আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হংকংয়ের আইনসভা থেকে পদত্যাগ করলেন গণতন্ত্রপন্থি সকল সদস্য। অভিযোগ, বিনা নোটিস এবং আদালতের বিচার ছাড়াই হংকংয়ের সিটি কাউন্সিল চারজন গণতন্ত্রপন্থি সদস্যকে বহিষ্কার করেছিল।
মূলত তারই প্রতিবাদে বাকি ১৫ গণতন্ত্রপন্থি সদস্যও পদত্যাগ করেছেন। এর ফলে হংকংয়ের আইনসভায় আর কোনো বিরোধীপক্ষ থাকল না। পদত্যাগকারীদের বক্তব্য, এরপর আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে।
সম্প্রতি বেইজিং হংকংয়ের জন্য একটি নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। যে আইনের বলে হংকংয়ের সিটি কাউন্সিল কোনো রকম বিচার ছাড়াই আইনসভার সদস্যদের বহিষ্কার করতে পারে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ওই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে বলে দাবি চীনের।
বুধবার (১১ নভেম্বর) সেই আইনের বলেই চারজন গণতন্ত্রপন্থি সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়। এ সময় তাদের আদালতে যাওয়ারও সুযোগ দেওয়া হয়নি। এরই প্রতিবাদে গণতন্ত্রপন্থি আরও ১৫ জন আইনসভার সদস্য দ্রুত পদত্যাগ করেন।
তাদের মধ্যে একজন হউ চি ওয়াই। গণতন্ত্রপন্থি সদস্যদের কনভেনার তিনি। সংবাদমাধ্যমকে হউ চি ওয়াই জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) প্রশাসনের হাতে পদত্যাগপত্র ধরিয়ে দেওয়া হবে। এরপর আন্দোলন আরও জোরদার হবে।
মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) বিক্ষোভকারীদের আন্দোলনের মুখে সব ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে হংকং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী কেরি লাম বলেছেন, আন্দোলনকারীদের কারণে এমন অবস্থা তৈরি হচ্ছে, যেখান থেকে ফিরে আসা কঠিন হয়ে যাবে।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুরো শহর জুড়ে আতঙ্ক আর সহিংসতা ছড়িয়ে দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এবার প্রত্যর্পণ বিল শুধু নয়, কেরি লামের পদত্যাগের দাবিতে ফুঁসছে গোটা হংকং।
বিশেষ নিরাপত্তা আইন জারি হওয়ার পর থেকেই হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থিদের একের পর এক গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ আন্দোলনও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্র নিয়ে মুখ খুললেই পুলিশ তুলে নিয়ে যাচ্ছে। যে চারজন সদস্যকে বুধবার বরখাস্ত করা হয়, তাদের বিরুদ্ধেও জাতীয় নিরাপত্তার মামলা হয়েছে।
গণতন্ত্রপন্থিদের বক্তব্য, একই দেশে দুই আইন চালানোর চেষ্টা করছে বেইজিং। হংকংয়ের মানুষদের উপর অত্যাচার চালানোর জন্য একের পর এক অগণতান্ত্রিক আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।
আইনসভা বিরোধীশূন্য হলে মানুষের উপর নির্যাতন আরও বাড়বে না? পদত্যাগকারী সদস্যদের এমনই প্রশ্ন করেছিল সংবাদমাধ্যম।
উত্তরে তারা জানিয়েছেন, আইনসভায় গণতন্ত্রপন্থিদের কণ্ঠরোধ করে রাখা হয়েছিল। সে কারণেই তারা পদত্যাগ করেছেন। আইনসভার বাইরে থেকেই এ বার আরও কঠিন এবং দৃঢ় আন্দোলন করা হবে।
সূত্র : এপি
নিউজ ভিশন টুডে ডেস্ক : 











