মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর মহাদেবপুরে আরও একটি ভূয়া এতিমখানা দেখিয়ে এতিমদের নামে সরকারি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতিমখানাটির নাম ‘খাজুরা বেসরকারী শিশু সদন’।
বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার খাজুর ইউনিয়ন সদরে গিয়ে কোথাও ওই নামে কোন প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। খাজুর ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন জানান, ‘খাজুর বেসরকারী শিশু সদন’ নামে কোন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারেননি। প্রতিবেদককে সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন।
খাজুর বাজারে অবস্থিত একটি মাদ্রাসায় শিশু সদনের সাইনবোর্ড রয়েছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মাদ্রাসার ফটকে লেখা রয়েছে ‘খাজুর হানিফ উলুম হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও শিশু সদন’। মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে গিয়ে মাটির ঘরের দেয়ালে শুধুমাত্র মাদ্রাসার নাম লেখা রয়েছে, ‘খাজুর হানিফ উলুম হাফেজিয়া মাদ্রাসা, স্থাপিত ১৩৯০ বাংলা’। ওই ঘরের ভেতর হেফজ বিভাগে কোরআন পড়ছিল মোট ১১ জন শিশু। তাদের কেউ নিয়ামতপুর উপজেলার ধরমপুর থেকে, কেউ পোরশা উপজেলার মশিদপুর থেকে আবার কেউ বগুড়ার দুপচাঁচিয়া থেকে এসে এখানে হেফজ পড়ছে। কিন্তু তাদের কেউই এতিম নয় বলে জানায়।
ঘরের ভেতর শুয়ে ছিলেন সেখানকার মোহতামিম মৌলভী রোস্তম আলী। তিনি জানালেন, এখানে কোন এতিম নেই। এতিমখানা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাবেক এলাকা পরিচালক রেজাউল ইসলাম এতিমখানার তত্ত¡াবধান করেন বলেও জানান। মোবাইলফোনে রেজাউল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি কথিত ‘খাজুর বেসরকারী শিশু সদন’ পরিচালনা করেন বলে স্বীকার করেন। কিন্তু এর বাস্তব অস্তিত্ব সম্পর্কে তিনি কিছু জানাতে ব্যর্থ হন।
https://www.facebook.com/livecricketrb/videos/1032408850554467
উপজেলা সমাজসেবা কর্তকর্তা জাহাঙ্গীর আরিফ প্রাংয়ের দেয়া তথ্যমতে গত অর্থবছরে খাজুর বেসরকারী শিশু সদনে ৯ জন এতিম রয়েছে বলে দেখানো হয়। এদের প্রত্যেকের নামে ক্যাপিটেশন গ্রান্ট (সরকারি অনুদান) বাবদ প্রতিমাসে ২ হাজার টাকা হিসাবে মোট ২ লাখ ১৬ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। দীর্ঘদিন পূর্বে রেজিষ্ট্রেশন নেয়া এই এতিমখানার নামে প্রতি ৬ মাস পর পর বরাদ্দ দেয়া হয় বলেও তিনি জানান।
সরকারি তালিকায় সভাপতির সাথে যোগাযোগের ফোন নম্বরের স্থলে যে নম্বর দেয়া হয়েছে তা মহাদেবপুর বাজারের একজন টেইলার্স মালিকের নম্বর।
সরকারি তালিকায় কেন এই নম্বর ব্যবহার করা হলো তার কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এলাকার লোকজন এই ভূয়া প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে এতিমদের নামে বরাদ্দ করা লক্ষ লক্ষ টাকা উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের সমাসপুরে অনুরুপ একটি ভূয়া এতিমখানা দেখিয়ে ৬ জন এতিমের নামে প্রতিবছর সরকারি ভাতা বরাদ্দের অভিযোগ পাওয়া যায়।
নিউজ ভিশন টুডে ডেস্ক : 












