাড়াতে বিআইডব্লিউটিএ  উপসহকারী প্রকৌশলী মকবুল হোসেনকে নির্দেশ দেন তিনি।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ন এই নৌরুটটি যাতে সচল থাকে ভাঙ্গনরোধে যাতে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয় সেজন্য মন্ত্রনালয়ের পত্র প্রেরন করা হবে। সেই সাথে ক্ষতিগ্রস্থদের শুকনো খাবার ও তালিকা করে টিন প্রদান করা হবে।