ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছেলেদের ফ্ল্যাট থাকা সত্ত্বেও জুটলোনা বাবার আশ্রয় ফুটপাতে করেন বেচাকেনা

স্টাফ রিপোর্টার নওগাঁ : পৃথিবীতে নিঃস্বার্থ ও বিশুদ্ধ ভালোবাসা কে দিয়ে থাকেন উত্তর হয়তো এক সাথে সবাই বলবেন বাবা-মা। আমাদের বিপদাপদ, অসুখে-বিসুখে ছায়ারমতো কাছে থাকেন তারা। নিজে খেয়ে না খেয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তারা সন্তানের ভরণপোষণ করে থাকেন।

গর্ভধারিনী মা দীর্ঘ ১০ মাস ১০ দিন গর্ভে ধারণ করে থাকেন। এসব বিষয়াদি একটু চিন্তা করলেই আমরা বুঝতে পারবো বাবা-মা কি জিনিস। সন্তানদের ভরণপোষণসহ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নেমে পড়েন আয় উপার্জনের কাজে। হাঁড়ভাঙা খাটুনি খেটে পূরণ করেন সন্তানদের শত আবদার।

কিন্তু সন্তাদের কাছে সেই পিতা-মাতার স্থান যদি না হয় উপযুক্ত, তাহলে এর চেয়ে কঠিন নির্মমতা আর কি হতে পারে। ঠিক এমনই এক অসহায় পিতা নওগাঁর ফুটপাতের দোকানি মো. সামছুল আলম ( ৭৫)। পেটের তাগিতে অসুস্থ শরীর নিয়ে নওগাঁর আদালত প্রাঙ্গনে রাস্তার ফুটপাতে ছোট্ট দোকান দিয়ে কোন রকমে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

সারাদিন বিক্রিত পণ্য থেকে যে কটা টাকা লাভ হয় তা দিয়ে ওষুধ ও সাংসারিক খচর যোগাতে হিমসিম খেতে হয়। যখন খুব অসুস্থবোধ করেন তখন রাস্তায় বসে পন্যগুলো বিক্রি করতে না পারলে সেদিন চুলায় আগুন জ্বলে সেই ৯০দশকের কথা, চার সন্তানের জনক সামছুল আলম নিজ জেলা মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুর থেকে পরিবারসহ নওগাঁতে এসে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন।

সে সময় নওগাঁতে কাপড়ের ব্যবসা তেমন প্রসিদ্ধ ছিলনা। পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে লাভের আশায় নওগাঁ শহরের কাপড়পট্টিতে দোকান ঘরের পজিশন কিনে নিয়ে শুরু করেন কাপড়ের ব্যবসা। এর পর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি সামছুল আলম আলমের।

ব্যবসার লাভের টাকা নিয়ে শহরের পান-নওগাঁতে জায়গা কিনে বাড়ি করেন তিনি। এর পর ঢাকা শহরে দুই ছেলেকে ব্যবসায় দাঁড় করিয়ে দেন। ব্যবসায় লাভের অংশ দিয়ে ফ্ল্যাট কিনেন দুই ছেলে। নওগাঁতে দুই সন্তানও শুরু করেন কাপড়ের ব্যবসা। ভালোই চলছিল সামছুল আলম এর ব্যবসা ও পরিবার নিয়ে সংসার জীবন।

এর পর ২০০৪সালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দুইজন কর্মচারী তার কয়েক লক্ষ টাকা আত্নসাৎত করে পালিয়ে যায়। অন্যদিকে সামছুল আলমের প্রস্রাবদারের সমস্যাজনিত কারণে দুটি অপারেশন করতে হয়। যার ফলে দোকানঘর ও বাকি কাপড়গুলো বিক্রি করে দিতে হয়। তার পর থেকে ব্যবসা ও সংসার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার।

ট্যাগস

ছেলেদের ফ্ল্যাট থাকা সত্ত্বেও জুটলোনা বাবার আশ্রয় ফুটপাতে করেন বেচাকেনা

আপডেট সময় ১২:১৩:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার নওগাঁ : পৃথিবীতে নিঃস্বার্থ ও বিশুদ্ধ ভালোবাসা কে দিয়ে থাকেন উত্তর হয়তো এক সাথে সবাই বলবেন বাবা-মা। আমাদের বিপদাপদ, অসুখে-বিসুখে ছায়ারমতো কাছে থাকেন তারা। নিজে খেয়ে না খেয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তারা সন্তানের ভরণপোষণ করে থাকেন।

গর্ভধারিনী মা দীর্ঘ ১০ মাস ১০ দিন গর্ভে ধারণ করে থাকেন। এসব বিষয়াদি একটু চিন্তা করলেই আমরা বুঝতে পারবো বাবা-মা কি জিনিস। সন্তানদের ভরণপোষণসহ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নেমে পড়েন আয় উপার্জনের কাজে। হাঁড়ভাঙা খাটুনি খেটে পূরণ করেন সন্তানদের শত আবদার।

কিন্তু সন্তাদের কাছে সেই পিতা-মাতার স্থান যদি না হয় উপযুক্ত, তাহলে এর চেয়ে কঠিন নির্মমতা আর কি হতে পারে। ঠিক এমনই এক অসহায় পিতা নওগাঁর ফুটপাতের দোকানি মো. সামছুল আলম ( ৭৫)। পেটের তাগিতে অসুস্থ শরীর নিয়ে নওগাঁর আদালত প্রাঙ্গনে রাস্তার ফুটপাতে ছোট্ট দোকান দিয়ে কোন রকমে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

সারাদিন বিক্রিত পণ্য থেকে যে কটা টাকা লাভ হয় তা দিয়ে ওষুধ ও সাংসারিক খচর যোগাতে হিমসিম খেতে হয়। যখন খুব অসুস্থবোধ করেন তখন রাস্তায় বসে পন্যগুলো বিক্রি করতে না পারলে সেদিন চুলায় আগুন জ্বলে সেই ৯০দশকের কথা, চার সন্তানের জনক সামছুল আলম নিজ জেলা মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুর থেকে পরিবারসহ নওগাঁতে এসে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন।

সে সময় নওগাঁতে কাপড়ের ব্যবসা তেমন প্রসিদ্ধ ছিলনা। পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে লাভের আশায় নওগাঁ শহরের কাপড়পট্টিতে দোকান ঘরের পজিশন কিনে নিয়ে শুরু করেন কাপড়ের ব্যবসা। এর পর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি সামছুল আলম আলমের।

ব্যবসার লাভের টাকা নিয়ে শহরের পান-নওগাঁতে জায়গা কিনে বাড়ি করেন তিনি। এর পর ঢাকা শহরে দুই ছেলেকে ব্যবসায় দাঁড় করিয়ে দেন। ব্যবসায় লাভের অংশ দিয়ে ফ্ল্যাট কিনেন দুই ছেলে। নওগাঁতে দুই সন্তানও শুরু করেন কাপড়ের ব্যবসা। ভালোই চলছিল সামছুল আলম এর ব্যবসা ও পরিবার নিয়ে সংসার জীবন।

এর পর ২০০৪সালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দুইজন কর্মচারী তার কয়েক লক্ষ টাকা আত্নসাৎত করে পালিয়ে যায়। অন্যদিকে সামছুল আলমের প্রস্রাবদারের সমস্যাজনিত কারণে দুটি অপারেশন করতে হয়। যার ফলে দোকানঘর ও বাকি কাপড়গুলো বিক্রি করে দিতে হয়। তার পর থেকে ব্যবসা ও সংসার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার।