ঢাকা ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুইজারল্যান্ডে নিষিদ্ধ হলো বোরকা ও নিকাব

ছবিঃ সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক ডেক্সঃ   অবশেষে পুরো মুখ ঢেকে বোরকা ও নিকাব নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার নিজেদের মতামত জানিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে বোরকা ও নিকাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে যাচ্ছে সুইজারল্যান্ড

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অনুষ্ঠিত গণভোটে সরকারি হিসেব মতে এ নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ৫১.২ ভাগ ভোট এবং বিপক্ষে ৪৮.৮ ভাগ ভোট পড়ে। নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ১৪ লাখ ২৬ হাজার ৯৯২ জন অংশগ্রহণ করেন এবং বিপক্ষে অংশগ্রহণ করেন ১৩ লাখ ৫৯ হাজার ৬২১ জন।

গতকাল রবিবার (৭ মার্চ) দীর্ঘদিনের বিতর্কিত নিষেধাজ্ঞায় গণভোট সম্পন্ন হয়। এর ফলে মুসলিম নারীরা দেশটিতে প্রকাশ্যে বোরকা বা নিকাব পরিধান করতে পারবে না। 

সুইস ডানপন্থী দল সুইস পিপলস পার্টি (এসভিপি) পুরো মুখ ঢাকায় নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব উত্থাপন করে ‘চরমপন্থা থামাও’ বলে দেশব্যাপী প্রচারণা চালায়। অবশ্য নারীরা কী পরবে তা নির্ধারণ করা সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না বলে এ নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে অবস্থানের কথা জানিয়েছে সুইস সরকার।

দেশটির মুসলিম সংগঠন দ্য সেন্ট্রাল কাউন্সিল অব মুসলিম দিনটিকে ‘মুসলিমদের জন্য কালো দিবস’ বলে জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে সুইস মুসলিম দলটি জানায়, আজকের রায় পুরোনো ক্ষতকে উম্মোচন করে। বিশেষত আইনি বৈষম্যকে আরো সম্প্রসারিত করে এবং সংখ্যালঘু মুসলিমদের বর্জনের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

সুইস মুসলিম সংগঠনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা আইনের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করার কথা জানানো হয় এবং জরিমানা করা নারীদের সহায়তায় একটি তহবিল সংগ্রহের প্রতিশ্রুতি  দেওয়া হয়।

সুইজারল্যান্ডের দ্য ফেডারেশন অব ইসলামিক অর্গানাইজেশন এক বিবৃতিতে নিষেধাজ্ঞা আইনের নিন্দা করে বলে, ‘সংবিধানে পোষাক কোড নির্ধারণ করা নারীর মুক্তি সংগ্রামের মধ্যে পড়ে না। বরং তা একধাপ পিছিয়ে পড়ার প্রমাণ বহন করে। এর মাধ্যমে সুইসজারল্যান্ডের শান্তি, সম্প্রীতি ও উদারতার ভাবনা মুখ থুবড়ে পড়বে।’

জার্মানির লুসার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা মতে সুইজারল্যান্ডের শতকরা একজনও বোরকা পরিধান করেন না এবং আনুমানিক ৩০ জন নারী নিকাব পরিধান করেন। সুইজারল্যান্ডে ৮.৬ মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে মাত্র ৫ ভাগ মুসলিম বসবাস করে। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশ তুর্কি, বসোনিয়া ও কসোভোর বংশোদ্ভূত।

অবশ্য ধর্মীয় উপাসনালয় এবং নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত কারণে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ করোনা থেকে রক্ষায় মাস্ক পরতে কোনও সমস্যা নেই। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডসসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।

সূত্র : বিবিসি 

ট্যাগস

সর্বাধিক পঠিত

সুইজারল্যান্ডে নিষিদ্ধ হলো বোরকা ও নিকাব

আপডেট সময় ১২:৫৫:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ মার্চ ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেক্সঃ   অবশেষে পুরো মুখ ঢেকে বোরকা ও নিকাব নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার নিজেদের মতামত জানিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে বোরকা ও নিকাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে যাচ্ছে সুইজারল্যান্ড

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অনুষ্ঠিত গণভোটে সরকারি হিসেব মতে এ নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ৫১.২ ভাগ ভোট এবং বিপক্ষে ৪৮.৮ ভাগ ভোট পড়ে। নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ১৪ লাখ ২৬ হাজার ৯৯২ জন অংশগ্রহণ করেন এবং বিপক্ষে অংশগ্রহণ করেন ১৩ লাখ ৫৯ হাজার ৬২১ জন।

গতকাল রবিবার (৭ মার্চ) দীর্ঘদিনের বিতর্কিত নিষেধাজ্ঞায় গণভোট সম্পন্ন হয়। এর ফলে মুসলিম নারীরা দেশটিতে প্রকাশ্যে বোরকা বা নিকাব পরিধান করতে পারবে না। 

সুইস ডানপন্থী দল সুইস পিপলস পার্টি (এসভিপি) পুরো মুখ ঢাকায় নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব উত্থাপন করে ‘চরমপন্থা থামাও’ বলে দেশব্যাপী প্রচারণা চালায়। অবশ্য নারীরা কী পরবে তা নির্ধারণ করা সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না বলে এ নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে অবস্থানের কথা জানিয়েছে সুইস সরকার।

দেশটির মুসলিম সংগঠন দ্য সেন্ট্রাল কাউন্সিল অব মুসলিম দিনটিকে ‘মুসলিমদের জন্য কালো দিবস’ বলে জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে সুইস মুসলিম দলটি জানায়, আজকের রায় পুরোনো ক্ষতকে উম্মোচন করে। বিশেষত আইনি বৈষম্যকে আরো সম্প্রসারিত করে এবং সংখ্যালঘু মুসলিমদের বর্জনের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

সুইস মুসলিম সংগঠনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা আইনের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করার কথা জানানো হয় এবং জরিমানা করা নারীদের সহায়তায় একটি তহবিল সংগ্রহের প্রতিশ্রুতি  দেওয়া হয়।

সুইজারল্যান্ডের দ্য ফেডারেশন অব ইসলামিক অর্গানাইজেশন এক বিবৃতিতে নিষেধাজ্ঞা আইনের নিন্দা করে বলে, ‘সংবিধানে পোষাক কোড নির্ধারণ করা নারীর মুক্তি সংগ্রামের মধ্যে পড়ে না। বরং তা একধাপ পিছিয়ে পড়ার প্রমাণ বহন করে। এর মাধ্যমে সুইসজারল্যান্ডের শান্তি, সম্প্রীতি ও উদারতার ভাবনা মুখ থুবড়ে পড়বে।’

জার্মানির লুসার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা মতে সুইজারল্যান্ডের শতকরা একজনও বোরকা পরিধান করেন না এবং আনুমানিক ৩০ জন নারী নিকাব পরিধান করেন। সুইজারল্যান্ডে ৮.৬ মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে মাত্র ৫ ভাগ মুসলিম বসবাস করে। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশ তুর্কি, বসোনিয়া ও কসোভোর বংশোদ্ভূত।

অবশ্য ধর্মীয় উপাসনালয় এবং নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত কারণে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ করোনা থেকে রক্ষায় মাস্ক পরতে কোনও সমস্যা নেই। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডসসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।

সূত্র : বিবিসি