ঢাকা ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে হাতিয়ে নেন কোটি টাকা

স্টাফ রিপোটার :মোহাম্মদ লোকমান হোসেন। পড়াশোনা করেছেন এসএসসি পর্যন্ত। থাকেন গাজীপুর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করেন রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর আমানত আউটসোর্সিং সার্ভিস অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স কোম্পানির অফিসে।

পড়াশোনা আর নিজের সক্ষমতায় পিছিয়ে থাকলেও সেখানে যাওয়ার পর স্বপ্নটা বড় হতে থাকে তার।এই অফিস থেকে তাকে সহজেই সরকারি অফিসে ‘অফিস সহকারী’ পদে চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু চাকরি পেতে হলে তাকে কয়েকটি ধাপ পার হতে হবে।

প্রথমে এক হাজার টাকা দিয়ে নিজের নাম এন্ট্রি করাতে হবে। এই ধাপ শেষে অফিস থেকে ফোন করে লোকমানকে জানানো হয়, তার চাকরি রেডি। কিন্তু চাকরি পেতে হলে তাকে ৩ লাখ টাকা জমা দিতে হবে। এরপরই শুরু হয় লোকমানের স্বপ্ন ছোঁয়ার পালা।

কিন্তু ৩ লাখ টাকা দেয়া যে লোকমানের সামর্থ্যের বাইরে। তবুও টাকা সংগ্রহে নামেন স্বপ্নকে ছুতে। স্বজনদের কাছ থেকে ধার-দেনা করে ৩ লাখ টাকা তুলে দেন প্রতারক চক্রের প্রধান জহিরুল ইসলামের হাতে। তারপরেই শুরু হয় প্রতারণা।

চাকরির খোঁজে বারবার অফিসে যান লোকমান। কিন্তু চাকরি আর জহিরুল, কারোরই দেখা পান না। চার মাস ঘোরার পর লোকমান বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। এরপরই মামলা করেন কাফরুল থানায়।

এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমানত আউটসোর্সিং সার্ভিস অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স কোম্পানির অফিসে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে সিআইডি।

গ্রেফতাররা হলেন- প্রতারক চক্রের প্রধান ও আমানত আউটসোর্সিং সার্ভিস অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম, রিলেশনশিপ অফিসার সজিব এবং জহিরুলের একান্ত সহকারী রাকিবুল বারী।

গ্রেফতারের পর লোকমানের মতো আরও কয়েকজন তরুণের দেখা মেলে। যাদের সবার বয়স ১৬ থেকে ১৭ বছর। তাদের সবাই মিরপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। তারা সবাই জহিরুলের অফিসে চাকরির খোঁজে এসে প্রতারিত হয়েছেন। ৪ হাজার থেকে ৩ লাখ পর্যন্ত টাকা দিয়ে প্রতারিত হন।

বুধবার (২ জুন) দুপুরে এই প্রতারক চক্রের বিষয়ে মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানেই এসব তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক।

তিনি বলেন, এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ে, ব্যাংক, বিমান, কাস্টমস, পদ্মা সেতু, জাহাজ কোম্পানিসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

শেখ ওমর ফারুক আরও বলেন, এ চক্রটি মিরপুরের শাহ আলী প্লাজার নবম তলায় চাকচিক্যময় অফিস সাজিয়ে চাকরির নামে প্রতারণা করে আসছিল। গ্রেফতারের পর তাদের কাছ থেকে চাকরি প্রার্থীদের ছবিসহ বিভিন্ন কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়।

 

ট্যাগস

চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে হাতিয়ে নেন কোটি টাকা

আপডেট সময় ০৫:২৫:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুন ২০২১

স্টাফ রিপোটার :মোহাম্মদ লোকমান হোসেন। পড়াশোনা করেছেন এসএসসি পর্যন্ত। থাকেন গাজীপুর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করেন রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর আমানত আউটসোর্সিং সার্ভিস অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স কোম্পানির অফিসে।

পড়াশোনা আর নিজের সক্ষমতায় পিছিয়ে থাকলেও সেখানে যাওয়ার পর স্বপ্নটা বড় হতে থাকে তার।এই অফিস থেকে তাকে সহজেই সরকারি অফিসে ‘অফিস সহকারী’ পদে চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু চাকরি পেতে হলে তাকে কয়েকটি ধাপ পার হতে হবে।

প্রথমে এক হাজার টাকা দিয়ে নিজের নাম এন্ট্রি করাতে হবে। এই ধাপ শেষে অফিস থেকে ফোন করে লোকমানকে জানানো হয়, তার চাকরি রেডি। কিন্তু চাকরি পেতে হলে তাকে ৩ লাখ টাকা জমা দিতে হবে। এরপরই শুরু হয় লোকমানের স্বপ্ন ছোঁয়ার পালা।

কিন্তু ৩ লাখ টাকা দেয়া যে লোকমানের সামর্থ্যের বাইরে। তবুও টাকা সংগ্রহে নামেন স্বপ্নকে ছুতে। স্বজনদের কাছ থেকে ধার-দেনা করে ৩ লাখ টাকা তুলে দেন প্রতারক চক্রের প্রধান জহিরুল ইসলামের হাতে। তারপরেই শুরু হয় প্রতারণা।

চাকরির খোঁজে বারবার অফিসে যান লোকমান। কিন্তু চাকরি আর জহিরুল, কারোরই দেখা পান না। চার মাস ঘোরার পর লোকমান বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। এরপরই মামলা করেন কাফরুল থানায়।

এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমানত আউটসোর্সিং সার্ভিস অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স কোম্পানির অফিসে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে সিআইডি।

গ্রেফতাররা হলেন- প্রতারক চক্রের প্রধান ও আমানত আউটসোর্সিং সার্ভিস অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম, রিলেশনশিপ অফিসার সজিব এবং জহিরুলের একান্ত সহকারী রাকিবুল বারী।

গ্রেফতারের পর লোকমানের মতো আরও কয়েকজন তরুণের দেখা মেলে। যাদের সবার বয়স ১৬ থেকে ১৭ বছর। তাদের সবাই মিরপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। তারা সবাই জহিরুলের অফিসে চাকরির খোঁজে এসে প্রতারিত হয়েছেন। ৪ হাজার থেকে ৩ লাখ পর্যন্ত টাকা দিয়ে প্রতারিত হন।

বুধবার (২ জুন) দুপুরে এই প্রতারক চক্রের বিষয়ে মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানেই এসব তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক।

তিনি বলেন, এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ে, ব্যাংক, বিমান, কাস্টমস, পদ্মা সেতু, জাহাজ কোম্পানিসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

শেখ ওমর ফারুক আরও বলেন, এ চক্রটি মিরপুরের শাহ আলী প্লাজার নবম তলায় চাকচিক্যময় অফিস সাজিয়ে চাকরির নামে প্রতারণা করে আসছিল। গ্রেফতারের পর তাদের কাছ থেকে চাকরি প্রার্থীদের ছবিসহ বিভিন্ন কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়।