নওগাঁর সাপাহার উপজেলার জয়দেবপুর ইসলামী দাখিল মাদরাসার মালিকানাধীন পুকুর দখলকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
এতে মাদরাসার সুপারিটেনডেন্টসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত ৫ এপ্রিল সকালে উপজেলার জয়দেবপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় মাদরাসার সুপারিটেনডেন্ট মোঃ আফতাব উদ্দীন বাদী হয়ে স্থানীয় ২১ জন নামীয় এবং অজ্ঞাত আরও ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে সাপাহার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামীরা হলেন: মোঃ শাকিল (২৭), মোঃ শামিম (২৪), মোঃ মাইজুল হক (৫০), মোঃ ফারুক (৪৫), মোঃ ওয়ালিদ হাসান (২২), মোঃ এহসান আলী (৬), মোঃ আঃ সালাম (২৩), মোঃ এনামুল হক (৪৭), মোঃ নাইমুল হক (৪৪), মোঃ কারিম (২৮), মোঃ আঃ কাফি (৪২), মোঃ মাইনুর (৩৫), মোঃ রাশিদুল ইসলাম (২২), মোঃ শাহিন আলম (২৬), মোঃ আক্তারুল (২৪), মোঃ রেজওয়ান (২৮), মোঃ ইমরান (২৩), মোঃ আঃ রহমান (২০), মোঃ তোজাম্মেল হক (৫০), মোঃ আব্দুল্লাহ (২১) এবং মোঃ মনির আলী (৩২)। তারা সকলেই জয়দেবপুর এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জয়দেবপুর মৌজায় মাদরাসার ক্রয়কৃত পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি ভোগদখল করে আসছে। ঘটনার দিন সকালে মাদরাসার লোকজন পুকুর পরিষ্কার করতে গেলে বিবাদীরা লাঠি, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা মাদরাসার সুপার মোঃ সাইফুদ্দীনকে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এছাড়া তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসা মাদরাসার কর্মচারী সালিকুর রহমান এবং স্থানীয় আজিজ ও আনোয়ারের ওপরও নির্মম হামলা চালানো হয়।
আহতদের উদ্ধার করে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাদী অভিযোগ করেন, হামলার পর বিবাদীরা মাদরাসার অফিস কক্ষে ঢুকে একটি ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও ট্যাবসহ প্রায় ৫ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাপাহার থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, “আমরা অভিযোগটি হাতে পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আমলে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দোষীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
বর্তমানে ওই এলাকায় এ ঘটনা নিয়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

স্টাফ রিপোর্টার নওগাঁ: 










